০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের ছুটিতে প্রশাসনে বড় রদবদল: তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ইতোমধ্যেই দুই কোটি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন এডিবি বলছে: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সায়েদাবাদে ঈদযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ বন্ধুত্বের নিদর্শনে কুয়েতে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন

ভারতে ১০ দিনের মধ্যে চতুর্থবার জ্বালানির দাম বাড়ল

ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বাড়লো—গত দশ দিনে এতিমধ্যে চতুর্থবারই দাম বৃদ্ধি করা হলো। শনিবার নয়াদিল্লিতে খুচরা পর্যায়ে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি 2.61 রুপি ও ডিজেলের দাম 2.71 রুপি বাড়ানো হয়। এই দফায় রাজধানীতে পেট্রোলের দাম ইতিহাসে প্রথমবার বেঁধে পড়ল 100 রুপি ছাড়িয়ে, এখন তা 102.12 রুপি প্রতি লিটার, আর ডিজেল বিক্রি হচ্ছে 95.20 রুপি লিটারে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের অন্যান্য বড় শহরেও লক্ষণীয়। কলকাতায় পেট্রোল 2.87 রুপি করে বেড়ে এখন 113.51 রুপি লিটারপ্রতি, আর ডিজেল 2.80 রুপি বাড়ায় 99.82 রুপিতে পৌঁছেছে। মুম্বাইতে পেট্রোল মিলছে 111.21 রুপিতে ও ডিজেল 97.83 রুপিতে। চেন্নাইয়েও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে 107.77 ও 99.55 রুপিতে উঠেছে। মোট মিলিয়ে গত দশ দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দেশজুড়ে মোটের ওপর সাত রুপিরও বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি চরম অনিশ্চয়তাই মূল কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে especially হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ এসেছে এবং তেলের দাম আন্তর্জাতিকভাবে ওঠানামা করছে।

স্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোও দীর্ঘ সময় উচ্চ দামে তেল কিনে ভোক্তা পর্যায়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছিল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়ামসহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠাগুলো জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চড়া দামে তেল কিনলেও অভ্যন্তরীণ দাম অপরিবর্তিত রাখায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান সহ্য করতে হয়েছে। এই আর্থিক চাপকেই বিবেচনায় রেখে শেষপর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

জ্বালানি তেলের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা ফেলেছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে মুদি, দুধ, রুটি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে। পরিস্থিতির প্রভাব সম্পর্কে বলতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের জ্বালানি সংরক্ষণের আহ্বান জানান এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষার পরামর্শ হিসেবে এক বছর সময়োপযোগী সময়ে সোনা কেনা স্থগিত রাখতে বলেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে আর্থিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, 15 মে থেকেই ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে—সেই দিনে এক ধাক্কায় লিটারপ্রতি 3 রুপি বাড়ানোর পর 19 ও 23 মে আরও দুটি দফায় মূল্যছাঁটাই করা হয়েছে। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীলতায় দাম কখন স্থিতিশীল হবে তা তারা নির্দিষ্টভাবে বলার অবস্থায় নেই। এ অবস্থায় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোকে করণীয় হিসেবে দেখছে সবাই।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের ছুটিতে প্রশাসনে বড় রদবদল: তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত

ভারতে ১০ দিনের মধ্যে চতুর্থবার জ্বালানির দাম বাড়ল

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বাড়লো—গত দশ দিনে এতিমধ্যে চতুর্থবারই দাম বৃদ্ধি করা হলো। শনিবার নয়াদিল্লিতে খুচরা পর্যায়ে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি 2.61 রুপি ও ডিজেলের দাম 2.71 রুপি বাড়ানো হয়। এই দফায় রাজধানীতে পেট্রোলের দাম ইতিহাসে প্রথমবার বেঁধে পড়ল 100 রুপি ছাড়িয়ে, এখন তা 102.12 রুপি প্রতি লিটার, আর ডিজেল বিক্রি হচ্ছে 95.20 রুপি লিটারে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের অন্যান্য বড় শহরেও লক্ষণীয়। কলকাতায় পেট্রোল 2.87 রুপি করে বেড়ে এখন 113.51 রুপি লিটারপ্রতি, আর ডিজেল 2.80 রুপি বাড়ায় 99.82 রুপিতে পৌঁছেছে। মুম্বাইতে পেট্রোল মিলছে 111.21 রুপিতে ও ডিজেল 97.83 রুপিতে। চেন্নাইয়েও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে 107.77 ও 99.55 রুপিতে উঠেছে। মোট মিলিয়ে গত দশ দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দেশজুড়ে মোটের ওপর সাত রুপিরও বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি চরম অনিশ্চয়তাই মূল কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে especially হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ এসেছে এবং তেলের দাম আন্তর্জাতিকভাবে ওঠানামা করছে।

স্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোও দীর্ঘ সময় উচ্চ দামে তেল কিনে ভোক্তা পর্যায়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছিল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়ামসহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠাগুলো জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চড়া দামে তেল কিনলেও অভ্যন্তরীণ দাম অপরিবর্তিত রাখায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান সহ্য করতে হয়েছে। এই আর্থিক চাপকেই বিবেচনায় রেখে শেষপর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

জ্বালানি তেলের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা ফেলেছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে মুদি, দুধ, রুটি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে। পরিস্থিতির প্রভাব সম্পর্কে বলতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের জ্বালানি সংরক্ষণের আহ্বান জানান এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষার পরামর্শ হিসেবে এক বছর সময়োপযোগী সময়ে সোনা কেনা স্থগিত রাখতে বলেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে আর্থিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, 15 মে থেকেই ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে—সেই দিনে এক ধাক্কায় লিটারপ্রতি 3 রুপি বাড়ানোর পর 19 ও 23 মে আরও দুটি দফায় মূল্যছাঁটাই করা হয়েছে। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীলতায় দাম কখন স্থিতিশীল হবে তা তারা নির্দিষ্টভাবে বলার অবস্থায় নেই। এ অবস্থায় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোকে করণীয় হিসেবে দেখছে সবাই।