০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বারাণসীতে উন্নয়নের নামে ৬ ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের চেষ্টা

উন্নয়নের লেবেল দিয়ে বারাণসীর ডালমন্ডি এলাকায় আবারও আঘাত করা হচ্ছে মুসলিম ঐতিহ্যের ওপর। সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে কয়েকদিন ধরে বুলডোজার চালিয়ে মোতায়েন করা হচ্ছে অভিযান, যার ফলে শত শত বাড়ি ও দোকান উচ্ছেদ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এই তৎপরতায় অন্তত ১০৭টি বাসা-বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আগামী ৩১ মে পর্যন্ত পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদের ফলে শতশত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করে মাথার ওপর থেকে ছাদ এবং রুটি-রুজির একমাত্র উপায় যেখানে করে চালানো হতো তা কেড়ে নেওয়ায় তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই বলছেন, পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই—জীবনই এখন অনিশ্চিত ও অস্থির।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার ওপর আঘাত। স্থানীয় চৌক থানার আওতাভুক্ত ডালমন্ডিতে মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদ, মার্বেল ওয়ালি মসজিদ, আলী রেজা খান মসজিদ, নিসারান মসজিদ, রঙ্গিলে শাহ মসজিদ ও ল্যাংড়ে হাফিজ মসজিদ—মোট ছটি মসজিদ উচ্ছেদ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদটি প্রায় ২২৬ বছর পুরনো; স্থানীয় মুসলমানদের জন্য এটি ঐতিহ্যগত ও অনুভূতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন তিনটি বুলডোজার এবং শতাধিক কাজের লোক নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে ‘উন্নয়নের নামে সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত’ হিসেবে তীব্রভাবে নিন্দা করেছে।

মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদের মুয়াজ্জিন বাবু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আইনি ও সাংবিধানিক বিধি-বিধান থোড়াই পাত্তা না দিয়ে যদি জোর করে উচ্ছেদ করা হয়, মুসলমানরা তা চুপ করে সহ্য করবে না এবং সর্বোচ্চ প্রতিবাদ জানাবে।’ তিনি আরও বলেন, যদি কোনো কারণে মসজিদ স্থানান্তর অপরিহার্য হয়, তা হলে সম্মানজনকভাবে এবং উপযুক্ত কোনো স্থানে পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

বারাণসী প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্ছেদকৃত জমি ওয়াকফবোর্ডের অধীনে থাকলে শুধুমাত্র সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে; নইলে বর্তমান নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী স্থানান্তর করা হবে। তবু স্থানীয়দের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া কমেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সম্প্রতি দেখা যাওয়া ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’—উন্নয়নের আড়ালে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতার ধারাবাহিকতা হিসাবে তারা ডালমন্ডির ঘটনাটিকে দেখছেন। এ ঘটনা পুরো এলাকা জুড়ে চাপা উত্তেজনা ও ভীতাবস্থা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি—উন্নয়ন হোক, কিন্তু সংবেদনশীল ঐতিহ্য ও উপাসনালয় বাঁচিয়ে রেখে, সম্মানজনক ও সংবেদনশীল পথেই তা করা উচিত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বারাণসীতে উন্নয়নের নামে ৬ ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের চেষ্টা

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

উন্নয়নের লেবেল দিয়ে বারাণসীর ডালমন্ডি এলাকায় আবারও আঘাত করা হচ্ছে মুসলিম ঐতিহ্যের ওপর। সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে কয়েকদিন ধরে বুলডোজার চালিয়ে মোতায়েন করা হচ্ছে অভিযান, যার ফলে শত শত বাড়ি ও দোকান উচ্ছেদ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এই তৎপরতায় অন্তত ১০৭টি বাসা-বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আগামী ৩১ মে পর্যন্ত পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদের ফলে শতশত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করে মাথার ওপর থেকে ছাদ এবং রুটি-রুজির একমাত্র উপায় যেখানে করে চালানো হতো তা কেড়ে নেওয়ায় তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই বলছেন, পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই—জীবনই এখন অনিশ্চিত ও অস্থির।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার ওপর আঘাত। স্থানীয় চৌক থানার আওতাভুক্ত ডালমন্ডিতে মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদ, মার্বেল ওয়ালি মসজিদ, আলী রেজা খান মসজিদ, নিসারান মসজিদ, রঙ্গিলে শাহ মসজিদ ও ল্যাংড়ে হাফিজ মসজিদ—মোট ছটি মসজিদ উচ্ছেদ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদটি প্রায় ২২৬ বছর পুরনো; স্থানীয় মুসলমানদের জন্য এটি ঐতিহ্যগত ও অনুভূতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন তিনটি বুলডোজার এবং শতাধিক কাজের লোক নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে ‘উন্নয়নের নামে সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত’ হিসেবে তীব্রভাবে নিন্দা করেছে।

মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদের মুয়াজ্জিন বাবু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আইনি ও সাংবিধানিক বিধি-বিধান থোড়াই পাত্তা না দিয়ে যদি জোর করে উচ্ছেদ করা হয়, মুসলমানরা তা চুপ করে সহ্য করবে না এবং সর্বোচ্চ প্রতিবাদ জানাবে।’ তিনি আরও বলেন, যদি কোনো কারণে মসজিদ স্থানান্তর অপরিহার্য হয়, তা হলে সম্মানজনকভাবে এবং উপযুক্ত কোনো স্থানে পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

বারাণসী প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্ছেদকৃত জমি ওয়াকফবোর্ডের অধীনে থাকলে শুধুমাত্র সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে; নইলে বর্তমান নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী স্থানান্তর করা হবে। তবু স্থানীয়দের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া কমেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সম্প্রতি দেখা যাওয়া ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’—উন্নয়নের আড়ালে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতার ধারাবাহিকতা হিসাবে তারা ডালমন্ডির ঘটনাটিকে দেখছেন। এ ঘটনা পুরো এলাকা জুড়ে চাপা উত্তেজনা ও ভীতাবস্থা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি—উন্নয়ন হোক, কিন্তু সংবেদনশীল ঐতিহ্য ও উপাসনালয় বাঁচিয়ে রেখে, সম্মানজনক ও সংবেদনশীল পথেই তা করা উচিত।