১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এভারেস্টে নতুন মাইলফলক: কামি রিতা ৩২তম, লাখপা শেরপা নারীদের মধ্যে ১১তম

নেপালের দুই অভিজ্ঞ পর্বতারোহী এভারেস্টে নতুন রেকর্ড করে আবারও দেশের গৌরব বাড়িয়েছেন। গত রোববার কামি রিতা শেরপা ৩২তমবার এভারেস্টের চূড়ায় উঠেন এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন। একই সময়ে লাখপা শেরপা ১১তমবার চূড়ায় পৌঁছে নারীদের মধ্যে নিজের এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন—বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম ঘটনাটি “নেপালের পর্বতারোহণ ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক” হিসেবে бағায়। তিনি বলেন, “তাদের এই রেকর্ড অন্য পর্বতারোহীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি করবে। এভারেস্টে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেকর্ড গড়লে পর্বতারোহণ আরও নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুসংগঠিত হবে।”

কামি রিতা শেরপা (৫৬) প্রথমবার ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক অভিযানের সদস্য হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকে তিনি প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই গাইড হিসেবে পাহাড়ে উঠেছেন এবং পর্বতারোহণের দীর্ঘ अनुभव ও ধৈর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। রিতা নিজে আগে বলেছেন যে তিনি মূলত কাজ করছেন; রেকর্ড গড়া তার উদ্দেশ্য না—তবুও তিনি ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্ব উদাহরণ স্থাপন করছেন।

লাখপা শেরপা (৫২), যিনি ‘মাউন্টেন কুইন’ নামে পরিচিত, ২০০০ সালে প্রথমবার এভারেস্টের শীর্ষে উঠেন। তিনি দেশের নারী পর্বতারোহীদের মধ্যে এক অনন্য মর্যাদা কায়েম করেছেন এবং এবার নারীদের মধ্যে এভারেস্ট অভিযানের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে রেকর্ড ভাঙছেন।

১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে শেরপার প্রথম এভারেস্ট জয়ের পর থেকেই পর্বতারোহণ নেপালের জন্য একটি লাভজনক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। প্রতি মৌসুমেই বিদেশী ও দেশীয় অভিযাত্রী দল, গাইড ও সহায়ক কর্মীরা এভারের পাদদেশে বড় আকারের শিবির গড়ে তুলেন।

চলতি মৌসুমে নেপাল সরকার মোট ৪৯২টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে—এটি চলমান মরসুমে আরোহণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক অনুমতিপত্র। ফলে প্রতি বছরই এভারেস্টের পাদদেশে হাজারও পর্বতারোহী ও সহায়ক কর্মীর জট চিত্রিত হয়, তাতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও বেড়ে যায়।

এই মৌসুমে কামি রিতা ও লাখপা শেরপার সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়—এটি নেপালের পর্বতারোহণ কমিউনিটির এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগি মনোভাব নতুন প্রজন্মের পর্বতারোহীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সম্মানজনক অভিযানের বার্তা ছড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এভারেস্টে নতুন মাইলফলক: কামি রিতা ৩২তম, লাখপা শেরপা নারীদের মধ্যে ১১তম

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নেপালের দুই অভিজ্ঞ পর্বতারোহী এভারেস্টে নতুন রেকর্ড করে আবারও দেশের গৌরব বাড়িয়েছেন। গত রোববার কামি রিতা শেরপা ৩২তমবার এভারেস্টের চূড়ায় উঠেন এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন। একই সময়ে লাখপা শেরপা ১১তমবার চূড়ায় পৌঁছে নারীদের মধ্যে নিজের এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন—বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম ঘটনাটি “নেপালের পর্বতারোহণ ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক” হিসেবে бағায়। তিনি বলেন, “তাদের এই রেকর্ড অন্য পর্বতারোহীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি করবে। এভারেস্টে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেকর্ড গড়লে পর্বতারোহণ আরও নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুসংগঠিত হবে।”

কামি রিতা শেরপা (৫৬) প্রথমবার ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক অভিযানের সদস্য হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকে তিনি প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই গাইড হিসেবে পাহাড়ে উঠেছেন এবং পর্বতারোহণের দীর্ঘ अनुभव ও ধৈর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। রিতা নিজে আগে বলেছেন যে তিনি মূলত কাজ করছেন; রেকর্ড গড়া তার উদ্দেশ্য না—তবুও তিনি ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্ব উদাহরণ স্থাপন করছেন।

লাখপা শেরপা (৫২), যিনি ‘মাউন্টেন কুইন’ নামে পরিচিত, ২০০০ সালে প্রথমবার এভারেস্টের শীর্ষে উঠেন। তিনি দেশের নারী পর্বতারোহীদের মধ্যে এক অনন্য মর্যাদা কায়েম করেছেন এবং এবার নারীদের মধ্যে এভারেস্ট অভিযানের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে রেকর্ড ভাঙছেন।

১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে শেরপার প্রথম এভারেস্ট জয়ের পর থেকেই পর্বতারোহণ নেপালের জন্য একটি লাভজনক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। প্রতি মৌসুমেই বিদেশী ও দেশীয় অভিযাত্রী দল, গাইড ও সহায়ক কর্মীরা এভারের পাদদেশে বড় আকারের শিবির গড়ে তুলেন।

চলতি মৌসুমে নেপাল সরকার মোট ৪৯২টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে—এটি চলমান মরসুমে আরোহণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক অনুমতিপত্র। ফলে প্রতি বছরই এভারেস্টের পাদদেশে হাজারও পর্বতারোহী ও সহায়ক কর্মীর জট চিত্রিত হয়, তাতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও বেড়ে যায়।

এই মৌসুমে কামি রিতা ও লাখপা শেরপার সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়—এটি নেপালের পর্বতারোহণ কমিউনিটির এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগি মনোভাব নতুন প্রজন্মের পর্বতারোহীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সম্মানজনক অভিযানের বার্তা ছড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।