০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের মানুষের কাছে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিলেন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার (২৭ মে) প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসবের আনন্দ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সচ্ছলদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মানবতার সেবায় বিত্তবানদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘মানবকল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’’ তিনি সমাজের দুরূহ পর্যায়ে থাকা মানুষের কষ্ট লাঘবে কোরবানির মাঝেই একটি সুযোগ বোধ করেন এবং মানুষের মধ্যে অংশীদারি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ঈদুল আজহার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই উৎসব পাশবিকতা ও হিংসা পরিত্যাগের এক মহৎ শিক্ষা। তিনি বলেন, ‘‘ঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং কৃরতা-বিদ্বেষ ত্যাগের প্রতীক—আল্লাহ তাআলার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের সুন্দর দৃষ্টান্ত।’’

রাষ্ট্রপতি ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানি সংক্রান্ত উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)কে উৎসর্গ করার সংকল্প দেখান, তখন যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য ও আস্থা প্রকাশ পায় তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন শিক্ষা।

কোরবানির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করলে সমাজে ঐক্য, বৈষম্য হ্রাস ও ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ় হয়। পাশাপাশি এটি দরিদ্রদের জন্য বছরের আমিষের জোগান ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক।

রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আত্মস্থ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই উৎসবের শিক্ষা কাজে লাগালে সমাজের মনোভাব বদলাতে সাহায্য করবে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিত করার ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি সবাইকে নিয়মনীতি মেনে কোরবানি ও খাদ্যদ্রব্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করার আহ্বান জানান।

বাণীর শেষ অংশে রাষ্ট্রপতি দেশ ও জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য দোয়া করেন এবং প্রার্থনা করেন, ‘‘মহান আল্লাহ আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন ও দেশ-জাতির ওপর অশেষ রহমত বর্ষিত করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।’’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের মানুষের কাছে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিলেন

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার (২৭ মে) প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসবের আনন্দ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সচ্ছলদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মানবতার সেবায় বিত্তবানদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘মানবকল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’’ তিনি সমাজের দুরূহ পর্যায়ে থাকা মানুষের কষ্ট লাঘবে কোরবানির মাঝেই একটি সুযোগ বোধ করেন এবং মানুষের মধ্যে অংশীদারি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ঈদুল আজহার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই উৎসব পাশবিকতা ও হিংসা পরিত্যাগের এক মহৎ শিক্ষা। তিনি বলেন, ‘‘ঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং কৃরতা-বিদ্বেষ ত্যাগের প্রতীক—আল্লাহ তাআলার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের সুন্দর দৃষ্টান্ত।’’

রাষ্ট্রপতি ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানি সংক্রান্ত উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)কে উৎসর্গ করার সংকল্প দেখান, তখন যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য ও আস্থা প্রকাশ পায় তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন শিক্ষা।

কোরবানির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করলে সমাজে ঐক্য, বৈষম্য হ্রাস ও ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ় হয়। পাশাপাশি এটি দরিদ্রদের জন্য বছরের আমিষের জোগান ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক।

রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আত্মস্থ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই উৎসবের শিক্ষা কাজে লাগালে সমাজের মনোভাব বদলাতে সাহায্য করবে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিত করার ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি সবাইকে নিয়মনীতি মেনে কোরবানি ও খাদ্যদ্রব্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করার আহ্বান জানান।

বাণীর শেষ অংশে রাষ্ট্রপতি দেশ ও জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য দোয়া করেন এবং প্রার্থনা করেন, ‘‘মহান আল্লাহ আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন ও দেশ-জাতির ওপর অশেষ রহমত বর্ষিত করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।’’