১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নববর্ষে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই, নিরাপত্তা জোরদার: ডিএমপি রদকৃত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার কৃষক কার্ডে সময়োপযোগী নতুন সেবা যোগ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সফল হলে হাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন: প্রথম দফায় ২২,০৬৫ কৃষক পাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’ র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের কাছে পুনরায় দাবি জানিয়েছে ঢাকা বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী র‍্যাব শুরু করেছে চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ

পরমাণু ইস্যুতে ইরান সমঝোতায় এগোতে চাননি: জে ডি ভ্যান্স

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা ফলহীন করে শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টা চলে এই ম্যারাথন বৈঠক; তবে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা না হওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স কঠোর মন্তব্য করে বলেছেন, ইরান বাস্তবে তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ কোনো চুক্তিতে যেতে আগ্রহী ছিল না।

রোববার ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, আলোচনার সময় ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার চেয়েছিল — যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটবে না এবং এমন কোনো উপকরণ বা প্রযুক্তি অনুসন্ধান করবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। এসব মৌলিক প্রতিশ্রুতি ইরানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভ্যান্স আরো বলেন, তেহরান আলোচনায় স্বল্পমেয়াদি সুবিধা ভেবে আচরণ করেছে; দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আস্থিভিত্তিক অঙ্গীকারে তাদের ইচ্ছাশক্তি অনুপস্থিত ছিল। তার ভাষায়, এই আস্থাহীনতাই আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ।

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে টানা দ্বন্দ্ব দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রয়ে গেছে। শেষ বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ৬ ফেব্রুয়ারি; ২১ দিনব্যাপী সেই সংলাপ কোনো চূড়ান্ত সমাধি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়। পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করে এবং ওয়াশিংটনকে সমন্বয় করে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ চালায় — এই অ্যাকশনগুলোregional উত্তেজনাকে তীব্র করে তোলে।

প্রায় এক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে দুই পক্ষ ৭ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। ওই বিরতির সময়ই ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পুনরায় সংলাপে বসে দুপক্ষের প্রতিনিধি দল। কিন্তু গত ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে ভ্যান্সের হতাশাজনক বিবৃতি দেখাচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার যে গভীর সংকট রয়েছে তা মিটেনি।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদের সংলাপের এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আবারও বৃহৎ ঝুঁকির সামনে ঢেলে দিতে পারে। ইরানের অনড় অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নীতি উভয়ই সংঘাত উসকে দিচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও স্থায়ী শান্তির কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না; পুরো বিশ্ব এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে উদ্বেগের সঙ্গে তাকিয়ে আছে।

ভ্যান্স ব্রিফিংয়ের শেষভাগে ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করলেও, তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমান বাস্তবতা যুদ্ধের শঙ্কাকে বারবার জীবন্ত করে তুলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রদকৃত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়ন করবে সরকার

পরমাণু ইস্যুতে ইরান সমঝোতায় এগোতে চাননি: জে ডি ভ্যান্স

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা ফলহীন করে শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টা চলে এই ম্যারাথন বৈঠক; তবে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা না হওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স কঠোর মন্তব্য করে বলেছেন, ইরান বাস্তবে তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ কোনো চুক্তিতে যেতে আগ্রহী ছিল না।

রোববার ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, আলোচনার সময় ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার চেয়েছিল — যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটবে না এবং এমন কোনো উপকরণ বা প্রযুক্তি অনুসন্ধান করবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। এসব মৌলিক প্রতিশ্রুতি ইরানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভ্যান্স আরো বলেন, তেহরান আলোচনায় স্বল্পমেয়াদি সুবিধা ভেবে আচরণ করেছে; দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আস্থিভিত্তিক অঙ্গীকারে তাদের ইচ্ছাশক্তি অনুপস্থিত ছিল। তার ভাষায়, এই আস্থাহীনতাই আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ।

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে টানা দ্বন্দ্ব দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রয়ে গেছে। শেষ বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ৬ ফেব্রুয়ারি; ২১ দিনব্যাপী সেই সংলাপ কোনো চূড়ান্ত সমাধি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়। পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করে এবং ওয়াশিংটনকে সমন্বয় করে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ চালায় — এই অ্যাকশনগুলোregional উত্তেজনাকে তীব্র করে তোলে।

প্রায় এক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে দুই পক্ষ ৭ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। ওই বিরতির সময়ই ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পুনরায় সংলাপে বসে দুপক্ষের প্রতিনিধি দল। কিন্তু গত ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে ভ্যান্সের হতাশাজনক বিবৃতি দেখাচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার যে গভীর সংকট রয়েছে তা মিটেনি।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদের সংলাপের এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আবারও বৃহৎ ঝুঁকির সামনে ঢেলে দিতে পারে। ইরানের অনড় অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নীতি উভয়ই সংঘাত উসকে দিচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও স্থায়ী শান্তির কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না; পুরো বিশ্ব এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে উদ্বেগের সঙ্গে তাকিয়ে আছে।

ভ্যান্স ব্রিফিংয়ের শেষভাগে ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করলেও, তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমান বাস্তবতা যুদ্ধের শঙ্কাকে বারবার জীবন্ত করে তুলছে।