০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে কাল হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হজ শেষ: দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি

ইরানে যাওয়া ছিল বড় ভুল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপগুলোকে তীব্র সমালোচনা করে এগুলোকে ‘চরম বোকামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাগদাদে অবস্থান বা ইরানে যাওয়া মোটেই উচিত ছিল না।

ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এসব হস্তক্ষেপের ফলে একটি অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শুরু থেকেই একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল। তার কথায়, আগের প্রশাসনগুলোর নির্বিচার হামলা ও ঢালাও নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে।

ইরান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে ইরানে মার্কিন উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে তিনি দাবি করেন যে, গত নয় মাস আগে ইরানের ওপর বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো একটি হামলা যৌক্তিক ছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই হামলা না হলে ইরান সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত এবং তখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে পড়ত। ফলে ঐ নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপটি অঞ্চলটির সুরক্ষার জন্য জরুরি ছিল বলে তিনি মনে করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বললেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পূর্ণ সামরিক বাহিনীকে নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে যুক্তরাষ্ট্র ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে দেখেছে, তাই সেগুলোকে অক্ষত রেখে শুধুই কট্টরপন্থী নেতৃত্ব দূর করা হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা, কোনো দেশের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলে সেটি পুনর্গঠন করতে প্রায় ৪০ বছর সময় লাগে—এমন সুদূরপ্রসারী ফল তিনি ইরানের ক্ষেত্রে চাননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের ঢালাও যুদ্ধের বদলে নিয়ন্ত্রিত ও কৌশলগত পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছেন—বিশেষত নেতৃত্ব পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, পূর্ণ ধ্বংস না করে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের দিকটি উঠে এসেছে বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিশেষে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার সময়ের সামরিক কৌশলগুলো সুপরিকল্পিত ছিল। তিনি মনে করেন, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া উচিত নয়, বরং লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপে অঞ্চলটিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে—তবে প্রয়োজন হলে কৌশলগতভাবে শক্তি ব্যবহার করাও তার অপশনেই রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি

ইরানে যাওয়া ছিল বড় ভুল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপগুলোকে তীব্র সমালোচনা করে এগুলোকে ‘চরম বোকামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাগদাদে অবস্থান বা ইরানে যাওয়া মোটেই উচিত ছিল না।

ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এসব হস্তক্ষেপের ফলে একটি অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শুরু থেকেই একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল। তার কথায়, আগের প্রশাসনগুলোর নির্বিচার হামলা ও ঢালাও নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে।

ইরান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে ইরানে মার্কিন উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে তিনি দাবি করেন যে, গত নয় মাস আগে ইরানের ওপর বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো একটি হামলা যৌক্তিক ছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই হামলা না হলে ইরান সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত এবং তখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে পড়ত। ফলে ঐ নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপটি অঞ্চলটির সুরক্ষার জন্য জরুরি ছিল বলে তিনি মনে করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বললেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পূর্ণ সামরিক বাহিনীকে নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে যুক্তরাষ্ট্র ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে দেখেছে, তাই সেগুলোকে অক্ষত রেখে শুধুই কট্টরপন্থী নেতৃত্ব দূর করা হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা, কোনো দেশের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলে সেটি পুনর্গঠন করতে প্রায় ৪০ বছর সময় লাগে—এমন সুদূরপ্রসারী ফল তিনি ইরানের ক্ষেত্রে চাননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের ঢালাও যুদ্ধের বদলে নিয়ন্ত্রিত ও কৌশলগত পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছেন—বিশেষত নেতৃত্ব পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, পূর্ণ ধ্বংস না করে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের দিকটি উঠে এসেছে বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিশেষে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার সময়ের সামরিক কৌশলগুলো সুপরিকল্পিত ছিল। তিনি মনে করেন, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া উচিত নয়, বরং লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপে অঞ্চলটিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে—তবে প্রয়োজন হলে কৌশলগতভাবে শক্তি ব্যবহার করাও তার অপশনেই রয়েছে।