০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের ছুটিতে প্রশাসনে বড় রদবদল: তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ইতোমধ্যেই দুই কোটি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন এডিবি বলছে: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সায়েদাবাদে ঈদযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ বন্ধুত্বের নিদর্শনে কুয়েতে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন

৭৯তম কান উৎসবে স্বর্ণপাম জিতল রোমানিয়ার ছবি ‘ফিওড’

৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম জেতা আনন্দঘন সংবাদ হয়ে ফিরেছে—রোমানীয় পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর নতুন ছবি ‘ফিওড’ সেই শিরোপা পেল। সমাপনী রাতে প্রধান জুরি সভাপতি কোরীয় নির্মাতা পাক চান-উক পুরস্কার ঘোষণা করেন। মুঙ্গিউর জন্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ওই সম্মান; ২০০৭ সালে তাঁর ‘৪ মান্থস, ৩ উইকস অ্যান্ড ২ ডে’ ছবির জন্য তিনি আগে থেকেই এই খ্যাতি অর্জন করে ছিলেন। পুরস্কার গ্রহণে মুঙ্গিউ ‘ফিওড’-কে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার গল্প হিসেবে উল্লেখ করে এসব মানবিক মূল্যবোধ বাস্তব জীবনে প্রয়োগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বিজয়ী ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে নরওয়ের এক ছোট গ্রামে নতুন জীবন শুরু করা রোমানিয়ান এক পরিবারের ওপর—হঠাৎ তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং রাজ্য শিশুগুলোকে হেফাজতে নিয়ে নেয়। নরওয়েজিয়ান সমাজের প্রগতিশীল ও সহনশীল চেহারার আড়ালে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সংঘাত কেমনভাবে কাজ করে, তা সিনেমাটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে অভিনীত এই ছবিটি প্রদর্শনীর সময় হলের দর্শকদের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ সঞ্চার করে; সমালোচকরা বলছেন, উদারনৈতিক সমাজের ভণ্ডামি এই ছবি অত্যন্ত সাহসী কণ্ঠে প্রশ্ন করেছে।

উৎসবের দ্বিতীয় প্রধান পুরস্কার গ্রাঁ প্রি পেলেন রুশ পরিচালক আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভ তাঁর চলচ্চিত্র ‘মিনোটর’-এর জন্য। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রেক্ষাপট ও একজন নির্মম ব্যবসায়ীর পারিবারিক সংকট নিয়ে নির্মিত এই ছবির জন্য নির্বাসনে থাকা পরিচালক পুরস্কার গ্রহণকালে ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান এবং শ্রোতাদের আবেগে ছুঁয়ে ফেলেন।

অভিনয়ে এবারের উৎসবে নজরশল্লা ছিল যৌথ পুরস্কারের প্রবণতায়। রিউসুকে হামাগুচির ‘অল অব আ সাডেন’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন তাও ওকামোতো ও ভার্জিনি এফিরা। সেরা অভিনেতার পুরস্কারও যৌথভাবে স্মরণীয় এক সিদ্ধান্তে লুকাস দন্তের ‘কাওয়ার্ড’ ছবির দুই অভিনেতা মাক্কিয়া ও ভ্যালোঁতাঁ কাম্পানিকে দেওয়া হয়।

পরিচালনা ও অন্যান্য বিভাগেও উৎসবে বৈচিত্র্যের ছাপ দেখা গেছে। ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’ ছবির জন্য জুরি পুরস্কার পেলেন। সেরা পরিচালকের সম্মান ভাগাভাগি করা হয়—উপহার পান পাওয়েল পাভলিকোভস্কি ও স্প্যানিশ জুটি হাভিয়ের আমব্রোসি ও হাভিয়ের কালভো। ইরানের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিষয়ভিত্তিক পেগাহ আহাঙ্গারানির ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের সম্মান অর্জন করে। রুয়ান্ডার ইতিহাসে এটি বিশেষ মুহূর্ত—মেরি-ক্লেমেন্টিন দুসাবেজাম্বোর ‘বেন ইমানা’ প্রথমবারের মতো দেশের নির্মিত ছবিরূপে ক্যামেরা দ’অর জিতে নেন, এবং তিনি এই জয় দেশের নারীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

এবারের কান উৎসব কেবল পুরস্কারই নয়, অনেক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও ছিল—নারী নির্মাতাদের প্রতিনিধিত্বের অভাব, বড় হলিউড স্টুডিওগুলোর অনুপস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিনেমায় বাড়তে থাকা ব্যবহার নিয়ে নানা বিতর্ক চলেছে। মূল প্রতিযোগিতার ২২টি ছবির মধ্যে মাত্র পাঁচটি নারী পরিচালিত ছিল—এ নিয়ে অভিনয় ও সমাজজगतের নামকরা ব্যক্তিত্বরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ১২ মে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে জন ট্রাভোল্টা ও কেট ব্ল্যানচেটের মতো তারকাদের উপস্থিতি ছিলকথিত আকর্ষণ, তবু এবারের আসল মনযোগ ছিল সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা জীবনমুখী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলোর প্রতি।

সামগ্রিকভাবে, ৭৯তম কানের চিত্রপট বলছে—আলোচ্য বিষয়গুলোই আজকের বিশ্ব চলচ্চিত্রকে গঠন করছে; মানবিক প্রশ্ন, নাগরিক অধিকার ও সিনেমার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তর্ক যেন পুরস্কারের মঞ্চকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের ছুটিতে প্রশাসনে বড় রদবদল: তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত

