০৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ হামের টিকা ঘাটতি: ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিলেন চলতি ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা চলতি ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়ালো ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা সেবা দেওয়া করুণা নয়, সরকারের মৌলিক দায়িত্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী সেবা জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতায় টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান চিফ হুইপ: গণতন্ত্র ছাড়া কোনও উন্নয়ন সম্ভব নয়

পদ্মা ছাড়াও তিস্তা ব্যারেজও করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার শুধু পদ্মা ব্যারেজই নয়, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করবে। শুকনো মৌসুমে অনাবৃষ্ট সময়ে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ বজায় রাখতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ করা হবে—এটাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। তিনি এই বক্তব্য দেন বুধবার (২০ মে) বিকালে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে বলেন, মাটির নিচে পানি কমে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির রিপ্লেনিশিং হচ্ছে না, ফলে কৃষকরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এ সমস্যা মোকাবিলায় খাল ও নদী খনন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে, যা শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, খাল-নদীর খনন ও বর্ষার অতিরিক্ত পানি সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও আগামী ২০ বছরে ভূগর্ভস্থ পানি পুরোদমে পুনরায় মেলে না। তাই পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের মতো স্থায়ী অবকাঠামো দরকার।

নির্মাণাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সম্পর্কে তিনি জানান, এখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানুষসৃষ্ট পরিবর্তনের কারণে যে ঝুঁকি বাড়ছে, তা মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী পুকুরে মাছ অবমুক্ত করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন। অনুষ্ঠানের লোকেশনে টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সমাবেশে তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ডিসিপ্লিন মেনে চলাই কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি। এসব মানা না হলে জনমনে আস্থা কমে যায়।

তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে জাপানি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, আধুনিক ওয়েল্ডিংসহ সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর ফলে এই বাহিনী প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক কর্মদক্ষ শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আনসার-ভিডিপি এখন একটি বিশ্বাসযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপন্ডার’ বাহিনী হিসেবে গণ্য। পাশাপাশি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্লান্টের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করায় টেকসই উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাফল্যের কথাও স্মরণ করেন। তিনবার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি—এসব কৃতিত্ব দেশের বিরুদ্ধে বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। খেলোয়াড়দের পেশাগত স্তরে উন্নীত করতে সরকার স্পোর্টস কার্ড ও বেতন কাঠামো প্রবর্তন করেছে; আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদ এ সুবিধা পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আনসার বাহিনীর অবদানের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন—তাদের কৃতজ্ঞতাসহ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সহ সংসদ সদস্য ও উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওই সমাবেশে বুধবার সকাল ১০টায় যোগ দেন; তিনি শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন। সফিপুরে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর পরিচর্যায় উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’

পদ্মা ছাড়াও তিস্তা ব্যারেজও করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার শুধু পদ্মা ব্যারেজই নয়, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করবে। শুকনো মৌসুমে অনাবৃষ্ট সময়ে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ বজায় রাখতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ করা হবে—এটাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। তিনি এই বক্তব্য দেন বুধবার (২০ মে) বিকালে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে বলেন, মাটির নিচে পানি কমে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির রিপ্লেনিশিং হচ্ছে না, ফলে কৃষকরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এ সমস্যা মোকাবিলায় খাল ও নদী খনন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে, যা শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, খাল-নদীর খনন ও বর্ষার অতিরিক্ত পানি সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও আগামী ২০ বছরে ভূগর্ভস্থ পানি পুরোদমে পুনরায় মেলে না। তাই পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের মতো স্থায়ী অবকাঠামো দরকার।

নির্মাণাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সম্পর্কে তিনি জানান, এখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানুষসৃষ্ট পরিবর্তনের কারণে যে ঝুঁকি বাড়ছে, তা মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী পুকুরে মাছ অবমুক্ত করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন। অনুষ্ঠানের লোকেশনে টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সমাবেশে তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ডিসিপ্লিন মেনে চলাই কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি। এসব মানা না হলে জনমনে আস্থা কমে যায়।

তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে জাপানি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, আধুনিক ওয়েল্ডিংসহ সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর ফলে এই বাহিনী প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক কর্মদক্ষ শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আনসার-ভিডিপি এখন একটি বিশ্বাসযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপন্ডার’ বাহিনী হিসেবে গণ্য। পাশাপাশি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্লান্টের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করায় টেকসই উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাফল্যের কথাও স্মরণ করেন। তিনবার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি—এসব কৃতিত্ব দেশের বিরুদ্ধে বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। খেলোয়াড়দের পেশাগত স্তরে উন্নীত করতে সরকার স্পোর্টস কার্ড ও বেতন কাঠামো প্রবর্তন করেছে; আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদ এ সুবিধা পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আনসার বাহিনীর অবদানের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন—তাদের কৃতজ্ঞতাসহ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সহ সংসদ সদস্য ও উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওই সমাবেশে বুধবার সকাল ১০টায় যোগ দেন; তিনি শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন। সফিপুরে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর পরিচর্যায় উপস্থিত ছিলেন।