১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত ৩ মে থেকে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন দিগন্তে প্রথম ধাক্কা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঢাকা-সহ দেশের সব থানাকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে মে দিবস: নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের মোক্ষম জবাব দেওয়ার আহ্বান

সরবরাহ সংকটে ময়মনসিংহে সবজির বাজার অস্থির: কেজিতে ১০–২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

ময়মনসিংহে কয়েকদিন ধরে চলমান মেঘাচ্ছন্ন ও ভারি বর্ষণে সবজির সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রোববার (৩ মে) সকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা কমে আসায় পাইকারি ও খুচরো—উভয় পর্যায়েই কাঁচা সবজির দাম বাড়ছে।

নগরীর প্রধান পাইকারি মেছুয়া বাজারে পাওয়া বর্তমান দামের তালিকা অনুযায়ী কাঁকরোলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫–২০ টাকা বেশি। পটোলের কেজি দর ৫০ টাকা, টমেটোর কেজি ৪০ টাকা, কচুর মুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা ও শসা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষভাবে সজনে ডাঁটার কেজি দামের উত্থান সবচেয়ে বেশি; তা পৌঁছেছে ১৬০ টাকায়। বেগুনের কেজি দাম কিন্তু নিয়মানুযায়ী ওঠানামা করে ৮০–৯০ টাকার মধ্যে দেখা গেছে।

কাঁচামরিচের বাজারেও শেয়ারণীয় অস্থিরতা রয়েছে। গত এক সপ্তাহে মরিচের দাম প্রকারভেদে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তার বিপরীতে গাজর ও পেঁপে এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; এগুলো কেজিপ্রতি প্রথাগত দামে, প্রায় ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় উৎপাদনকারী এলাকা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি না আসায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। মেছুয়া বাজারের আড়তদার ও পাইকারী প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ জানায়, গত চার-পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টিতে কৃষকরা মাঠ থেকে পণ্য তুলতে পারছেন না, ফলে আগের মতো প্রতিদিন গড়ে যেসব ২৫ বস্তা সবজি বাজারে আসত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২–৩ বস্তায়। সরবরাহের এই বিপুল হ্রাসকে মূল কারণ হিসেবে তারা দিচ্ছেন।

পাইকারি পর্যায়ের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি মূল্যের ওপর আরও ১০–২০ টাকা অতিরিক্ত বসিয়ে গ্রাহকদের কাছে দিচ্ছেন। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জন্য দৈনন্দিন কেনাকাটা কঠিন হয়ে উঠছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়ার দুর্বলতা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে বর্ষা থেমে গেলে ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বাজারে পণ্য জমা শুরু হবে এবং দামও স্থিতিশীল হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তারা দিতে পারেননি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরবরাহ সংকটে ময়মনসিংহে সবজির বাজার অস্থির: কেজিতে ১০–২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ময়মনসিংহে কয়েকদিন ধরে চলমান মেঘাচ্ছন্ন ও ভারি বর্ষণে সবজির সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রোববার (৩ মে) সকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা কমে আসায় পাইকারি ও খুচরো—উভয় পর্যায়েই কাঁচা সবজির দাম বাড়ছে।

নগরীর প্রধান পাইকারি মেছুয়া বাজারে পাওয়া বর্তমান দামের তালিকা অনুযায়ী কাঁকরোলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫–২০ টাকা বেশি। পটোলের কেজি দর ৫০ টাকা, টমেটোর কেজি ৪০ টাকা, কচুর মুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা ও শসা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষভাবে সজনে ডাঁটার কেজি দামের উত্থান সবচেয়ে বেশি; তা পৌঁছেছে ১৬০ টাকায়। বেগুনের কেজি দাম কিন্তু নিয়মানুযায়ী ওঠানামা করে ৮০–৯০ টাকার মধ্যে দেখা গেছে।

কাঁচামরিচের বাজারেও শেয়ারণীয় অস্থিরতা রয়েছে। গত এক সপ্তাহে মরিচের দাম প্রকারভেদে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তার বিপরীতে গাজর ও পেঁপে এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; এগুলো কেজিপ্রতি প্রথাগত দামে, প্রায় ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় উৎপাদনকারী এলাকা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি না আসায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। মেছুয়া বাজারের আড়তদার ও পাইকারী প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ জানায়, গত চার-পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টিতে কৃষকরা মাঠ থেকে পণ্য তুলতে পারছেন না, ফলে আগের মতো প্রতিদিন গড়ে যেসব ২৫ বস্তা সবজি বাজারে আসত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২–৩ বস্তায়। সরবরাহের এই বিপুল হ্রাসকে মূল কারণ হিসেবে তারা দিচ্ছেন।

পাইকারি পর্যায়ের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি মূল্যের ওপর আরও ১০–২০ টাকা অতিরিক্ত বসিয়ে গ্রাহকদের কাছে দিচ্ছেন। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জন্য দৈনন্দিন কেনাকাটা কঠিন হয়ে উঠছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়ার দুর্বলতা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে বর্ষা থেমে গেলে ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বাজারে পণ্য জমা শুরু হবে এবং দামও স্থিতিশীল হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তারা দিতে পারেননি।