৭৯তম কান উৎসবে স্বর্ণপাম জিতল রোমানিয়ার ছবি ‘ফিওড’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম জেতা আনন্দঘন সংবাদ হয়ে ফিরেছে—রোমানীয় পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর নতুন ছবি ‘ফিওড’ সেই শিরোপা পেল। সমাপনী রাতে প্রধান জুরি সভাপতি কোরীয় নির্মাতা পাক চান-উক পুরস্কার ঘোষণা করেন। মুঙ্গিউর জন্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ওই সম্মান; ২০০৭ সালে তাঁর ‘৪ মান্থস, ৩ উইকস অ্যান্ড ২ ডে’ ছবির জন্য তিনি আগে থেকেই এই খ্যাতি অর্জন করে ছিলেন। পুরস্কার গ্রহণে মুঙ্গিউ ‘ফিওড’-কে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার গল্প হিসেবে উল্লেখ করে এসব মানবিক মূল্যবোধ বাস্তব জীবনে প্রয়োগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বিজয়ী ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে নরওয়ের এক ছোট গ্রামে নতুন জীবন শুরু করা রোমানিয়ান এক পরিবারের ওপর—হঠাৎ তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং রাজ্য শিশুগুলোকে হেফাজতে নিয়ে নেয়। নরওয়েজিয়ান সমাজের প্রগতিশীল ও সহনশীল চেহারার আড়ালে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সংঘাত কেমনভাবে কাজ করে, তা সিনেমাটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে অভিনীত এই ছবিটি প্রদর্শনীর সময় হলের দর্শকদের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ সঞ্চার করে; সমালোচকরা বলছেন, উদারনৈতিক সমাজের ভণ্ডামি এই ছবি অত্যন্ত সাহসী কণ্ঠে প্রশ্ন করেছে।

উৎসবের দ্বিতীয় প্রধান পুরস্কার গ্রাঁ প্রি পেলেন রুশ পরিচালক আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভ তাঁর চলচ্চিত্র ‘মিনোটর’-এর জন্য। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রেক্ষাপট ও একজন নির্মম ব্যবসায়ীর পারিবারিক সংকট নিয়ে নির্মিত এই ছবির জন্য নির্বাসনে থাকা পরিচালক পুরস্কার গ্রহণকালে ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান এবং শ্রোতাদের আবেগে ছুঁয়ে ফেলেন।

অভিনয়ে এবারের উৎসবে নজরশল্লা ছিল যৌথ পুরস্কারের প্রবণতায়। রিউসুকে হামাগুচির ‘অল অব আ সাডেন’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন তাও ওকামোতো ও ভার্জিনি এফিরা। সেরা অভিনেতার পুরস্কারও যৌথভাবে স্মরণীয় এক সিদ্ধান্তে লুকাস দন্তের ‘কাওয়ার্ড’ ছবির দুই অভিনেতা মাক্কিয়া ও ভ্যালোঁতাঁ কাম্পানিকে দেওয়া হয়।

পরিচালনা ও অন্যান্য বিভাগেও উৎসবে বৈচিত্র্যের ছাপ দেখা গেছে। ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’ ছবির জন্য জুরি পুরস্কার পেলেন। সেরা পরিচালকের সম্মান ভাগাভাগি করা হয়—উপহার পান পাওয়েল পাভলিকোভস্কি ও স্প্যানিশ জুটি হাভিয়ের আমব্রোসি ও হাভিয়ের কালভো। ইরানের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিষয়ভিত্তিক পেগাহ আহাঙ্গারানির ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের সম্মান অর্জন করে। রুয়ান্ডার ইতিহাসে এটি বিশেষ মুহূর্ত—মেরি-ক্লেমেন্টিন দুসাবেজাম্বোর ‘বেন ইমানা’ প্রথমবারের মতো দেশের নির্মিত ছবিরূপে ক্যামেরা দ’অর জিতে নেন, এবং তিনি এই জয় দেশের নারীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

এবারের কান উৎসব কেবল পুরস্কারই নয়, অনেক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও ছিল—নারী নির্মাতাদের প্রতিনিধিত্বের অভাব, বড় হলিউড স্টুডিওগুলোর অনুপস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিনেমায় বাড়তে থাকা ব্যবহার নিয়ে নানা বিতর্ক চলেছে। মূল প্রতিযোগিতার ২২টি ছবির মধ্যে মাত্র পাঁচটি নারী পরিচালিত ছিল—এ নিয়ে অভিনয় ও সমাজজगतের নামকরা ব্যক্তিত্বরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ১২ মে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে জন ট্রাভোল্টা ও কেট ব্ল্যানচেটের মতো তারকাদের উপস্থিতি ছিলকথিত আকর্ষণ, তবু এবারের আসল মনযোগ ছিল সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা জীবনমুখী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলোর প্রতি।

সামগ্রিকভাবে, ৭৯তম কানের চিত্রপট বলছে—আলোচ্য বিষয়গুলোই আজকের বিশ্ব চলচ্চিত্রকে গঠন করছে; মানবিক প্রশ্ন, নাগরিক অধিকার ও সিনেমার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তর্ক যেন পুরস্কারের মঞ্চকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।