০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক রাবারের দাম ৯ বছরে সর্বোচ্চে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে প্রাকৃতিক রাবারের দাম গত নয় বছরের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে বর্তমানে রাবারের দাম প্রতি কেজি ২.২২ ডলারে উঠেছে, যা ফেব্রুয়ারি ২০১৭-এর পর সর্বোচ্চ। তথ্য zufolge, চলতি বছরের শুরু থেকেই এই পণ্যের মূল্য ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে সামগ্রিক সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বড় এলেবড়া কোম্পানিগুলো পূর্বেই রাবারের মজুদ বাড়াতে শুরু করেছে। এই আগাম কেনাকাটা আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

আরো একটি প্রধান যোগানহীনতা হচ্ছে কৃত্রিম রাবারের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল—কাঁচা তেলের—দামের উর্ধ্বগতি। তেলের দাম বাড়ায় সিন্থেটিক রাবারের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, ফলে টায়ারসহ বিভিন্ন শিল্প এখন বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক রাবারের দিকে ঝুঁকছে। থাইল্যান্ডের শীর্ষ রাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শ্রী ট্রাং এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টায়ার প্রস্তুতকারীরা তাদের সাধারণ স্টকের তুলনায় বেশি কাঁচামাল মজুত করতে চাইছে।

এশিয়ার দেশগুলো বিশ্ববাজারে রাবারের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে; থাইল্যান্ড একাই প্রায় ৩৪ শতাংশ উৎপাদন করে। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও আইভরি কোস্টও এই খাতের প্রধান খেলোয়াড়। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ শতাংশ রাবারের ব্যবহার একাই করে চীন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে রাবারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—ইভি-র অতিরিক্ত ওজন ও ব্যাটারির দাবির কারণে টায়ারে উচ্চমানের প্রাকৃতিক রাবারের ব্যবহার বেশি প্রয়োজন।

রাবারের দাম বাড়া শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু টায়ার প্রস্তুতকারক ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছে যে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং নৌপথ ভাড়ার উর্ধ্বগতি টায়ারের মুল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম চড়া থাকে, তবে প্রাকৃতিক রাবারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছু সময় ধরে বজায় থাকতে পারে।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি রাবার উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগও তৈরি করেছে। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রফতানি আয় বাড়ার সম্ভাব্যতা থাকায় উৎপাদনকারী দেশগুলোকে সেগুলো উপযোগী নীতি ও প্রস্তুতির মাধ্যমে কাজে লাগাতে সজাগ থাকতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক রাবারের দাম ৯ বছরে সর্বোচ্চে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে প্রাকৃতিক রাবারের দাম গত নয় বছরের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে বর্তমানে রাবারের দাম প্রতি কেজি ২.২২ ডলারে উঠেছে, যা ফেব্রুয়ারি ২০১৭-এর পর সর্বোচ্চ। তথ্য zufolge, চলতি বছরের শুরু থেকেই এই পণ্যের মূল্য ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে সামগ্রিক সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বড় এলেবড়া কোম্পানিগুলো পূর্বেই রাবারের মজুদ বাড়াতে শুরু করেছে। এই আগাম কেনাকাটা আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

আরো একটি প্রধান যোগানহীনতা হচ্ছে কৃত্রিম রাবারের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল—কাঁচা তেলের—দামের উর্ধ্বগতি। তেলের দাম বাড়ায় সিন্থেটিক রাবারের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, ফলে টায়ারসহ বিভিন্ন শিল্প এখন বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক রাবারের দিকে ঝুঁকছে। থাইল্যান্ডের শীর্ষ রাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শ্রী ট্রাং এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টায়ার প্রস্তুতকারীরা তাদের সাধারণ স্টকের তুলনায় বেশি কাঁচামাল মজুত করতে চাইছে।

এশিয়ার দেশগুলো বিশ্ববাজারে রাবারের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে; থাইল্যান্ড একাই প্রায় ৩৪ শতাংশ উৎপাদন করে। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও আইভরি কোস্টও এই খাতের প্রধান খেলোয়াড়। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ শতাংশ রাবারের ব্যবহার একাই করে চীন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে রাবারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—ইভি-র অতিরিক্ত ওজন ও ব্যাটারির দাবির কারণে টায়ারে উচ্চমানের প্রাকৃতিক রাবারের ব্যবহার বেশি প্রয়োজন।

রাবারের দাম বাড়া শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু টায়ার প্রস্তুতকারক ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছে যে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং নৌপথ ভাড়ার উর্ধ্বগতি টায়ারের মুল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম চড়া থাকে, তবে প্রাকৃতিক রাবারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছু সময় ধরে বজায় থাকতে পারে।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি রাবার উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগও তৈরি করেছে। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রফতানি আয় বাড়ার সম্ভাব্যতা থাকায় উৎপাদনকারী দেশগুলোকে সেগুলো উপযোগী নীতি ও প্রস্তুতির মাধ্যমে কাজে লাগাতে সজাগ থাকতে হবে।