০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ হামের টিকা ঘাটতি: ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিলেন চলতি ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা চলতি ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়ালো ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা সেবা দেওয়া করুণা নয়, সরকারের মৌলিক দায়িত্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী সেবা জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতায় টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান চিফ হুইপ: গণতন্ত্র ছাড়া কোনও উন্নয়ন সম্ভব নয়

২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ

দেশের দুর্যোগপ্রবণ, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষদের সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। মোটা লক্ষ্য—বেশি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় নিয়ে এসে মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামাজিক নিরাপত্তা বিস্তারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন—এমনটিই মন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া জরুরি বৈঠকে জানানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সুরক্ষা জাল আরো সুদৃঢ় করার কৌশল আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্তে আনা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করবে—যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৩–১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এসব বরাদ্দের মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ—অর্থাৎ উপকারভোগীর সংখ্যা এক কোটি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোকে সারাদেশে কাজে লাগানোর ওপর। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে আলাদাভাবে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই টাকা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে খরচ করা হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল—সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কোনো টাকা অপচয় বা অনিয়মে যাওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির বাইরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর মাসিক সহায়তা-এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বদানে জোর দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানী ও স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য সম্মানী কাঠামোও বিশেষ তহবিল থেকে দেয়া হবে।

বিশাল পরিসরে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনেকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা হবে—এটাও বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদিত। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্যবান্ধবতা, কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর রাখা হয়েছে।

বিচারকরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়—কার্যকর লক্ষ্যচিহ্নন এবং বণ্টন ব্যবস্থাও ঠিক রাখতে হবে। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন, ‘‘যে মানুষগুলো প্রকৃতই সমস্যায় পরে আছে, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে সামাজিক নিরাপত্তায় ছড়ানো অর্থের অর্ধেকই ভ্রান্তভাবে গেলে কার্যকারিতা কমে যায়।’’

অর্থনীতিবিদ ও বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করান, সরকারি ব্যয় যখন বাড়ে তখন সেটাকে উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগ করতে হবে—শুধু বাড়তি বেতন বা ভাতার ওপর খরচ করে তা অর্থনৈতিক গতিশীলতা ঘতিয়ে ফেলবে। তাঁর মতে, বরাদ্দের মধ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ গঠনে এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে বেশি জোর দেয়া উচিত।

মোটকথা, আসন্ন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা—তারা সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে বরাদ্দ বৃদ্ধি, নতুন অন্তর্ভুক্তি ও ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’

২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দেশের দুর্যোগপ্রবণ, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষদের সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। মোটা লক্ষ্য—বেশি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় নিয়ে এসে মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামাজিক নিরাপত্তা বিস্তারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন—এমনটিই মন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া জরুরি বৈঠকে জানানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সুরক্ষা জাল আরো সুদৃঢ় করার কৌশল আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্তে আনা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করবে—যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৩–১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এসব বরাদ্দের মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ—অর্থাৎ উপকারভোগীর সংখ্যা এক কোটি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোকে সারাদেশে কাজে লাগানোর ওপর। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে আলাদাভাবে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই টাকা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে খরচ করা হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল—সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কোনো টাকা অপচয় বা অনিয়মে যাওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির বাইরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর মাসিক সহায়তা-এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বদানে জোর দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানী ও স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য সম্মানী কাঠামোও বিশেষ তহবিল থেকে দেয়া হবে।

বিশাল পরিসরে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনেকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা হবে—এটাও বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদিত। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্যবান্ধবতা, কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর রাখা হয়েছে।

বিচারকরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়—কার্যকর লক্ষ্যচিহ্নন এবং বণ্টন ব্যবস্থাও ঠিক রাখতে হবে। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন, ‘‘যে মানুষগুলো প্রকৃতই সমস্যায় পরে আছে, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে সামাজিক নিরাপত্তায় ছড়ানো অর্থের অর্ধেকই ভ্রান্তভাবে গেলে কার্যকারিতা কমে যায়।’’

অর্থনীতিবিদ ও বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করান, সরকারি ব্যয় যখন বাড়ে তখন সেটাকে উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগ করতে হবে—শুধু বাড়তি বেতন বা ভাতার ওপর খরচ করে তা অর্থনৈতিক গতিশীলতা ঘতিয়ে ফেলবে। তাঁর মতে, বরাদ্দের মধ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ গঠনে এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে বেশি জোর দেয়া উচিত।

মোটকথা, আসন্ন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা—তারা সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে বরাদ্দ বৃদ্ধি, নতুন অন্তর্ভুক্তি ও ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে।