০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কামি রিতা ৩২তম, লাখপা ১১তম—এভারেস্টে শেরপাদের নতুন রেকর্ড

নেপালের কিংবদন্তি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপা গত রোববার এভারেস্টের চূড়ায় উঠে ৩২তমবারের রেকর্ড আরও সামনে বাড়িয়েছেন। একই সময়ে লাখপা শেরপা ১১তমবার চূড়ায় পৌঁছিয়ে নারীদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব রেকর্ড টপকে দিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

নেপাল পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম এই কৃতিত্বকে ‘নেপালের পর্বতারোহণের ইতিহাসে একটি মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা অন্য পর্বতারোহীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জাগাতে পারবেন। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেকর্ড গড়লে এভারেস্টে অভিযান আরও নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুসংগঠিত হবে।’’

কামি রিতা শেরপা (৫৬) প্রথমবার ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক অভিযানের সদস্য হিসবে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রায় প্রতিবারই পর্বতারোহীদের গাইড হিসেবে চূড়ায় উঠে অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয়ের পর কামি রিতা নিজে বলেছিলেন, তিনি শুধু কাজ করছেন এবং রেকর্ড গড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

লাখপা শেরপা (৫২), যাকে সাধারণত ‘মাউন্টেন কুইন’ হিসেবে ডাকা হয়, প্রথমবার ২০০০ সালে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। তিনি ছিলেন প্রথম নেপালি নারী যিনি এভারেস্ট জয় করে নিরাপদে নিচে ফিরতে পেরেছিলেন। এবার ১১তমবার চূড়ায় ওঠায় তিনি নারীদের মধ্যে নিজেদের রেকর্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে শেরপার প্রথম এভারেস্ট জয় ইতিহাসে নেমে আসার পর থেকে পর্বতারোহণ নেপালের জন্য একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে এভারেস্টে আরোহণের জন্য নেপাল সরকার রেকর্ড সংখ্যক ৪৯২টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে, ফলে পর্বতারোহী ও সহায়তাকারীদের নিয়ে চুড়ার পাদদেশে একটি বিশাল তাঁবুর শহর তৈরি হয়েছে।

বিশ্বভ্রমণ ও পর্বতারোহণের এই ব্যস্ত মরসুমে কামি রিতা ও লাখপা শেরপার মতো অভিজ্ঞ শেরপাদের ধারাবাহিক সফলতায় স্থানীয় গাইডিং কমিউনিটি ও ভবিষ্যৎ পর্বতারোহীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা গেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকার এগোচ্ছে, জুনে পরামর্শক কমিটি

কামি রিতা ৩২তম, লাখপা ১১তম—এভারেস্টে শেরপাদের নতুন রেকর্ড

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নেপালের কিংবদন্তি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপা গত রোববার এভারেস্টের চূড়ায় উঠে ৩২তমবারের রেকর্ড আরও সামনে বাড়িয়েছেন। একই সময়ে লাখপা শেরপা ১১তমবার চূড়ায় পৌঁছিয়ে নারীদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব রেকর্ড টপকে দিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

নেপাল পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম এই কৃতিত্বকে ‘নেপালের পর্বতারোহণের ইতিহাসে একটি মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা অন্য পর্বতারোহীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জাগাতে পারবেন। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেকর্ড গড়লে এভারেস্টে অভিযান আরও নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুসংগঠিত হবে।’’

কামি রিতা শেরপা (৫৬) প্রথমবার ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক অভিযানের সদস্য হিসবে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রায় প্রতিবারই পর্বতারোহীদের গাইড হিসেবে চূড়ায় উঠে অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয়ের পর কামি রিতা নিজে বলেছিলেন, তিনি শুধু কাজ করছেন এবং রেকর্ড গড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

লাখপা শেরপা (৫২), যাকে সাধারণত ‘মাউন্টেন কুইন’ হিসেবে ডাকা হয়, প্রথমবার ২০০০ সালে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। তিনি ছিলেন প্রথম নেপালি নারী যিনি এভারেস্ট জয় করে নিরাপদে নিচে ফিরতে পেরেছিলেন। এবার ১১তমবার চূড়ায় ওঠায় তিনি নারীদের মধ্যে নিজেদের রেকর্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে শেরপার প্রথম এভারেস্ট জয় ইতিহাসে নেমে আসার পর থেকে পর্বতারোহণ নেপালের জন্য একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে এভারেস্টে আরোহণের জন্য নেপাল সরকার রেকর্ড সংখ্যক ৪৯২টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে, ফলে পর্বতারোহী ও সহায়তাকারীদের নিয়ে চুড়ার পাদদেশে একটি বিশাল তাঁবুর শহর তৈরি হয়েছে।

বিশ্বভ্রমণ ও পর্বতারোহণের এই ব্যস্ত মরসুমে কামি রিতা ও লাখপা শেরপার মতো অভিজ্ঞ শেরপাদের ধারাবাহিক সফলতায় স্থানীয় গাইডিং কমিউনিটি ও ভবিষ্যৎ পর্বতারোহীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা গেছে।