০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জনতুষ্টি নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী হামের তাণ্ডবের মাঝে ডেঙ্গু নিয়েও সতর্কতা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর-ছাড়ের উদ্যোগ

নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রসার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে বিশেষ করছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ অবশ্যই উৎপাদক ও ব্যবহারকারীর মধ্যে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে এবং ব্যবহার না হওয়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট-মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সংযোগ করবার সুযোগ থাকবে।

আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের (withholding tax) নিয়মাবলী জারি করা হতে পারে। নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত কর কর্তন করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। তবুও শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ কর রেয়াতের প্রস্তাব রয়েছে—যার আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি খরচ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে তাহলে তাদের মোট পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ আয়কর দায় থেকে রেয়াত (ট্যাক্স ক্রেডিট/ছাড়) হিসেবে দেয়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অন্যতম বাঁধা হচ্ছে উচ্চ শুল্ক ও কর হার। ডিসি কেবল, সোলার প্যানেল স্ট্রাকচার ও ব্যাটারি’র মতো প্রধান উপকরণের ওপর মোট শুল্ক ও করের বোঝা বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে প্রযুক্তি খরচের পাশাপাশি কর কাঠামোই প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী সোলার প্যানেল আমদানি করতে বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশ শুল্ক রয়েছে; ইনভার্টারে প্রায় ২৯ শতাংশ; পিভি-ডিজি কন্ট্রোলারের ক্ষেত্রে এই হার ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং কেবলজাত সামগ্রীর ওপর শুল্কভার প্রায় ৫৮ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য উপকরণের প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় এই উচ্চ শুল্কহার সমগ্র প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন কর রেয়াত ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়বে এবং সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ দ্রুততা পাবে। তা দেশের জ্বালানি মিশ্রণ বৈচিত্র্যতা বাড়াতে এবং গ্রিডে পরিষ্কার, স্থানীয় উৎপাদনশীল উৎস যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকারি নীতিনির্ধারক ও শিল্প প্রতিনিধিরা এখন শুল্ক এবং কর কাঠামো হ্রাসের সঙ্গে পিপিএ, নেট-মিটারিং নীতিমালা এবং কর কর্তনের নিয়মাবলী চূড়ান্ত করার ওপর কাজ করছেন, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুস্পষ্ট পরিবেশ তৈরি করা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর-ছাড়ের উদ্যোগ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রসার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে বিশেষ করছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ অবশ্যই উৎপাদক ও ব্যবহারকারীর মধ্যে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে এবং ব্যবহার না হওয়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট-মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সংযোগ করবার সুযোগ থাকবে।

আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের (withholding tax) নিয়মাবলী জারি করা হতে পারে। নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত কর কর্তন করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। তবুও শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ কর রেয়াতের প্রস্তাব রয়েছে—যার আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি খরচ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে তাহলে তাদের মোট পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ আয়কর দায় থেকে রেয়াত (ট্যাক্স ক্রেডিট/ছাড়) হিসেবে দেয়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অন্যতম বাঁধা হচ্ছে উচ্চ শুল্ক ও কর হার। ডিসি কেবল, সোলার প্যানেল স্ট্রাকচার ও ব্যাটারি’র মতো প্রধান উপকরণের ওপর মোট শুল্ক ও করের বোঝা বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে প্রযুক্তি খরচের পাশাপাশি কর কাঠামোই প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী সোলার প্যানেল আমদানি করতে বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশ শুল্ক রয়েছে; ইনভার্টারে প্রায় ২৯ শতাংশ; পিভি-ডিজি কন্ট্রোলারের ক্ষেত্রে এই হার ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং কেবলজাত সামগ্রীর ওপর শুল্কভার প্রায় ৫৮ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য উপকরণের প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় এই উচ্চ শুল্কহার সমগ্র প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন কর রেয়াত ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়বে এবং সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ দ্রুততা পাবে। তা দেশের জ্বালানি মিশ্রণ বৈচিত্র্যতা বাড়াতে এবং গ্রিডে পরিষ্কার, স্থানীয় উৎপাদনশীল উৎস যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকারি নীতিনির্ধারক ও শিল্প প্রতিনিধিরা এখন শুল্ক এবং কর কাঠামো হ্রাসের সঙ্গে পিপিএ, নেট-মিটারিং নীতিমালা এবং কর কর্তনের নিয়মাবলী চূড়ান্ত করার ওপর কাজ করছেন, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুস্পষ্ট পরিবেশ তৈরি করা যায়।