০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫ দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু — একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী পাবেন উচ্চগতির ইন্টারনেট শাহরাস্তিতে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান চাঁদপুর শাহরাস্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সমাবেশ হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু ঋণের জালে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি — কর বাড়ছে জনগণের কাঁধে

কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

তীব্র রাজনৈতিক সংকট, মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহ এবং দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘ অস্থিরতার ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বলেছেন। বিষয়টি প্রথম আলোচনায় উঠে এসেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনেও। তিনি নিকটতম বন্ধুদের জানান, প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে—এটা স্টারমার নিজেও উপলব্ধি করেছেন। মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘কিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এই বিশৃঙ্খলা আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি মর্যাদাপূর্ণভাবে বিদায় নিতে চান এবং তার নিজের পছন্দমতো প্রক্রিয়া বজায় রাখতে চান। খুব শিগগিরই তিনি পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করবেন।’’

কবে এই ঘোষণা হবে তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্টারমারের কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র পরামর্শ দিয়েছেন, আদপে এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনের প্রথম দফার জনমত জরিপের ফল পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অন্যদিকে, সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ চেষ্টা করতে বলেছেন।

মন্ত্রিসভার এক সমর্থক সতর্ক করে বলেন, উপনির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা স্টারমারের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ—কারণ তা তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

এদিকে মঞ্চেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম মেকারফিল্ড উপনির্বাচন থেকে আবারও সংসদে প্রবেশের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বার্নহামের শিবিরের ধারণা, যদি স্টারমার ১৮ জুনের উপনির্বাচনের আগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে তাদের প্রচারণার মুখ্য বার্তা—‘‘বার্নহামকে ভোট দিন, তিনি লন্ডনে গিয়ে স্টারমারকে টেনে নামাবেন’’—প্রভাবিত হতে পারে।

গত এক সপ্তাহে ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরের পরিবেশ ছিল তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। গত সোমবার কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী একযোগে পদত্যাগ করলে স্টারমার বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র মন্ত্রিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ব্রিফিং তাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

স্টারমার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ‘‘আমি সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করছি, অথচ অনেকেই পেছন থেকে আমার পিঠে ছুরিকাঘাত করছে।’’ তাদের আরও জানান যে এই মনোচিন্তা ও ক্রোধ তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

সবচেয়ে বড় আঘাত আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং স্টারমারের সাবেক প্রধান পরিকল্পনাকরী জশ সাইমন্স থেকে। সাইমন্স দ্য টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে সরাসরি জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না প্রধানমন্ত্রী এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন; দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছেন—ইতিমধ্যে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করাই উত্তম উপায়।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন সমর্থক বলছেন, অনেক মন্ত্রী মুখে সমর্থন জানালেও গোপনে তারা তাদের উপদেষ্টাদের পাঠিয়ে এমপিদের কাছে পৌঁছচ্ছেন যেন তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। কেউ কেউ নতুন সরকারের মন্ত্রিত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে ইতোমধ্যেই পদ ভাগাভাগির আলোচনা শুরু করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুইটি ঘটনা স্টারমারের বিদায়কে আরও নিশ্চিত করেছে। প্রথমত, চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়ে কথা বলার সময় বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা থেকে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য মনে করছেন তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে জশ সাইমন্স মেকারফিল্ড আসনটি ছেড়ে দেন যাতে অ্যান্ডি বার্নহাম সেখানে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন।

ডাউনিং স্ট্রিট বার্নহামের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও দলের ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল তিন ঘণ্টার নাটকীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বার্নহামের মনোনয়ন নিশ্চিত করে স্টারমার শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন।

ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন হারানোর প্রেক্ষিতে স্টারমারের সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক পরিসরে বড় প্রভাব ফেলবে—দলের অভ্যন্তরীণ গঠন, উপনির্বাচনের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে। তিনি কখন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করবেন, তা সামনে কয়েক দিনের বিষয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি

কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

তীব্র রাজনৈতিক সংকট, মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহ এবং দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘ অস্থিরতার ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বলেছেন। বিষয়টি প্রথম আলোচনায় উঠে এসেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনেও। তিনি নিকটতম বন্ধুদের জানান, প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে—এটা স্টারমার নিজেও উপলব্ধি করেছেন। মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘কিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এই বিশৃঙ্খলা আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি মর্যাদাপূর্ণভাবে বিদায় নিতে চান এবং তার নিজের পছন্দমতো প্রক্রিয়া বজায় রাখতে চান। খুব শিগগিরই তিনি পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করবেন।’’

কবে এই ঘোষণা হবে তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্টারমারের কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র পরামর্শ দিয়েছেন, আদপে এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনের প্রথম দফার জনমত জরিপের ফল পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অন্যদিকে, সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ চেষ্টা করতে বলেছেন।

মন্ত্রিসভার এক সমর্থক সতর্ক করে বলেন, উপনির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা স্টারমারের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ—কারণ তা তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

এদিকে মঞ্চেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম মেকারফিল্ড উপনির্বাচন থেকে আবারও সংসদে প্রবেশের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বার্নহামের শিবিরের ধারণা, যদি স্টারমার ১৮ জুনের উপনির্বাচনের আগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে তাদের প্রচারণার মুখ্য বার্তা—‘‘বার্নহামকে ভোট দিন, তিনি লন্ডনে গিয়ে স্টারমারকে টেনে নামাবেন’’—প্রভাবিত হতে পারে।

গত এক সপ্তাহে ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরের পরিবেশ ছিল তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। গত সোমবার কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী একযোগে পদত্যাগ করলে স্টারমার বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র মন্ত্রিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ব্রিফিং তাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

স্টারমার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ‘‘আমি সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করছি, অথচ অনেকেই পেছন থেকে আমার পিঠে ছুরিকাঘাত করছে।’’ তাদের আরও জানান যে এই মনোচিন্তা ও ক্রোধ তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

সবচেয়ে বড় আঘাত আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং স্টারমারের সাবেক প্রধান পরিকল্পনাকরী জশ সাইমন্স থেকে। সাইমন্স দ্য টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে সরাসরি জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না প্রধানমন্ত্রী এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন; দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছেন—ইতিমধ্যে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করাই উত্তম উপায়।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন সমর্থক বলছেন, অনেক মন্ত্রী মুখে সমর্থন জানালেও গোপনে তারা তাদের উপদেষ্টাদের পাঠিয়ে এমপিদের কাছে পৌঁছচ্ছেন যেন তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। কেউ কেউ নতুন সরকারের মন্ত্রিত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে ইতোমধ্যেই পদ ভাগাভাগির আলোচনা শুরু করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুইটি ঘটনা স্টারমারের বিদায়কে আরও নিশ্চিত করেছে। প্রথমত, চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়ে কথা বলার সময় বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা থেকে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য মনে করছেন তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে জশ সাইমন্স মেকারফিল্ড আসনটি ছেড়ে দেন যাতে অ্যান্ডি বার্নহাম সেখানে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন।

ডাউনিং স্ট্রিট বার্নহামের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও দলের ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল তিন ঘণ্টার নাটকীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বার্নহামের মনোনয়ন নিশ্চিত করে স্টারমার শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন।

ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন হারানোর প্রেক্ষিতে স্টারমারের সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক পরিসরে বড় প্রভাব ফেলবে—দলের অভ্যন্তরীণ গঠন, উপনির্বাচনের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে। তিনি কখন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করবেন, তা সামনে কয়েক দিনের বিষয়।