১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ, মানবিক সমাধানের আহ্বান—আসক দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি সব নাগরিক পাবেন ই-হেলথ কার্ড, গঠিত হবে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব বৃহত্তম বাজেট পেস—অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোগ্যপণ্যের ব্যয় কমানো লক্ষ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আদ্-দ্বীনের শোকজ জবাবে আমরা সন্তুষ্ট নই বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কার লাইনচ্যুত, ঢাকা-মুখী ট্রেন চলাচল বন্ধ কাঁটাতারের বেড়াজালে আটকা মানবতা একনেকে ৩ হাজার ৮৯১ কোটিতে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে দুর্বল অবস্থার ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মৌলিক লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা। সরকার চাইছে জনসাধারণের আর্থিক আস্থার ওপর আঘাত না পৌঁছাতে দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করতে ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে থাকা দুর্বলতা ঠিক করে নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান জোরদার করা হবে এবং ঝুঁকি নিরূপণের নতুন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।

অনাদায়ী ঋণ (NPL) কমানো এবং ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল (রিশেডিউলিং) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনাই সরকারী কর্মসূচির একটি বড় অংশ। একই সঙ্গে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বাড়াতে নিয়ম-কানুন কষাকষি করা হচ্ছে যাতে দায়িত্বহীনতা ও অপব্যবহার রোধ করা যায়।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, লুট হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং ব্যাংকখাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে করোনোভাবে বিঘ্নিত আন্দোলনগুলো কাটিয়ে দ্রুত পুনর্গঠন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত মূলধন বজায় রাখা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে; যাতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলো স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে টিকে থাকতে পারে।

অর্থসেবায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোও সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষত নারী, তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া এবং তাদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি তৈরি করা হবে। সব মিলিয়ে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে ভোক্তা আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অর্থনীতিকে সার্বিকভাবে শক্তিশালী করা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ, মানবিক সমাধানের আহ্বান—আসক

দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে দুর্বল অবস্থার ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মৌলিক লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা। সরকার চাইছে জনসাধারণের আর্থিক আস্থার ওপর আঘাত না পৌঁছাতে দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করতে ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে থাকা দুর্বলতা ঠিক করে নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান জোরদার করা হবে এবং ঝুঁকি নিরূপণের নতুন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।

অনাদায়ী ঋণ (NPL) কমানো এবং ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল (রিশেডিউলিং) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনাই সরকারী কর্মসূচির একটি বড় অংশ। একই সঙ্গে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বাড়াতে নিয়ম-কানুন কষাকষি করা হচ্ছে যাতে দায়িত্বহীনতা ও অপব্যবহার রোধ করা যায়।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, লুট হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং ব্যাংকখাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে করোনোভাবে বিঘ্নিত আন্দোলনগুলো কাটিয়ে দ্রুত পুনর্গঠন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত মূলধন বজায় রাখা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে; যাতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলো স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে টিকে থাকতে পারে।

অর্থসেবায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোও সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষত নারী, তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া এবং তাদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি তৈরি করা হবে। সব মিলিয়ে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে ভোক্তা আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অর্থনীতিকে সার্বিকভাবে শক্তিশালী করা।