মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসঞ্চালন পথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। প্রথম পর্যায়ে দুইটি মার্কিন রণতরী—ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি—মিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দুইটি জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে әлеуметтік যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে সেন্টকোম এক বার্তায় জানিয়েছে।
সেন্টকোমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যে মাইনগুলো সেখানে স্থাপন করেছে, সেগুলো উদ্ধার করে প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতেই জাহাজ দুটি পাঠানো হচ্ছে এবং এটি বড় ধরনের অপারেশনের অংশ।
সেন্টকোমের শীর্ষ নির্বাহী কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা একটি নতুন পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য শিগগিরই এই পথ বেসামরিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের সঙ্গে ভাগ করা হবে।”
আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি অবরোধের অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে জলমাইন স্থাপন করে বলে রিপোর্টগুলো বলছে। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন মাইনগুলো কোথায় আছে তা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারছে না। এর প্রধান দুটি কারণ—আইআরজিসি যেসব স্থানে মাইন রাখে সেসবের রেকর্ড অনিয়মিতভাবে রাখা হয়নি, এবং নথিভুক্ত স্থানগুলোর অনেক মাইন বা ভেসে গেছে বা সরিয়ে গেছে, ফলে আগের অবস্থান আর মিলছে না। এই কারণেই মাইন শনাক্ত ও অপসারণ কাজটি জটিল হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ কাজ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই মাইন বিধ্বংসী রিমোট-কন্ট্রোলড বা যান্ত্রিক জাহাজ পাঠানো হবে।
সৌদি তেল পাইপলাইন মেরামত
হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ বাইপাস করে পূর্ব-পশ্চিম দিক থেকে তেল পরিবহন করে এমন ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৌদি পাইপলাইনটি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সৌদি আরব ওই পাইপলাইন মেরামত করে কার্যক্রম চালু করেছে বলে রোববার সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলার কারণে পাইপলাইনের কার্যক্ষমতা কমে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। মেরামতের পর পূর্ব-পশ্চিম পাইপ লাইনের পাম্পিং ক্ষমতা এখন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে মানিফা তেলক্ষেত্র থেকে দৈনিক উৎপাদন আনুমানিক ৩ লাখ ব্যারেল হলো। ক্ষতিগ্রস্ত খুরাইস ক্ষেত্রের উৎপাদন পুনরায় শুরু করার কাজ এখনো চলমান আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সময় ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ সরাসরি পাল্টা হামলা চালায়নি, তবে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চলিয়ে যেতে মার্কিনিদের ওপর চাপ দিয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























