০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ আগস্ট আসছে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ — ইউরোপে দৃশ্যমান কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারত থেকে ৯১ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ও ৪টি মাছ ধরা নৌকা দেশে ফিরেছে পল্লবী কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক বাজেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যেই বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে দেশীয় অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা বাড়ছে, বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিহত করেছেন ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিশেষ সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

মালয়ালম অভিনেতা ও ‘মিম কিং’ সেলিম কুমার আর নেই

ভারতের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই। তিনি গত ৭ জুন রাতে কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৬ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েক বছর আগে লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। এই আকস্মিক প্রয়াণে দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সারা দেশের অভিনয় জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দর্শকরা তাঁকে সাবলীল অভিনয় ও অনন্য হাস্যরসের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণ করে রাখবেন।

সেলিম কুমারের পথচলা শুরু হয় মঞ্চ থেকে—একজন মিমিক্রি শিল্পী হিসেবে। ১৯৬৯ সালে কেরালার নর্থ পারাভুরে জন্ম নেওয়া তিনি ছাত্রজীবন থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক রাখেন। কেরালার সুপ্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কালাভবনের মঞ্চভঙ্গি তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। মিমিক্রিতে তাঁর তীক্ষ্ণ কমিক টাইমিং ও উপস্থিত বুদ্ধি দর্শকদের মন জয় করেছিল এবং দলে দলে মানুষ মঞ্চ দেখতে আসতেন। মঞ্চের এই সাফল্যই শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে তাঁকে বড় পর্দার পথে নিয়ে আসে।

ইস্তামানুর নুরু ভাত্তাম চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর সেলিম কুমার ধারাবাহিকভাবে বহু ছবিতে দেখা গেছে। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সত্যমেবা জায়তি’ ছবিতে মাট্টানচেরি মাম্মাথু চরিত্রে তাঁর আবেদন তাঁকে মালয়ালম সিনেমার অন্যতম অনিবার্য কৌতুক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অনেকে বলতেন—যখনই চলচ্চিত্রে কৌতুক দৃশ্যের কথা আসে, পরিচালকরা প্রথমেই সেলিম কুমারকেই ভেবে দেখতেন। শতাধিক ছবির মাধ্যমে তিনি এক অনন্য করিশ্মা গড়ে তুলেছেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তব আবেগগুলো তিনি বিশুদ্ধভাবে অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

তবে সেলিম কুমার কেবল কৌতুকের অতিরিক্ত ছিলেন না; গম্ভীর এবং জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রও তিনি দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। ২০১০ সালে মুক্তিপাওয়া ‘আদামিনতে মাকান আবু’ ছবিতে একজন বৃদ্ধ মুসলিম চরিত্রে তাঁর ভাবোদ্দীপক অভিনয় চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। তাঁর অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপই তিনি সেই বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন—যা কৌতুক শিল্পীর জন্য বিরল ও গর্বজনক কীর্তি।

ডিজিটাল যুগে সেলিম কুমারের অভিনীত মুহূর্তগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে ‘মিম কিং’ হিসেবেও পরিচিতি পায়; তাঁর সংলাপ ও অভিব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গেও ব্যবহার হয়। ব্যক্তিজীবনে তিনি সোজাসাপটা, সত্যনিষ্ঠ ও আন্তরিক ছিলেন। স্ত্রী সুনীতা ও দুই ছেলে—চন্দু এবং অরোমল—কে রেখে তিনি চলে গেলেন।

সেলিম কুমারের বিদায় শুধু একজন প্রাণবন্ত অভিনেতার শেষই নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার একজন বহুমুখী প্রতিভার হার। তাঁর রচনাশীল উপস্থিতি, স্মরণীয় চরিত্র ও হাস্যরসপ্রদ ভঙ্গিমা বহু দর্শকের মনে দীর্ঘদিন ধরে জীবন্তভাবে থাকবে। শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে এবং তিনি যে শূন্যতা রেখে গেলেন, তা সহজে পূরণ হবে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

মালয়ালম অভিনেতা ও ‘মিম কিং’ সেলিম কুমার আর নেই

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ভারতের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই। তিনি গত ৭ জুন রাতে কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৬ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েক বছর আগে লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। এই আকস্মিক প্রয়াণে দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সারা দেশের অভিনয় জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দর্শকরা তাঁকে সাবলীল অভিনয় ও অনন্য হাস্যরসের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণ করে রাখবেন।

সেলিম কুমারের পথচলা শুরু হয় মঞ্চ থেকে—একজন মিমিক্রি শিল্পী হিসেবে। ১৯৬৯ সালে কেরালার নর্থ পারাভুরে জন্ম নেওয়া তিনি ছাত্রজীবন থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক রাখেন। কেরালার সুপ্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কালাভবনের মঞ্চভঙ্গি তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। মিমিক্রিতে তাঁর তীক্ষ্ণ কমিক টাইমিং ও উপস্থিত বুদ্ধি দর্শকদের মন জয় করেছিল এবং দলে দলে মানুষ মঞ্চ দেখতে আসতেন। মঞ্চের এই সাফল্যই শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে তাঁকে বড় পর্দার পথে নিয়ে আসে।

ইস্তামানুর নুরু ভাত্তাম চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর সেলিম কুমার ধারাবাহিকভাবে বহু ছবিতে দেখা গেছে। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সত্যমেবা জায়তি’ ছবিতে মাট্টানচেরি মাম্মাথু চরিত্রে তাঁর আবেদন তাঁকে মালয়ালম সিনেমার অন্যতম অনিবার্য কৌতুক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অনেকে বলতেন—যখনই চলচ্চিত্রে কৌতুক দৃশ্যের কথা আসে, পরিচালকরা প্রথমেই সেলিম কুমারকেই ভেবে দেখতেন। শতাধিক ছবির মাধ্যমে তিনি এক অনন্য করিশ্মা গড়ে তুলেছেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তব আবেগগুলো তিনি বিশুদ্ধভাবে অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

তবে সেলিম কুমার কেবল কৌতুকের অতিরিক্ত ছিলেন না; গম্ভীর এবং জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রও তিনি দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। ২০১০ সালে মুক্তিপাওয়া ‘আদামিনতে মাকান আবু’ ছবিতে একজন বৃদ্ধ মুসলিম চরিত্রে তাঁর ভাবোদ্দীপক অভিনয় চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। তাঁর অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপই তিনি সেই বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন—যা কৌতুক শিল্পীর জন্য বিরল ও গর্বজনক কীর্তি।

ডিজিটাল যুগে সেলিম কুমারের অভিনীত মুহূর্তগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে ‘মিম কিং’ হিসেবেও পরিচিতি পায়; তাঁর সংলাপ ও অভিব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গেও ব্যবহার হয়। ব্যক্তিজীবনে তিনি সোজাসাপটা, সত্যনিষ্ঠ ও আন্তরিক ছিলেন। স্ত্রী সুনীতা ও দুই ছেলে—চন্দু এবং অরোমল—কে রেখে তিনি চলে গেলেন।

সেলিম কুমারের বিদায় শুধু একজন প্রাণবন্ত অভিনেতার শেষই নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার একজন বহুমুখী প্রতিভার হার। তাঁর রচনাশীল উপস্থিতি, স্মরণীয় চরিত্র ও হাস্যরসপ্রদ ভঙ্গিমা বহু দর্শকের মনে দীর্ঘদিন ধরে জীবন্তভাবে থাকবে। শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে এবং তিনি যে শূন্যতা রেখে গেলেন, তা সহজে পূরণ হবে না।