০৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানি চলছে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সরকার সচেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী টানা দ্বিতীয় ঈদেও জাহাজে বন্দি ৩১ বাংলাদেশি নাবিক ঈদের সকালে বনানীতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়রে তারেক রাহমানের শ্রদ্ধা টানা দ্বিতীয় ঈদ জাহাজেই বন্দি ৩১ বাংলাদেশি নাবিক কারাগারের চার দেয়ালে ১৬১ ‘ভিআইপি’র ঈদ

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই

প্রবীণ কূটনীতিক ও বাংলাদেশের সাবেক সচিব এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই। তিনি ১০ জিলহজ (২৮ মে) শুক্রবার দুপুর সাড়ে দু’টায় বার্ধক্যজনিত জটিলতায় নিজ গৃহে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর।

এম. মুনির-উজ-জামান ছিলেন ১৯৫৮ ব্যাচের প্রাক্তন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্ত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশসেবায় অনেক অবদান রেখেছেন—একজন কুটনীতিক, উচ্চপদস্থ আমলা ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে খ্যাত ছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়ার কাজে তার বিতরণহীন অঙ্গীকার ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব বহু স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫৮ ব্যাচের গর্বিত বাঙালি হিসেবে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের অভিজাত সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে সেবামাত্রা শুরু করেন। স্বাধীনতার আগের সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জে এসডিও, কুমিল্লায় এডিসি, বগুড়ায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাকিস্তান সরকারের বৈদেশিক অর্থ বিভাগের উপ-সচিব ও ইপিএসসিআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেও দায়িত্বে ছিলেন।

স্বাধীনতমো পর্যায়ে বাংলাদেশে উঠে এসে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ (বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে কাজ করে দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি প্রয়াত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং অবসরের আগে তিনি ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বংশানুক্রমে তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মরহুম এম. তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র এবং যশোরের চৌগাছার কলকাতায় শিক্ষিত এক জ্যেষ্ঠ জমিদারের পরিবারের একজন কুশীলব সন্তান।

ইন্তেকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি ও পাঁচ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রেখে গেছেন। দেশের সেবায় তার দীর্ঘমেয়াদি অবদান অনেকেই স্মরণ রাখবেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

তার প্রথম জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার ২৯ মে, জুম্মার নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

প্রবীণ কূটনীতিক ও বাংলাদেশের সাবেক সচিব এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই। তিনি ১০ জিলহজ (২৮ মে) শুক্রবার দুপুর সাড়ে দু’টায় বার্ধক্যজনিত জটিলতায় নিজ গৃহে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর।

এম. মুনির-উজ-জামান ছিলেন ১৯৫৮ ব্যাচের প্রাক্তন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্ত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশসেবায় অনেক অবদান রেখেছেন—একজন কুটনীতিক, উচ্চপদস্থ আমলা ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে খ্যাত ছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়ার কাজে তার বিতরণহীন অঙ্গীকার ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব বহু স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫৮ ব্যাচের গর্বিত বাঙালি হিসেবে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের অভিজাত সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে সেবামাত্রা শুরু করেন। স্বাধীনতার আগের সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জে এসডিও, কুমিল্লায় এডিসি, বগুড়ায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাকিস্তান সরকারের বৈদেশিক অর্থ বিভাগের উপ-সচিব ও ইপিএসসিআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেও দায়িত্বে ছিলেন।

স্বাধীনতমো পর্যায়ে বাংলাদেশে উঠে এসে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ (বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে কাজ করে দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি প্রয়াত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং অবসরের আগে তিনি ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বংশানুক্রমে তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মরহুম এম. তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র এবং যশোরের চৌগাছার কলকাতায় শিক্ষিত এক জ্যেষ্ঠ জমিদারের পরিবারের একজন কুশীলব সন্তান।

ইন্তেকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি ও পাঁচ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রেখে গেছেন। দেশের সেবায় তার দীর্ঘমেয়াদি অবদান অনেকেই স্মরণ রাখবেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

তার প্রথম জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার ২৯ মে, জুম্মার নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।