০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালে জাহাজ টোল আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন

ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল বা শুল্ক আদায়ের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। জাকার্তায় বুধবার এক সম্মেলনে দেশের অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এই পরিকল্পনার কথা জানান এবং বলেন, এ রুটকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রভাব বাড়ানো যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া আর ‘‘প্রান্তিক দেশ’’ হিসেবে থাকতে চায় না। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের পথ হওয়ার পরও মালাক্কা প্রণালির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো টোল নেওয়া হচ্ছে না।

প্রস্তাবের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ইরানের হরমুজ প্রণালির পরিকল্পনার উদাহরণ টানেন এবং বলেন, কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা অনুযায়ী এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেবল ইন্দোনেশিয়ার কাছেই নেই—এটি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও বিভক্ত—তাই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, “সম্পদ থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মকভাবে চিন্তা করলে চলবে না, আক্রমণাত্মকভাবে ভাবতে হবে।” তবুও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।

এই প্রস্তাব উত্থাপনের পর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন CNBC-কে বলেন, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকতে হবে; কোনভাবে টোল আরোপ বা বিধিনিষেধ সমর্থন করবে না সিঙ্গাপুর। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এই নৌপথ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনের আওতাভুক্ত, তাই এর মুক্ত চলাচলে বাধা দিলে তা সবার স্বার্থের বিপরীত হবে।

মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে; দেশের পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের বিতর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, কারণ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এখনও পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত হননি; বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত কূটনৈতিক আলোচনা, প্রতিবেশী দেশদের সম্মতি ও আন্তর্জাতিক আইনগত পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে এ প্রস্তাব প্রসঙ্গে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে কি না, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে চলমান কূটনৈতিক সংলাপ ও পারিশ্রমিক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: সিএনএ, সিএনবিসি

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালে জাহাজ টোল আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল বা শুল্ক আদায়ের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। জাকার্তায় বুধবার এক সম্মেলনে দেশের অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এই পরিকল্পনার কথা জানান এবং বলেন, এ রুটকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রভাব বাড়ানো যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া আর ‘‘প্রান্তিক দেশ’’ হিসেবে থাকতে চায় না। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের পথ হওয়ার পরও মালাক্কা প্রণালির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো টোল নেওয়া হচ্ছে না।

প্রস্তাবের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ইরানের হরমুজ প্রণালির পরিকল্পনার উদাহরণ টানেন এবং বলেন, কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা অনুযায়ী এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেবল ইন্দোনেশিয়ার কাছেই নেই—এটি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও বিভক্ত—তাই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, “সম্পদ থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মকভাবে চিন্তা করলে চলবে না, আক্রমণাত্মকভাবে ভাবতে হবে।” তবুও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।

এই প্রস্তাব উত্থাপনের পর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন CNBC-কে বলেন, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকতে হবে; কোনভাবে টোল আরোপ বা বিধিনিষেধ সমর্থন করবে না সিঙ্গাপুর। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এই নৌপথ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনের আওতাভুক্ত, তাই এর মুক্ত চলাচলে বাধা দিলে তা সবার স্বার্থের বিপরীত হবে।

মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে; দেশের পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের বিতর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, কারণ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এখনও পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত হননি; বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত কূটনৈতিক আলোচনা, প্রতিবেশী দেশদের সম্মতি ও আন্তর্জাতিক আইনগত পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে এ প্রস্তাব প্রসঙ্গে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে কি না, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে চলমান কূটনৈতিক সংলাপ ও পারিশ্রমিক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: সিএনএ, সিএনবিসি