০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ হিলবাকী ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা — নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত পল্লবীর রামিসা হত্যায় প্রধান আসামি সোহেল নৃশংস স্বীকারোক্তি রামিসা হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন—ডিবি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সংকেত ইপিআই’র সঙ্গে নিয়মিতভাবে হামের টিকা চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাটছাঁট সত্ত্বেও প্রয়োজন ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ

সবুজ অর্থনীতির পথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া — প্রধান বাধা: গ্রিড সক্ষমতা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবুজ শিল্পপার্ক, ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুচালিত যানবাহনের দ্রুত প্রসারে বিদ্যুতের চাহিদা অতিমাত্রায় বাড়ছে। বেইন অ্যান্ড কোম্পানি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এসব খাতে বিদ্যুতের চাহিদি তিন গুণ বাড়িয়ে ১০০ টেরাওয়াট ঘণ্টারও ওপর পৌঁছতে পারে — যা এ অঞ্চলের প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্পায়িত অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির স্পষ্ট সংকেত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী এই নতুন চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ খাতে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি (প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেই বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি দরকার হবে মূলত ডেটা সেন্টার ও তদসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। বর্তমানে এ অঞ্চলের সবুজ অর্থনীতির বাজারমূল্য প্রায় ২৯ হাজার কোটি ডলার (প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার) এবং চলতি ধারায় এটি আগামী চার বছরে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি ডলারে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিড সংযোগের দীর্ঘ সময়সীমা এড়াতে অনেক ডেটা সেন্টার পরিচালনকারী এখন অতিরিক্ত অর্থ বা প্রিমিয়াম দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিদ্যুৎ ও ইভি খাতের উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫৪ হাজার কোটি ডলার (প্রায় ৫৪০ বিলিয়ন ডলার) খরচের ঘোষণা দিলেও সেগুলো বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা বসে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর মাত্র ≈৬০% প্রকৃতপক্ষে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে; বাকিগুলো নানা কারণে আটকে বা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে আছে। মূলত স্পষ্ট সরকারি নীতিমালার অভাব এবং ধীরগতির বাস্তবায়নই বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস হরণ করছে।

সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে গ্রিড বা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা। গত পাঁচ বছরে সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৫০–৬০% নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। বিদ্যুত্ ক্রয়চুক্তির অস্পষ্টতা, সরকারি অনুমোদনের জটিলতা এবং গ্রিড সংযোগের কঠোর নীতিমালাই এ সমস্যার মূল কারণ বলে প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুই চোখে দেখা হিসাব বলছে, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত গ্রিড আধুনিকায়নে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ ঘাটতি দেখা যাবে, যা এ অঞ্চলকে টেকসইভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বাধা দিতে পারে।

প্রতিবেদনের সমাপনী বার্তা হলো—বিশ্ব আর্থিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে অনেক দেশ এখন পরিবেশ রক্ষার চেয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবু বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো গ্রিড আধুনিকায়নের গতিকে বিদ্যুতের চাহিদার সমপতন না করে, তা হলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও শক্তি সংকট неизিতভাবে ঘনীভূত হবে। তাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নই অপরিহার্য, বলে প্রতিবেদনের নীতিগত সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না

সবুজ অর্থনীতির পথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া — প্রধান বাধা: গ্রিড সক্ষমতা

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবুজ শিল্পপার্ক, ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুচালিত যানবাহনের দ্রুত প্রসারে বিদ্যুতের চাহিদা অতিমাত্রায় বাড়ছে। বেইন অ্যান্ড কোম্পানি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এসব খাতে বিদ্যুতের চাহিদি তিন গুণ বাড়িয়ে ১০০ টেরাওয়াট ঘণ্টারও ওপর পৌঁছতে পারে — যা এ অঞ্চলের প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্পায়িত অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির স্পষ্ট সংকেত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী এই নতুন চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ খাতে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি (প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেই বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি দরকার হবে মূলত ডেটা সেন্টার ও তদসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। বর্তমানে এ অঞ্চলের সবুজ অর্থনীতির বাজারমূল্য প্রায় ২৯ হাজার কোটি ডলার (প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার) এবং চলতি ধারায় এটি আগামী চার বছরে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি ডলারে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিড সংযোগের দীর্ঘ সময়সীমা এড়াতে অনেক ডেটা সেন্টার পরিচালনকারী এখন অতিরিক্ত অর্থ বা প্রিমিয়াম দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিদ্যুৎ ও ইভি খাতের উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫৪ হাজার কোটি ডলার (প্রায় ৫৪০ বিলিয়ন ডলার) খরচের ঘোষণা দিলেও সেগুলো বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা বসে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর মাত্র ≈৬০% প্রকৃতপক্ষে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে; বাকিগুলো নানা কারণে আটকে বা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে আছে। মূলত স্পষ্ট সরকারি নীতিমালার অভাব এবং ধীরগতির বাস্তবায়নই বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস হরণ করছে।

সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে গ্রিড বা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা। গত পাঁচ বছরে সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৫০–৬০% নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। বিদ্যুত্ ক্রয়চুক্তির অস্পষ্টতা, সরকারি অনুমোদনের জটিলতা এবং গ্রিড সংযোগের কঠোর নীতিমালাই এ সমস্যার মূল কারণ বলে প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুই চোখে দেখা হিসাব বলছে, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত গ্রিড আধুনিকায়নে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ ঘাটতি দেখা যাবে, যা এ অঞ্চলকে টেকসইভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বাধা দিতে পারে।

প্রতিবেদনের সমাপনী বার্তা হলো—বিশ্ব আর্থিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে অনেক দেশ এখন পরিবেশ রক্ষার চেয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবু বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো গ্রিড আধুনিকায়নের গতিকে বিদ্যুতের চাহিদার সমপতন না করে, তা হলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও শক্তি সংকট неизিতভাবে ঘনীভূত হবে। তাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নই অপরিহার্য, বলে প্রতিবেদনের নীতিগত সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়েছে।