শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আরও শক্ত অবস্থানে চলে এসেছে বার্সেলোনা। শনিবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে কাতালান ডার্বিতে এস্পানিওলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। ৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে বার্সা এখন দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে, যা রিয়ালের জিরোনার বিরুদ্ধে ড্র করার পর তাদের জন্য দারুণ সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বার্সা। দীর্ঘদিন ধরে গোলের খাৎটি শুকিয়ে থাকা ফেরান তোরেস এ রাতে ফিরিয়েছেন পুরোনো ছন্দে। খেলার মাত্র ৯ মিনিটে ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালের নিখুঁত কর্নার থেকে চমৎকার হেডে তরুণ ফরওয়ার্ড দলকে এগিয়ে দেন। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে তোরেস ২৫ মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত পাস থেকে নিজের জোড়া গোল সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে হ্যাটট্রিকও হতে পারত তাঁর।
যুবারের পারফরম্যান্স এই ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে—ইয়ামাল লা লিগায় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচ খেলেছেন এবং মাঠজুড়ে সৃজনশীলতা ও তীব্রতা দেখিয়েছেন। তোরেসকে দুই গোল করানোর পাশাপাশি দলের তৃতীয় গোলটিও এসেছে ইয়ামালের পা থেকেই। এস্পানিওলের পক্ষে পল লোজানো ২-০ থেকে ২-১ করলে সল্প সময়ের জন্য আক্ষেপের ছোঁয়া দেখা গেল, কিন্তু বার্সার শক্ত রেখা তাদের ফের দাঁড় করাতে দেন।
এদিন বার্সা সমর্থকদের জন্য আরেকটি ভালো খবর ছিল ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের ফিরে আসা। চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে নামা ডি ইয়ং শেষপর্যন্ত এক চমৎকার পাস করে দলের চতুর্থ গোলের দেখভাল করেন; ইংরেজ ফরওয়ার্ড মার্কাস র্যাশফোর্ড সেটি শেষ করেন। শুরুতে কিছু সহজ সুযোগ তাঁরা নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত র্যাশফোর্ডের সেই গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকেও এই জয়ের গুরুত্ব কম নয়। এস্পানিওলের বিপক্ষে টানা ৩০টি ডার্বিতে অপরাজিত রেখেই কাতালান জায়ান্টরা নিজ অবস্থানকে জোরালো করেছে। লিগে দাপুটে থাকা সত্ত্বেও এখন বার্সার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে—মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে আঠলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ফিরতি লেগে প্রথম লেগের ২-০ হার কাটিয়ে সেমিফাইনালে উঠাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে লিগে উড়ছে বার্সেলোনা; এখন ইউরোপীয় শিরোপার প্রতিঘাত দেখানোর সময়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























