আগামী মাসে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে মিসর। অধিনায়ক মোহামেদ সালাহকে নেতৃত্বে রেখে ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বার্সেলোনা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ তুর্কি হামজা আবদেলকরিম। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এই কিশোর ফরোয়ার্ডকে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে, বিস্ময়ের বিষয় হিসেবে ফরাসি ক্লাব নঁতের ফরোয়ার্ড মোস্তফা মোহামেদকে দল থেকে রাখা হয়নি। তার দল থেকে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা তার সাম্প্রতিক হতাশাজনক ফর্মকে প্রধানভাবে দেখছেন — লিগ ওয়ানে নঁতের হয়ে ২৪ ম্যাচে মাত্র চার গোল করেছেন তিনি এবং তার ক্লাব সেই মৌসুমে অবনমিত হয়েছে।
হামজা আবদেলকরিমের inclusion কে কোচ হোসাম হাসান এক তরুণ প্রতিভার প্রতি সম্ভাবনার ভোট হিসেবে দেখেছেন। বার্সার যুব দলে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই তিনি আক্রমণে নতুন গতিশীলতা যোগ করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। মাঝেই রয়েছে স্যালাহ — জাতীয় দলের আক্রমণের মূল চালক হিসেবে তিনি এবং নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ (ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলছেন বলে ঘোষিত) আক্রমণভাগ সামলাবেন।
কোচ হোসাম হাসান আপাতত ২৭ জনকে রেখেছেন, কিন্তু ফিফার নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত আসরের স্কোয়াড ২৬ জন হবে। আগামী ২৮ মে রাজধানী কায়রোতে রাশিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে নামবে মিসর; ওই ম্যাচের পর একজন খেলোয়াড় বাদ দিয়ে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। বিশ্বকাপ সংবাদসূচিতে থাকার আগেই দলের সমন্বয় ও প্রস্তুতি টেস্ট করার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ নির্ধারণ করা হয়েছে — ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মিশর মাঠে নামবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে মিসর তাদের অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন সিয়াটেলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো হবে ২১ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারে এবং ২৬ জুন ইরানের বিপক্ষে সিয়াটেলে।
ঘোষিত স্কোয়াডে রক্ষণভাগে অভিজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন মোহামেদ হানি, রামি রাবিয়া ও মোহামেদ আবদেলমোনেম। মধ্যমাঠের দায়িত্বে থাকবেন মারওয়ান আতেয়া, আহমেদ জিজো ও এমাম আশুরের মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়রা। কোচ মূলত তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের চেষ্টা করেছেন, যা মূল টুর্নামেন্টে মিসরের সম্ভাব্য সাফল্য নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশাবাদী ভক্ত ও বিশ্লেষকরা।
সামগ্রিকভাবে, সালাহর অভিজ্ঞতা, মারমুশের আক্রমণগত শক্তি এবং হামজার মতো নতুনদের উদ্যম মিশিয়ে মিসর একটি আকর্ষণীয় এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলের ছাপ রাখার চেষ্টা করছে। আগামী কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ ও চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপে তাদের প্রকৃত সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























