০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শাহরাস্তিতে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান চাঁদপুর শাহরাস্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সমাবেশ হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু ঋণের জালে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি — কর বাড়ছে জনগণের কাঁধে ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত — একটি সংসার নিভে গেল মেটাল কার্ডের প্রলোভন থেকে সতর্ক করলেন বাংলাদেশ ব্যাংক ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত, নিভে গেল একটি সংসার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে; দায়িত্বে এস এন নজরুল ইসলাম

ভারত সরকার চিনি রফতানি নিষিদ্ধ ঘোষণা

ভিত্তি শক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার চিনি রফতানি বন্ধের ঘোষণা করেছে। এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সরকারের খবর অনুযায়ী এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ রাখা ও দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ ভারতের এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। চলতি মৌসুমে কেন্দ্রীয় সরকার পরোক্ষভাবে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি রফতানির অনুমতি দিলেও অপ্রত্যাশিতভাবে উৎপাদন হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটছে না—ফলে দিল্লি রপ্তানি বন্ধের পথে হেঁটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আখের ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি টানা দ্বিতীয় বছর ধরে দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—বিশেষ করে চলমান এল নিনো—মৌসুমী বর্ষা ব্যাহত করে আখের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ খাদ্য মজুত রক্ষার জন্য সরকারকে কড়াকড়ি করতে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

বাজারের অংশীদারদের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৫ লাখ ৯০ হাজার টনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ লাখ টনের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন এবং ছয় লাখ টনের বেশি চিনি বিদেশে পাঠানোও হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত—উভয় ধরনের চিনি রপ্তানিই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাহাজে তুলে রাখার প্রক্রিয়ায় থাকা বা বন্দরে পৌঁছে যাওয়া চালানগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি দিলে সীমিত কাণ্ডারি অনুমোদন মিলতে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সিদ্ধান্তের তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়ছে। নিউ ইয়র্কে অপরিশোধিত চিনি দুই শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং লন্ডনে সাদা চিনির দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়ে যায়। ভারতের বাজার থেকে সাময়িকভাবে সরলীকরণ সরে গেলে এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হলেও আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য—বিশেষত বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য—মূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রফতানি নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে; পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বাজারে চাপ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে

ভারত সরকার চিনি রফতানি নিষিদ্ধ ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভিত্তি শক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার চিনি রফতানি বন্ধের ঘোষণা করেছে। এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সরকারের খবর অনুযায়ী এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ রাখা ও দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ ভারতের এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। চলতি মৌসুমে কেন্দ্রীয় সরকার পরোক্ষভাবে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি রফতানির অনুমতি দিলেও অপ্রত্যাশিতভাবে উৎপাদন হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটছে না—ফলে দিল্লি রপ্তানি বন্ধের পথে হেঁটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আখের ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি টানা দ্বিতীয় বছর ধরে দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—বিশেষ করে চলমান এল নিনো—মৌসুমী বর্ষা ব্যাহত করে আখের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ খাদ্য মজুত রক্ষার জন্য সরকারকে কড়াকড়ি করতে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

বাজারের অংশীদারদের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৫ লাখ ৯০ হাজার টনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ লাখ টনের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন এবং ছয় লাখ টনের বেশি চিনি বিদেশে পাঠানোও হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত—উভয় ধরনের চিনি রপ্তানিই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাহাজে তুলে রাখার প্রক্রিয়ায় থাকা বা বন্দরে পৌঁছে যাওয়া চালানগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি দিলে সীমিত কাণ্ডারি অনুমোদন মিলতে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সিদ্ধান্তের তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়ছে। নিউ ইয়র্কে অপরিশোধিত চিনি দুই শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং লন্ডনে সাদা চিনির দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়ে যায়। ভারতের বাজার থেকে সাময়িকভাবে সরলীকরণ সরে গেলে এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হলেও আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য—বিশেষত বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য—মূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রফতানি নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে; পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বাজারে চাপ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।