০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইপিআই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাবতলী হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী: সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা ১৭ মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি অডিট রিপোর্ট, সংসদে উপস্থাপন করা হবে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী এমপিরা জিয়া ও খালেদার সমাধিতে শ্রদ্ধা বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ ১৬ ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ

ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো ফিরে এলো মার্কিন ট্রেজারি বাজারে

প্রায় ২০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডবাজারে আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো। ফেডারেল রিজার্ভের নিয়ন্ত্রক নীতিগুলো শিথিলের সুযোগে এই ব্যাংকগুলো তাদের ট্রেজারি বন্ডের মজুত দ্রুত বাড়াচ্ছে, ফলে মার্কিন ট্রেজারি মার্কেটে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রাইমারি ডিলারদের হাতে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলারের ট্রেজারি বন্ড রয়েছে, যা গত বছরের ৪০ হাজার কোটি ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। প্রাইমারি ডিলার বলতে আমরা বোঝাই সেই প্রতিষ্ঠতিগুলোকে যারা সরাসরি ফেডের সঙ্গে ট্রেড করে এবং সরকারি ঋণপত্রের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ট্রেজারি বাজারের আনুমানিক ২ শতাংশই বড় ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে — যা ২০০৭ সালের পরের সর্বোচ্চ স্তর।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর কঠোর নিয়মনীতির ফলে বড় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে ট্রেজারি বাজার থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছিল। সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করেছিল বিভিন্ন হেজ ফান্ড ও বিশেষায়িত ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। তবে সম্প্রতি মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ‘এসএলআর’ বা সাপ্লিমেন্টারি লেভারেজ রেশিও নীতিতে নমনীয়তা আনার পরে পরিস্থিতি পাল্টেছে। এই নীতি শিথিল হওয়ায় ব্যাংকগুলোর ওপর পূর্বের মতো অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণের চাপ কমেছে, ফলে তারা আবার সরকারি ঋণপত্র কেনা এবং তাদের ট্রেডিংয়ে বেশি মূলধন ব্যবহার করতে পারছে।

ফেডের গভর্নর মিশেল বোম্যানকে এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রচারক হিসেবে দেখা হচ্ছে; বোম্যানের মতে, ২০০৮-এর পর অত্যধিক কড়াকড়ি ট্রেজারি বাজারকে নাজুক করে তুলেছিল। নীতি শিথিলের প্রভাবেই ব্যাংক অব আমেরিকা এবং মরগান স্ট্যানলির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ট্রেজারি লেনদেনে আরও বেশি মূলধন নিযুক্ত করছে। ব্যাংক অব আমেরিকার এক কর্মকর্তা মার্ক ক্যাবানা বলেছেন যে, এসএলআর নীতি পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বন্ড ধারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে বিপুল পরিমাণ ঋণপত্র বাজারে ছাড়তে হচ্ছে — যা দেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমতুল্য। এমন সময় বড় ব্যাঙ্কগুলোর পুনরায় বাজারে ফিরে আসা সরকারি ঋণের জোগান নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং বাজারের তরলতা ও স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গাবতলী হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী: সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না

ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো ফিরে এলো মার্কিন ট্রেজারি বাজারে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

প্রায় ২০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডবাজারে আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো। ফেডারেল রিজার্ভের নিয়ন্ত্রক নীতিগুলো শিথিলের সুযোগে এই ব্যাংকগুলো তাদের ট্রেজারি বন্ডের মজুত দ্রুত বাড়াচ্ছে, ফলে মার্কিন ট্রেজারি মার্কেটে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রাইমারি ডিলারদের হাতে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলারের ট্রেজারি বন্ড রয়েছে, যা গত বছরের ৪০ হাজার কোটি ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। প্রাইমারি ডিলার বলতে আমরা বোঝাই সেই প্রতিষ্ঠতিগুলোকে যারা সরাসরি ফেডের সঙ্গে ট্রেড করে এবং সরকারি ঋণপত্রের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ট্রেজারি বাজারের আনুমানিক ২ শতাংশই বড় ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে — যা ২০০৭ সালের পরের সর্বোচ্চ স্তর।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর কঠোর নিয়মনীতির ফলে বড় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে ট্রেজারি বাজার থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছিল। সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করেছিল বিভিন্ন হেজ ফান্ড ও বিশেষায়িত ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। তবে সম্প্রতি মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ‘এসএলআর’ বা সাপ্লিমেন্টারি লেভারেজ রেশিও নীতিতে নমনীয়তা আনার পরে পরিস্থিতি পাল্টেছে। এই নীতি শিথিল হওয়ায় ব্যাংকগুলোর ওপর পূর্বের মতো অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণের চাপ কমেছে, ফলে তারা আবার সরকারি ঋণপত্র কেনা এবং তাদের ট্রেডিংয়ে বেশি মূলধন ব্যবহার করতে পারছে।

ফেডের গভর্নর মিশেল বোম্যানকে এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রচারক হিসেবে দেখা হচ্ছে; বোম্যানের মতে, ২০০৮-এর পর অত্যধিক কড়াকড়ি ট্রেজারি বাজারকে নাজুক করে তুলেছিল। নীতি শিথিলের প্রভাবেই ব্যাংক অব আমেরিকা এবং মরগান স্ট্যানলির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ট্রেজারি লেনদেনে আরও বেশি মূলধন নিযুক্ত করছে। ব্যাংক অব আমেরিকার এক কর্মকর্তা মার্ক ক্যাবানা বলেছেন যে, এসএলআর নীতি পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বন্ড ধারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে বিপুল পরিমাণ ঋণপত্র বাজারে ছাড়তে হচ্ছে — যা দেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমতুল্য। এমন সময় বড় ব্যাঙ্কগুলোর পুনরায় বাজারে ফিরে আসা সরকারি ঋণের জোগান নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং বাজারের তরলতা ও স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।