০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের কাছে পুনরায় দাবি জানিয়েছে ঢাকা বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী র‍্যাব শুরু করেছে চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মুছে দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী বুড়িগঙ্গার সঙ্গে জিয়া সরণি খাল সংযোগে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেশের মাটিতে আর থাকবে না এবং তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। তিনি এ ঘোষণা দেন শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজন করা ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

মন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে ও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট হবে। এতে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। প্রশাসনের কড়া নজরদারির ফলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত খরচের সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও জানান, প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকরা নিশ্চিত করবেন যে কৃষক সপ্তাহে অন্তত এক দিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়—এমন সংস্কৃতিই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দেব।’’ তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দফা মধ্যহস্ত পালাবদলের কারণে দাম বাড়ে। ‘কৃষকের হাট’ চালুর মাধ্যমে এই চক্র ভেঙে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই সুফল তৈরি হবে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্বেও তিনি জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, আমদানির উপর নির্ভরশীল পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেইনকে এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে বাজার নজরদারি সহজ হয় ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

টিসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘‘সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২-৩৩ শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়—এটি সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে পুনর্বিবেচনা করে কমানো হবে। তবুও টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে যাতে ন্যায্য দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।’’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং কৃষকেরা সরাসরি বাজারে অংশগ্রহণ করে তা সফল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরকারি তৎপরতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনা সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে, বলেন মন্ত্রী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না

বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেশের মাটিতে আর থাকবে না এবং তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। তিনি এ ঘোষণা দেন শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজন করা ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

মন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে ও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট হবে। এতে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। প্রশাসনের কড়া নজরদারির ফলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত খরচের সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও জানান, প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকরা নিশ্চিত করবেন যে কৃষক সপ্তাহে অন্তত এক দিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়—এমন সংস্কৃতিই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দেব।’’ তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দফা মধ্যহস্ত পালাবদলের কারণে দাম বাড়ে। ‘কৃষকের হাট’ চালুর মাধ্যমে এই চক্র ভেঙে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই সুফল তৈরি হবে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্বেও তিনি জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, আমদানির উপর নির্ভরশীল পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেইনকে এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে বাজার নজরদারি সহজ হয় ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

টিসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘‘সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২-৩৩ শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়—এটি সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে পুনর্বিবেচনা করে কমানো হবে। তবুও টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে যাতে ন্যায্য দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।’’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং কৃষকেরা সরাসরি বাজারে অংশগ্রহণ করে তা সফল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরকারি তৎপরতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনা সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে, বলেন মন্ত্রী।