০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে: ইকবাল হাসান মাহমুদ কুনমিং—চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক ও তিস্তায় ব্যারেজসহ চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার উদ্যোগ নেই, বরং করজট কমানোর প্রস্তাব: এনবিআর চেয়ারম্যান ২০২৬-২৭ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়ল ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

খুলনা ও বরিশালের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট ডাক, মহাসড়কে চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি

খুলনা ও বরিশালের পাঁচ জেলায় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, আগামী রোববার (১৪ জুন) থেকে দাবি না মানা হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম শুক্রবার (১২ জুন) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার বৈঠক হলেও তাদের তিন দফা দাবি কোনোভাবে মেনে নেওয়া হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের পথে জাওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মালিক-শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন যে সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী চলা উচিত এমন বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি অনিয়মীভাবে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) অবাধভাবে চলাচল করছে যা দূরপাল্লার সার্ভিস ব্যাহত করছে। এ সব সমস্যার সমাধানে সাতটি মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের অংশগ্রহণে বহুবার সভা হয়েছে, তবে ফল মেলেনি।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত আছে। তারা মনে করেন, মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট হলে জনজীবন ও গণপরিবহণে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হবে, তাই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি ঠাণ্ডা রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ধর্মঘট ঘোষণায় আঞ্চলিক যাত্রী ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, তাদের তিন দফা দাবি না মানলে তারা আন্দোলন চলমান রাখবেন। নেতাদের দাবি তিনটি মূল পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে:

1. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং জেলা টার্মিনালগুলোতে নীতিমালানুযায়ী একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।

2. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।

3. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।

আঞ্চলিক বাস চলাচল ও যাত্রী আলোকিত রাখার জন্য দ্রুত সমাধান না নিলে শুরু হওয়া ধর্মঘটের কারণে যাত্রী, পরিবহন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়েছেন। প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যকার পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বিষয়ক আপডেট অনুসরণ করা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

খুলনা ও বরিশালের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট ডাক, মহাসড়কে চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

খুলনা ও বরিশালের পাঁচ জেলায় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, আগামী রোববার (১৪ জুন) থেকে দাবি না মানা হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম শুক্রবার (১২ জুন) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার বৈঠক হলেও তাদের তিন দফা দাবি কোনোভাবে মেনে নেওয়া হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের পথে জাওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মালিক-শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন যে সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী চলা উচিত এমন বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি অনিয়মীভাবে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) অবাধভাবে চলাচল করছে যা দূরপাল্লার সার্ভিস ব্যাহত করছে। এ সব সমস্যার সমাধানে সাতটি মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের অংশগ্রহণে বহুবার সভা হয়েছে, তবে ফল মেলেনি।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত আছে। তারা মনে করেন, মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট হলে জনজীবন ও গণপরিবহণে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হবে, তাই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি ঠাণ্ডা রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ধর্মঘট ঘোষণায় আঞ্চলিক যাত্রী ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, তাদের তিন দফা দাবি না মানলে তারা আন্দোলন চলমান রাখবেন। নেতাদের দাবি তিনটি মূল পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে:

1. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং জেলা টার্মিনালগুলোতে নীতিমালানুযায়ী একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।

2. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।

3. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।

আঞ্চলিক বাস চলাচল ও যাত্রী আলোকিত রাখার জন্য দ্রুত সমাধান না নিলে শুরু হওয়া ধর্মঘটের কারণে যাত্রী, পরিবহন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়েছেন। প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যকার পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বিষয়ক আপডেট অনুসরণ করা হবে।