০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ড. খলিলুর রহমান জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪ প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

আসন্ন বাজেটে সিম প্রতিস্থাপনে কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা

আসন্ন জাতীয় বাজেটে সিম প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হতে পারে—এই ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে একজন গ্রাহক যদি সিম হারান বা সিম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একই নম্বর পুনরায় চালু করতে চান, তাহলে তাকে ২০০ টাকা করে কর দিতে হয়। সরকারের নতুন পরিকল্পনায় সাধারণ সিমের পাশাপাশি ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ (আইওটি) সিম প্রতিস্থাপনের করও মওকুফ করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।

সরকার যদি এই কর প্রত্যাহার করে, তবে বছরে আনুমানিক ১৩০ কোটি টাকার রাজস্ব হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসা সহজীকরণ এবং টেলিকম খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। মোবাইল অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরেই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল—তারা বলছেন যে সিম ক্রয়ের সময় ইতিমধ্যেই কর দান করা হয়, তাই একই নম্বরের জন্য পরবর্তীতে আবার কর ধার্য করা হলে তা দ্বৈত করের শামিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই কর ভুক্তভোগীদের বোঝা কমাবে এবং টেলিকম খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়াবে। অপারেটর ও গ্রাহক উভয়ের পক্ষ থেকেই এটি দীর্ঘদিন ধরে ওঠা যৌক্তিক দাবি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিটিআরসি–র এপ্রিলের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে মোট নিবন্ধিত মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ। সাধারণত ফোন চুরি হলে বা সিম নষ্ট হলে গ্রাহকরা সিম প্রতিস্থাপন করেন; প্রতি বছর দেশে প্রায় ৬৫ লাখ সিম প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে নতুন সিম বিক্রি ও প্রতিস্থাপন উভয় ক্ষেত্রেই ২০০ টাকা কর ধার্য রয়েছে এবং মোট মিলিয়ে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

অপারেটরভিত্তিক গ্রাহকবণ্টন দেখলে দেখা যায়—গ্রামীণফোনের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৮ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৬৮ লাখ। কর প্রত্যাহার করলে দেশের বড় একটি মোবাইল ব্যবহারকারী গ্রুপ সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিষয়ে সেশনের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনা ও অনুমোদন আবশ্যক। বিষয়টি বাজেট অধিবেশনে চূড়ান্ত হলে টেলিকম খাতে তা কী প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন নজরকাড়া প্রশ্ন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

আসন্ন বাজেটে সিম প্রতিস্থাপনে কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আসন্ন জাতীয় বাজেটে সিম প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হতে পারে—এই ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে একজন গ্রাহক যদি সিম হারান বা সিম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একই নম্বর পুনরায় চালু করতে চান, তাহলে তাকে ২০০ টাকা করে কর দিতে হয়। সরকারের নতুন পরিকল্পনায় সাধারণ সিমের পাশাপাশি ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ (আইওটি) সিম প্রতিস্থাপনের করও মওকুফ করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।

সরকার যদি এই কর প্রত্যাহার করে, তবে বছরে আনুমানিক ১৩০ কোটি টাকার রাজস্ব হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসা সহজীকরণ এবং টেলিকম খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। মোবাইল অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরেই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল—তারা বলছেন যে সিম ক্রয়ের সময় ইতিমধ্যেই কর দান করা হয়, তাই একই নম্বরের জন্য পরবর্তীতে আবার কর ধার্য করা হলে তা দ্বৈত করের শামিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই কর ভুক্তভোগীদের বোঝা কমাবে এবং টেলিকম খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়াবে। অপারেটর ও গ্রাহক উভয়ের পক্ষ থেকেই এটি দীর্ঘদিন ধরে ওঠা যৌক্তিক দাবি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিটিআরসি–র এপ্রিলের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে মোট নিবন্ধিত মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ। সাধারণত ফোন চুরি হলে বা সিম নষ্ট হলে গ্রাহকরা সিম প্রতিস্থাপন করেন; প্রতি বছর দেশে প্রায় ৬৫ লাখ সিম প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে নতুন সিম বিক্রি ও প্রতিস্থাপন উভয় ক্ষেত্রেই ২০০ টাকা কর ধার্য রয়েছে এবং মোট মিলিয়ে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

অপারেটরভিত্তিক গ্রাহকবণ্টন দেখলে দেখা যায়—গ্রামীণফোনের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৮ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৬৮ লাখ। কর প্রত্যাহার করলে দেশের বড় একটি মোবাইল ব্যবহারকারী গ্রুপ সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিষয়ে সেশনের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনা ও অনুমোদন আবশ্যক। বিষয়টি বাজেট অধিবেশনে চূড়ান্ত হলে টেলিকম খাতে তা কী প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন নজরকাড়া প্রশ্ন।