চাঁদপুরে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নির্বাচন ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সমস্ত ষড়যন্ত্র জনগণই রুখে দেবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীভাতা আরম্ভ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ—এসব কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কিছুসংখ্যক মানুষ বিভ্রান্তিকর কথা ছড়িয়ে প্রতিবাদ করছে। তার বক্তব্য, জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে, বিএনপি সেই সমর্থন নিয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাবে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই এসব অঙ্গীকার থেকে প্রত্যাহার হবে না।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ এই কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, সরকারের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না—বাংলাদেশের মানুষই তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে; বিভ্রান্তিকারের ফাঁদে পা দেবেন না। বিশেষ করে খাল খনন, মা–বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌছে দেওয়া, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের কাজ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেছেন তিনি।
চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঁদপুর ছাড়াও আরো ২০টি জেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনি হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমাকে ব্যক্তিগতভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য বদলানোর রাজনীতি—খাল খনন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল-কারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই তাদের অগ্রাধিকার। এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন উদ্বোধনও ছিল সুস্পষ্ট কর্মকৰ্ম। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তির উয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনঃখননে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচন করেন; পরে নিজেই কোদাল হাতে মাটি কাটেন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণও করেন। ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেছিলেন; ৪৮ বছর পর তার ছেলে তারেক রহমান সেই খাল পুনরায় খনন করেছেন।
খাল পরিদর্শন ও সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর চলমান জনযোগাযোগও গড়া ছিল সহজ ও প্রাণপ্রবণ। এক পর্যায়ে তিনি সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে মঞ্চে ডেকে পাশে বসান এবং নিজে আন্তরিকতার সঙ্গে তার কথা শুনেন। গৃহীত এই আচরণে কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে পরে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছিল; সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বিআইডিবি–বিএইজেড কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
একই দিনে কুমিল্লা সম্পর্কেও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রীপদপ্রার্থী: জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এ কথা বলেন তিনি বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজারে এক পথসভায়। তিনি পুনরায় দেশ পুনর্গঠনের আগ্রহ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘এ দেশকে গড়ে তোলার পালা আমাদের। সবাই মিলে আমরা এই মাতৃভূমিকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলব।’’ সভায় উপস্থিত জনতা ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’ দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জানান, সবাই যদি একমত হন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদোগী কর্মসূচি ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তাঁর বক্তব্যে বারবার স্পষ্ট হয়—বিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সতর্কতা আছে কি না তা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমান সকল সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানান, বিভ্রান্তিকর অপচেষ্টা রুখে দাঁড়ান এবং দেশের পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























