১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আড়ালে-আবডালে দুর্বৃত্ত আছে — প্রশ্রয় নেই: সড়ক মন্ত্রী ৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে সাজলো জাতীয় ঈদগাহ জঙ্গল সলিমপুর হামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা রাজধানীসহ দেশে মৃদু ভূমিকম্প, মাত্রা ৩.৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি: জঙ্গল সলিমপুর হামলা দমন করা হবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূকম্পন ঈদের ছুটিতে প্রশাসনে বড় রদবদল: তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ইতোমধ্যেই দুই কোটি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন এডিবি বলছে: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা

কোরবানির ঈদে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় চার লাখ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা

ঈদুল আজহা এখন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির অন্যতম বড় মৌসুমি চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ২০২৬ সালে কোরবানির সময় দেশের অর্থনৈতিক লেনদেন সাড়ে তিন লাখ কোটি থেকে চার লাখ কোটি টাকার মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

এই বিশাল অর্থনৈতিক চক্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে গবাদিপশুর বাজার। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে এ বছর দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। যদি প্রতিটি পশুর গড় বিক্রয়মূল্য ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ধরা হয়, তাহলে কেবল পশু কেনাবেচাই এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

পশু-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে ওঠা পশুখাদ্য, ওষুধ ও টিকাদান, খামার সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং পশুর পরিবহণ—এসব ক্ষেত্রেও ব্যবসা বাড়ে। পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মাংস সংরক্ষণের চাহিদা থেকে রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজের বাজারে বড় রকমের ক্রেতা তৈরি হয়েছে, ফলে বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারও ঈদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশেষ কিস্তি ও ছাড় দিচ্ছে।

কোরবানির সময় কাপড়, কসমেটিকস ও ফ্যাশন পণ্যও ожজজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্লেষকদের ধারণা এক ঈদে ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর লেনদেন প্রায় ৮০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। এ সঙ্গে পরিবহন খাতও চাঙ্গা থাকে—উত্তরবঙ্গসহ জেলা থেকে মহানগরীর পশু পরিবহনে হাজারও ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান নিয়োজিত হয়, যা চালক ও শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করে।

ভৌগোলিকভাবে দেশের মোট ঈদ বাণিজ্যের প্রায় ৩০–৩৫ শতাংশই ঢাকায় কেন্দ্রভিত্তিকভাবে ঘটে; বিশ্লেষকরা মনে করছেন রাজধানীতে এক লাখ কোটি থেকে এক লাখ পঁচিশ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খাতগুলোও ঈদে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়—চপেটি, ছুরি, চাপাতি, বঁটি, চাটাই, কামারশালা ইত্যাদি এখন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। যদিও এসব ব্যবসা জাতীয় পরিসরে বড় সংখ্যা হিসেবে ধরা পড়ে না, তবু হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি মৌসুমি আয় ও কর্মসংস্থানের বড় উৎস।

একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার ঈদের অর্থনীতিকে আরও সংগঠিত করছে। অনলাইন পশুর হাট, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা বাড়াচ্ছে।

তবে সব দিকই উজ্জ্বল নয়—চামড়া শিল্পের পরিস্থিতি কিছুটা মলিন। দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও নানাগত মানসম্পন্ন ট্যানারি সেবা না থাকা কারণে চামড়া থেকে প্রত্যাশিত রপ্তানি আয় অর্জন করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিকীকরণ ও সরবরাহশৃঙ্খল পুনর্গঠন করলে চামড়া খাত ভবিষ্যতে বড় আকারে রপ্তানি আয় বাড়াতে পারবে।

সামগ্রিকভাবে, কোরবানির ঈদ গ্রামের আয় বাড়ানো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও মৌসুমি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্প ও সেবাখাতকে গতিশীল করে তুলে। এ ধরনের মৌসুমি অর্থনৈতিক প্রবাহ জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে আরো দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে সাজলো জাতীয় ঈদগাহ

কোরবানির ঈদে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় চার লাখ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা এখন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির অন্যতম বড় মৌসুমি চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ২০২৬ সালে কোরবানির সময় দেশের অর্থনৈতিক লেনদেন সাড়ে তিন লাখ কোটি থেকে চার লাখ কোটি টাকার মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

এই বিশাল অর্থনৈতিক চক্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে গবাদিপশুর বাজার। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে এ বছর দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। যদি প্রতিটি পশুর গড় বিক্রয়মূল্য ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ধরা হয়, তাহলে কেবল পশু কেনাবেচাই এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

পশু-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে ওঠা পশুখাদ্য, ওষুধ ও টিকাদান, খামার সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং পশুর পরিবহণ—এসব ক্ষেত্রেও ব্যবসা বাড়ে। পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মাংস সংরক্ষণের চাহিদা থেকে রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজের বাজারে বড় রকমের ক্রেতা তৈরি হয়েছে, ফলে বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারও ঈদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশেষ কিস্তি ও ছাড় দিচ্ছে।

কোরবানির সময় কাপড়, কসমেটিকস ও ফ্যাশন পণ্যও ожজজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্লেষকদের ধারণা এক ঈদে ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর লেনদেন প্রায় ৮০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। এ সঙ্গে পরিবহন খাতও চাঙ্গা থাকে—উত্তরবঙ্গসহ জেলা থেকে মহানগরীর পশু পরিবহনে হাজারও ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান নিয়োজিত হয়, যা চালক ও শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করে।

ভৌগোলিকভাবে দেশের মোট ঈদ বাণিজ্যের প্রায় ৩০–৩৫ শতাংশই ঢাকায় কেন্দ্রভিত্তিকভাবে ঘটে; বিশ্লেষকরা মনে করছেন রাজধানীতে এক লাখ কোটি থেকে এক লাখ পঁচিশ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খাতগুলোও ঈদে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়—চপেটি, ছুরি, চাপাতি, বঁটি, চাটাই, কামারশালা ইত্যাদি এখন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। যদিও এসব ব্যবসা জাতীয় পরিসরে বড় সংখ্যা হিসেবে ধরা পড়ে না, তবু হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি মৌসুমি আয় ও কর্মসংস্থানের বড় উৎস।

একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার ঈদের অর্থনীতিকে আরও সংগঠিত করছে। অনলাইন পশুর হাট, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা বাড়াচ্ছে।

তবে সব দিকই উজ্জ্বল নয়—চামড়া শিল্পের পরিস্থিতি কিছুটা মলিন। দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও নানাগত মানসম্পন্ন ট্যানারি সেবা না থাকা কারণে চামড়া থেকে প্রত্যাশিত রপ্তানি আয় অর্জন করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিকীকরণ ও সরবরাহশৃঙ্খল পুনর্গঠন করলে চামড়া খাত ভবিষ্যতে বড় আকারে রপ্তানি আয় বাড়াতে পারবে।

সামগ্রিকভাবে, কোরবানির ঈদ গ্রামের আয় বাড়ানো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও মৌসুমি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্প ও সেবাখাতকে গতিশীল করে তুলে। এ ধরনের মৌসুমি অর্থনৈতিক প্রবাহ জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে আরো দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।