০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

ফ্রান্সে মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ফ্রান্সে তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে বলে ইউরো নিউজ সংবাদ প্রকাশ করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি এনজিওয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ওই অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই সঙ্গে ডেমোক্র্যাসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডিএডব্লিউএন)—যেখানে জামাল খাশোগি কাজ করতেন—জনিত আইনি পদক্ষেপও চলেছিল। সূত্রে বলা হয়, ফরাসি এক তদন্তকারী বিচারক এখন খাশোগির নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করবেন।

জামাল খাশোগিকে ২০১৮ সালে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়। খাশোগির দেহের অংশাংশ করা হয় এবং এখনও পুরো দেহ পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরাসরি দায়ী করে জানিয়েছিল।

২০২২ সালের জুলাইয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানের ফ্রান্স সফরের সময় ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং ডিএডব্লিউএন প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নিলে পরে আরএসএফও মামলায় যোগ দেয়। তবে ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম প্রসিকিউটরস অফিস (পিএনএটি) শুরুতে তদন্ত শুরু করার বিরোধিতা করে—তারা বলেছিল এমন ধরনের অভিযোগে এনজিওগুলোকে সরাসরি মামলায় অংশ নেওয়ার আইনি অধিকার নেই।

আরএসএফ-এর আইনজীবী ইমানুয়েল দাওয়াদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সৌদি কর্তৃপক্ষকে রোষাতে না এবং ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনৈতিক বাস্তববাদের নাম করে বিচার প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।

এনজিওগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানকে মানুষের উপর নির্যাতন ও জোরপূর্বক নিখোঁজ করার সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ করেছে। তাদের যুক্তি, যুবরাজ নিজে সরাসরি হত্যার আদেশ দেননি হলেও তিনি তার অধীনস্থদের মাধ্যমে খাশোগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।

ফরাসি আপিল আদালত ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে বলেনি। পিএনএটি নিশ্চিত করেছে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত ইউনিটের একজন তদন্তকারী বিচারক এখন অভিযোগটি পরীক্ষা করবেন। অবশ্য ডিএডব্লিউএন শেষ পর্যন্ত মামলায় সরাসরি পার্টি হতে পারেনি, তবু সংস্থাটি এই পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

এই নতুন আইনি পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে জোরদার করে। তবে এখনও তদন্ত চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ফরাসি বিচার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

ফ্রান্সে মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ফ্রান্সে তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে বলে ইউরো নিউজ সংবাদ প্রকাশ করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি এনজিওয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ওই অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই সঙ্গে ডেমোক্র্যাসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডিএডব্লিউএন)—যেখানে জামাল খাশোগি কাজ করতেন—জনিত আইনি পদক্ষেপও চলেছিল। সূত্রে বলা হয়, ফরাসি এক তদন্তকারী বিচারক এখন খাশোগির নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করবেন।

জামাল খাশোগিকে ২০১৮ সালে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়। খাশোগির দেহের অংশাংশ করা হয় এবং এখনও পুরো দেহ পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরাসরি দায়ী করে জানিয়েছিল।

২০২২ সালের জুলাইয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানের ফ্রান্স সফরের সময় ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং ডিএডব্লিউএন প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নিলে পরে আরএসএফও মামলায় যোগ দেয়। তবে ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম প্রসিকিউটরস অফিস (পিএনএটি) শুরুতে তদন্ত শুরু করার বিরোধিতা করে—তারা বলেছিল এমন ধরনের অভিযোগে এনজিওগুলোকে সরাসরি মামলায় অংশ নেওয়ার আইনি অধিকার নেই।

আরএসএফ-এর আইনজীবী ইমানুয়েল দাওয়াদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সৌদি কর্তৃপক্ষকে রোষাতে না এবং ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনৈতিক বাস্তববাদের নাম করে বিচার প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।

এনজিওগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানকে মানুষের উপর নির্যাতন ও জোরপূর্বক নিখোঁজ করার সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ করেছে। তাদের যুক্তি, যুবরাজ নিজে সরাসরি হত্যার আদেশ দেননি হলেও তিনি তার অধীনস্থদের মাধ্যমে খাশোগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।

ফরাসি আপিল আদালত ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে বলেনি। পিএনএটি নিশ্চিত করেছে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত ইউনিটের একজন তদন্তকারী বিচারক এখন অভিযোগটি পরীক্ষা করবেন। অবশ্য ডিএডব্লিউএন শেষ পর্যন্ত মামলায় সরাসরি পার্টি হতে পারেনি, তবু সংস্থাটি এই পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

এই নতুন আইনি পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে জোরদার করে। তবে এখনও তদন্ত চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ফরাসি বিচার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।