১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিতে এককালীন ০.২৫% ফি আরোপ

সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে পাওয়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির ওপর এককালীন ০.২৫ শতাংশ হারে নতুন একটি ফি আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য—গ্যারান্টির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো, ঋণগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্বের পরিধি বাড়ানো। গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি বা সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যদি দেশি বা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে চায় এবং সেই ঋণের সুরক্ষায় সরকারের গ্যারান্টি প্রয়োজন হয়, তাহলে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত হারে এককালীন এই ফি পরিশোধ করতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে যে গ্যারান্টি ফি আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে সরকারি ঋণ আইন, ২০২২ এবং রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বা কাউন্টার গ্যারান্টি নীতিমালা, ২০১৪। গৃহীত অর্থ সরাসরি সরকারি চালান হিসাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান সহজে ঋণ পাওয়ার জন্য সরকারের গ্যারান্টির উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। নতুন ফি ধারার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের প্রয়োজনীয়তা ও দায়িত্ব নিয়ে আরও সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এবং গ্যারান্টির ব্যবহার একটি যৌক্তিক সীমায় থাকবে—এটাই নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা।

প্রচলিতভাবে বড় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, জ্বালানি তেল আমদানি ও কৃষি খাতের মতো প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। এসব ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সাধারণত সরকারের গ্যারান্টি চাইতে হয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সেই নিশ্চয়তা প্রদান করে। তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরকারের প্রদত্ত মোট গ্যারান্টির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা—যার মধ্যে বিদেশি ঋণের জন্য গ্যারান্টি ৫৮,৩৮৩ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের জন্য ৪৮,৫৯০ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে মোট গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের অর্ধেকের বেশি অংশ বিদ্যুৎ খাতেই কেন্দ্রীভূত। এছাড়া জাতীয় পতাকাবাহী বিমান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের ঋণের বিপরীতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যারান্টি কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) কৃষি ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে গ্যারান্টির মাধ্যমে বড় ভূমিকা পালন করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, গ্যারান্টি প্রদান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়ন সহজ করে তুললেও এর ফলে সরকারের ওপর সম্ভাব্য দায়ের মাত্রা বাড়ে—যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় তবেই সেই বোঝা সরকারের উপর চলে আসে। তাই এই নতুন ফি প্রয়োগকে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আর্থিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিতে এককালীন ০.২৫% ফি আরোপ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে পাওয়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির ওপর এককালীন ০.২৫ শতাংশ হারে নতুন একটি ফি আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য—গ্যারান্টির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো, ঋণগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্বের পরিধি বাড়ানো। গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি বা সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যদি দেশি বা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে চায় এবং সেই ঋণের সুরক্ষায় সরকারের গ্যারান্টি প্রয়োজন হয়, তাহলে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত হারে এককালীন এই ফি পরিশোধ করতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে যে গ্যারান্টি ফি আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে সরকারি ঋণ আইন, ২০২২ এবং রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বা কাউন্টার গ্যারান্টি নীতিমালা, ২০১৪। গৃহীত অর্থ সরাসরি সরকারি চালান হিসাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান সহজে ঋণ পাওয়ার জন্য সরকারের গ্যারান্টির উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। নতুন ফি ধারার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের প্রয়োজনীয়তা ও দায়িত্ব নিয়ে আরও সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এবং গ্যারান্টির ব্যবহার একটি যৌক্তিক সীমায় থাকবে—এটাই নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা।

প্রচলিতভাবে বড় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, জ্বালানি তেল আমদানি ও কৃষি খাতের মতো প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। এসব ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সাধারণত সরকারের গ্যারান্টি চাইতে হয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সেই নিশ্চয়তা প্রদান করে। তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরকারের প্রদত্ত মোট গ্যারান্টির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা—যার মধ্যে বিদেশি ঋণের জন্য গ্যারান্টি ৫৮,৩৮৩ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের জন্য ৪৮,৫৯০ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে মোট গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের অর্ধেকের বেশি অংশ বিদ্যুৎ খাতেই কেন্দ্রীভূত। এছাড়া জাতীয় পতাকাবাহী বিমান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের ঋণের বিপরীতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যারান্টি কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) কৃষি ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে গ্যারান্টির মাধ্যমে বড় ভূমিকা পালন করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, গ্যারান্টি প্রদান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়ন সহজ করে তুললেও এর ফলে সরকারের ওপর সম্ভাব্য দায়ের মাত্রা বাড়ে—যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় তবেই সেই বোঝা সরকারের উপর চলে আসে। তাই এই নতুন ফি প্রয়োগকে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আর্থিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।