০৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উদ্বোধন রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই রামিসা হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি বাতিল ঘোষণা—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন একটি জটিল ও স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছেছে এবং এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকসহ উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন। মন্ত্রী জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা ও সমর্থন জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এই সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত দৃষ্টিতে দেখা জরুরি। তিনি জাতিসংঘের শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মনোযোগে আনার কৃতিত্ব স্বীকার করে বলেন, তবে বাস্তব সমাধানের জন্য আরও ব্যাপক আর কার্যকর আন্তর্জাতিক তহবিল ও সহায়তার প্রয়োজন আছে। বর্তমানে কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে কিছু মানবিক প্রকল্প চলছে, কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানকে প্রসংশা করে বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষায় সেনা-রাজ্যে ও পুলিশের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এর ফলে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ও মর্যাদা বেড়েছে। তিনি জাতিসংঘকে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় প্রদত্ত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে উদারতা দেখিয়েছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি বাস্তবসম্মতভাবে উল্লেখ করেন যে, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর বোঝা বাংলাদেশ একা বহন করতে পারবে না; তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দৃঢ় মনোযোগ, কার্যকর চাপ ও দৃশ্যমান সহায়তা জরুরি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘকে বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনে সহায়তা বৃদ্ধির অনুরোধও জানান। দুই পক্ষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সচিব রেবেকা খান ও উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবাসিক সমন্বয়কারীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বাগত জানান এবং কর্তৃপক্ষ নতুন দায়িত্বের উপর শুভেচ্ছা জানান।

সভার সারমর্মে দুই পক্ষ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শক্তিশালীকরণ ও শান্তিরক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু

রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন একটি জটিল ও স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছেছে এবং এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকসহ উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন। মন্ত্রী জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা ও সমর্থন জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এই সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত দৃষ্টিতে দেখা জরুরি। তিনি জাতিসংঘের শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মনোযোগে আনার কৃতিত্ব স্বীকার করে বলেন, তবে বাস্তব সমাধানের জন্য আরও ব্যাপক আর কার্যকর আন্তর্জাতিক তহবিল ও সহায়তার প্রয়োজন আছে। বর্তমানে কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে কিছু মানবিক প্রকল্প চলছে, কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানকে প্রসংশা করে বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষায় সেনা-রাজ্যে ও পুলিশের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এর ফলে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ও মর্যাদা বেড়েছে। তিনি জাতিসংঘকে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় প্রদত্ত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে উদারতা দেখিয়েছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি বাস্তবসম্মতভাবে উল্লেখ করেন যে, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর বোঝা বাংলাদেশ একা বহন করতে পারবে না; তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দৃঢ় মনোযোগ, কার্যকর চাপ ও দৃশ্যমান সহায়তা জরুরি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘকে বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনে সহায়তা বৃদ্ধির অনুরোধও জানান। দুই পক্ষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সচিব রেবেকা খান ও উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবাসিক সমন্বয়কারীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বাগত জানান এবং কর্তৃপক্ষ নতুন দায়িত্বের উপর শুভেচ্ছা জানান।

সভার সারমর্মে দুই পক্ষ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শক্তিশালীকরণ ও শান্তিরক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।