০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

চাঁদপুরে তারেক রহমান: নির্বাচনী অঙ্গীকার ভঙ্গের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে মানুষ

চাঁদপুরে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা—সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির যে কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ প্রতিহত করবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন খাল পুনঃখননের উদ্বোধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন যতদিন থাকবে আমরা বিএনপি ও দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব; একদল বিভ্রান্তিকর লোকই এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ‘‘যেখানে খাল খনন শুরু করেছি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি, বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি—এসবকেই তারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণই তাদের পরিকল্পনা রুখে দেবে,’’ তিনি বলেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতনভাবে বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই সরকার যা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, এক এক করে তা বাস্তবায়ন করবে—এটাই তাঁর প্রতিজ্ঞা। যারা বাধা দিতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে জনগণ নিজেই সোচ্চার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী সমাবেশে বারবার সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন যাতে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদান ও বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মতো কর্মসূচিগুলো কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ‘‘আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—সচেতন ও এলার্ট থাকব, বিভ্রান্তিকর ফাঁদে পা দেব না,’’ তিনি বলেন।

প্রতিষ্ঠানগত কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী—হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘটনাভিত্তিক মানবিক মুহূর্তও ঘটেছে। দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজার এলাকার ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখননের ফলক উন্মোচনের পর নিজে কোদাল নিয়ে মাটি কাটেন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে খাল খনন করেছিলেন, ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনরায় খনন হচ্ছে—এ মন্তব্যও তিনি করেন।

সমাবেশে এক সাধারণ কৃষক সাইফুল ইসলাম লিটনকে ডেকে নিজের পাশে বসিয়ে কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক আচরণে আবেগভিমুখ হয়ে পড়েন কৃষকটি; তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে নিজের কথা সরাসরি জানাতে পারা তার জন্য স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, এমপি মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লা ভ্রমণ ও পথসভায় তিনি জানান, জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে—যদি তা জনগণের দাবি হয়। বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের দেয়া ম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ করে এবং সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর আগমনে করতালি ও উল্লাস প্রকাশ করেন।

সমগ্র বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পুনরাবৃত্তি, দেশের পুনর্গঠনই এখন প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন; এখন সন্তানদের দায়িত্ব দেশের মান উন্নয়ন করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা—এই প্রত্যয় নিয়েই সরকার এগোচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

চাঁদপুরে তারেক রহমান: নির্বাচনী অঙ্গীকার ভঙ্গের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে মানুষ

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চাঁদপুরে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা—সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির যে কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ প্রতিহত করবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন খাল পুনঃখননের উদ্বোধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন যতদিন থাকবে আমরা বিএনপি ও দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব; একদল বিভ্রান্তিকর লোকই এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ‘‘যেখানে খাল খনন শুরু করেছি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি, বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি—এসবকেই তারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণই তাদের পরিকল্পনা রুখে দেবে,’’ তিনি বলেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতনভাবে বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই সরকার যা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, এক এক করে তা বাস্তবায়ন করবে—এটাই তাঁর প্রতিজ্ঞা। যারা বাধা দিতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে জনগণ নিজেই সোচ্চার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী সমাবেশে বারবার সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন যাতে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদান ও বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মতো কর্মসূচিগুলো কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ‘‘আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—সচেতন ও এলার্ট থাকব, বিভ্রান্তিকর ফাঁদে পা দেব না,’’ তিনি বলেন।

প্রতিষ্ঠানগত কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী—হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘটনাভিত্তিক মানবিক মুহূর্তও ঘটেছে। দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজার এলাকার ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখননের ফলক উন্মোচনের পর নিজে কোদাল নিয়ে মাটি কাটেন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে খাল খনন করেছিলেন, ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনরায় খনন হচ্ছে—এ মন্তব্যও তিনি করেন।

সমাবেশে এক সাধারণ কৃষক সাইফুল ইসলাম লিটনকে ডেকে নিজের পাশে বসিয়ে কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক আচরণে আবেগভিমুখ হয়ে পড়েন কৃষকটি; তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে নিজের কথা সরাসরি জানাতে পারা তার জন্য স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, এমপি মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লা ভ্রমণ ও পথসভায় তিনি জানান, জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে—যদি তা জনগণের দাবি হয়। বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের দেয়া ম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ করে এবং সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর আগমনে করতালি ও উল্লাস প্রকাশ করেন।

সমগ্র বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পুনরাবৃত্তি, দেশের পুনর্গঠনই এখন প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন; এখন সন্তানদের দায়িত্ব দেশের মান উন্নয়ন করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা—এই প্রত্যয় নিয়েই সরকার এগোচ্ছে।