আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় অন্তত সাত বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কমপক্ষে ৮৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনার তথ্য দিয়েছে প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত ও প্রাদেশিক রাজধানী থেকে মোট সাতটি মরদেহ ও ৮৫ জন আহতকে হাসপাতলে নেওয়া হয়েছে। কুনারের জনস্বাস্থ্য পরিচালক মুজাফফর মুখলিস দাবি করেছেন, আহত এবং নিহতরা 모두 সাধারণ বেসামরিক শহরবাসী।
আফগান সরকার বলছে, পাকিস্তানি বাহিনী আসাদাবাদে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে মর্টার শেল ও রকেট ছুঁড়েছে। কুনারের তথ্য প্রধান নাজিবুল্লাহ হানিফ জানিয়েছেন, আসাদাবাদের পাশাপাশিই তিনটি জেলায় আক্রমণ হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় পাকিস্তানি ড্রোনের উপস্থিতি এবং আফগান সশস্ত্র বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে।
তবে পাকিস্তান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ অস্বীকার করে এটি ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে কোনো আবাসিক এলাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়নি।
হাসপাতালের শয্যায় আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয়রা ক্ষোভ আর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। ২২ বছর বয়সী শ্রমিক সাহাতুল্লাহ জানান, বাইরে খেলার সময় তার ভাতিজা গোলার আঘাতে আহত হয়। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে শিক্ষক জমারাই কুনারির পরিবারের ক্ষেত্রেও—তার এক ভাই গুরুতর আহত এবং আরেক আত্মীয় নিহত হয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত না বাড়ানোর সমঝোতা হলেও সীমান্তে অস্থিরতা থামেনি। স্থানীয়রা বলছেন, গত দুই মাস ধরে তারা অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ২০২১ সালে তালেবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়েছে। পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দোষারোপ করে আসছে, আর আফগান পক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। গত অক্টোবর থেকে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও প্রভাবিত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























