রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ইলন মাস্ক ঐতিহাসিক এক মাইলফলক ছুঁতে সক্ষম হয়েছেন — তিনি প্রথম ব্যক্তি যার ব্যাক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের দুর্দান্ত অভিষেকের পর মাস্কের মোট সম্পদ বর্তমানে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার (বাংলা সংখ্যা দিয়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার) এ পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের জুন মাসের বিনিময়হারের ভিত্তিতে এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকার সমান।
আগে ‘ট্রিলিয়ন’ শব্দটি মূলত বড় বড় অর্থনীতির জিডিপি বা বিশাল রাষ্ট্রীয় ঋণের নিদর্শন হিসেবে দেখা যেত; এখন সেই শব্দটি এক ব্যক্তির একক সম্পদের ওপরও প্রযোজ্য হয়ে পড়ার ঘটনা আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রযুক্তি খাতে শুধু সম্পদ সৃষ্টি নয়—বিশাল বৈষম্য ও বিতর্কও জেগে উঠেছে।
সংখ্যাগুলো কল্পনাও করা কঠিন—১ ট্রিলিয়ন লেখতে ১-এর পর ১২টি শূন্য লাগে। যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের নোট একটার পর একটা লম্বালম্বিভাবে সাজানো হতো, তা প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতো — পৃথিবী থেকে চাঁদে যাওয়া-আসার দূরত্বের তুলনায় ২০০ বারের বেশি এবং এমনকি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার দূরত্বকেও ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্ব জনসংখ্যা প্রায় ৮২০ কোটি ধরা হলে এই এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি সমানভাবে ভাগ করা হতো, প্রত্যেকে পেতেন প্রায় ১২২ ডলার, যা বর্তমান বিনিময়হারে প্রায় ১৫ হাজার টাকা সমান। একই সঙ্গে মাস্কের এই সম্পদ তাঁর জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি—এ জাতীয় তুলনা এই সম্পদের অপ্রতিমতা বোঝায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর হিসাব অনুযায়ী আজকে বিশ্বের মাত্র ২১টি দেশই এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি পার করেছে।
অন্যান্য বাস্তবচিত্র দিয়ে এই পরিমাণ বোঝানো হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের সূচকে মাস্কের এই সম্পদ দিয়ে দেশটি দেখা দিচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ মাঝারি মানের বাড়ি একবারে কেনা সম্ভব। জ্বালানি তেলের বাজারে হিসাব করলে বর্তমান দামেও এক ট্রিলিয়ন ডলারে প্রায় ২৪ হাজার ৩০০ কোটি গ্যালন তেল কেনা যাবে — যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়ি কয়েক বছরের মতো চালানো সম্ভব বলে কল্পনা করা হয়েছে।
ধনী তালিকায় মাস্ক তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক দূরে এগিয়ে গেছেন। ফোর্বসের তালিকায় শীর্ষ কয়েক ধনী—গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, সার্গেই ব্রিন, জেফ বেজোস ও ল্যারি এলিসন—যদি সবাই মিলে তাদের সম্পদ যোগ করে তবুও তা মাস্কের একক সম্পদের খুব কাছে পৌঁছাবে না।
তবে স্মরণ রাখতে হবে, শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে এই সংখ্যাগুলো দ্রুত বদলে যেতে পারে। ২০২৪ সালে যেখানে মাস্কের সম্পদ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (প্রায় ১৯৫ বিলিয়ন), সেখানে স্পেসএক্সের আইপিওর প্রভাবে তা রকেটের গতিতে বেড়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে ঠেকেছে। ব্যক্তি পর্যায়ে এই বিশাল প্রাচুর্য প্রযুক্তির অসাধারণ সাফল্যের প্রতীক হলেও একদিকে তা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, ন্যায্যতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্কও ডেকে এনেছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























