সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আজকের ছবি অন্য দিনের চেয়েও অনেক জীবন্ত ছিল। সাধারণত নিরব-শূন্য স্টেডিয়াম আজ দর্শক-চঞ্চলতায় ভরে উঠেছে—গ্যালারি কাঁদাভরে ভরেছে, মাঠে ছোটখাটো ক্রীড়াবিদরা তাদের দক্ষতার প্রদর্শনী দিচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী কড়া পাহারা রাখছে আর সংবাদকর্মীরা ব্যস্ত। সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
আজ বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে সিলেটে উপস্থিত হয়ে এই প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়ামে থাকা অংশগ্রহণকারী শিশুরা।
‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল শিশু-কিশোরদের প্রতিভা উন্মোচনের জন্য। বাংলাদেশের টেলিভিশনের ৮০’র দশকের জনপ্রিয় সেই শোয়ের মাধ্যমে অনেকে বিভিন্ন শিল্পে পথ তৈরি করেছিলেন। বহু বছর পর পরিচিত নামটি ফিরে এসেছে, কিন্তু এবার মঞ্চ নয়—সবুজ মাঠ ও ক্রীড়া কক্ষেই নতুন রূপে শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
আগামী দিনের তারকাদের উদ্দীপনা বাড়াতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন দেশের সেরা ৩২ জন খেলোয়াড়—প্রতিটি খেলায় ক্ষুদ্র নবীনদের উৎসাহিত করতে তারা ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি-সহ বিভিন্ন খেলার প্রতিনিধিরা আজ এক প্ল্যাটফর্মে ছিলেন।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহারে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল; সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং এটি আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে—যার ফলে অ্যাথলেটরা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
জব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচনই আগে বরাবর প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে উচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘‘ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে।’’
উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকা না নিয়ে সিলেটকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী চান নতুন উদ্যোগগুলো ঢাকার বাইর থেকেই শুরু হোক—তাই সিলেটকে নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিচ্ছে। মোট আটটি জনপ্রিয় ইভেন্টে খেলা হবে এবং প্রতিযোগিতা উপজেলা পর্যায়ে শুরু করে জেলা, বিভাগীয় ও সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে সমাপ্ত হবে। আঞ্চলিক পর্বের খেলা ১৩-২২ মে’র মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যে নিয়োজিত রয়েছে।
দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে দশটি শক্তিশালী অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত জেলা ও পর্যায়গুলোর জন্য একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি তৈরি করা হয়েছে যাতে কোন মেধা অবদমিত না হয়।
প্রতিযোগিতার নিয়মে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের টুর্নামেন্টগুলো নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। দাবাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের মতো ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হবে। একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুইটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশনের সময় সীমা অল্প থাকলেও প্রতি ১২-২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভাবনীয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে—মোট ১,৬৭,৬৯৩ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যার মধ্যে ছেলে ১,২০,৯৪৯ জন ও মেয়ে ৪৬,৭৪৪ জন। অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে ঢাকা থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫,৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন; সর্বনিম্ন রেজিস্ট্রেশন আছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে, সেখানে ৭,৯৬৬ জন অংশগ্রহণকারী রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পরবর্তী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলার প্রতি আগ্রহ ও মেধা উন্মোচন হবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য। আয়োজকরা আশা করছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া পরিবেশে নতুন প্রজন্মের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং মেধাবী খেলোয়াড়দের জন্য একটি শক্ত পাথেয় গড়ে তুলবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 






















