০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডে-কেয়ার সেন্টার দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য: ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী নিজের বেতনের ১০% সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন বাংলা একাডেমিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় আবুল কাশেম ফজলুল হককে শেষ বিদায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপন্ন ঢাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ স্মারক ডাকটিকিট সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

এআই বুমে এসকে হাইনিক্সের রেকর্ড ২৮ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ইস্যু

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স (SK Hynix) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বর্ধনকে কাজে লাগিয়ে ন্যাসড্যাকে এক বিশাল শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। রেগুলেটরি ফাইলিংতে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি প্রায় ২৮.০৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪৩ ট্রিলিয়ন উওন) সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে—এটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নতুন শেয়ার ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফাইলিং বলছে, এসকে হাইনিক্স ন্যাসড্যাকে মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজারটি নতুন অ্যামেরিকান ডিপোজিটরি রিসিট (ADR) বিক্রি করবে। এখানে প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১০টি ADR গন্য হবে। শেয়ার বিক্রির ঘোষণা প্রকাশের পরপরই বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে; বেইলি গিফোর্ড ওভারসিজ এবং কোটু ম্যানেজমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের শেয়ারের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লেনদেনটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বা তারকম বড় শেয়ার বিক্রির কাতারে উঠতে পারে—সৌদি আরামকোর ২০১৯ সালের ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার ও আলিবাবার ২০১৪ সালের আইপিও-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। এদিকে সর্বশেষ গত মাসে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সও ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা করেছিল, যা আলাদা প্রসঙ্গ।

এসকে হাইনিক্স বর্তমানে এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ সরবরাহ করে আসছে। এই শক্ত অবস্থানই তাদের ব্যাপক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করছে এবং নতুন পুঁজির মাধ্যমে তারা উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাসড্যাকে সংগৃহীত অর্থ দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন চিপ কারখানা নির্মাণ এবং ডাচ নির্মাতা এএসএমএল (ASML) থেকে আধুনিক EUV স্ক্যানারসহ অত্যাধুনিক চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি কিনতে ব্যবহার করা হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত বাড়ন্ত মেমোরি চিপ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।

এই লিস্টিং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি এসকে হাইনিক্সের শেয়ার কেনা সহজ করবে, যা প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের উন্নয়নের জন্য ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিস্তৃত বিনিয়োগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যেখানে এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ন্যাসড্যাকে শেয়ারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের দিন নির্ধারিত করা হয়েছে এবং যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু চলে, তবে আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরুর কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বৈশ্বিক চিপ ইকোসিস্টেমে এসকে হাইনিক্সের অবস্থান আরও শক্ত হবে এবং এআই-চালিত সেবা ও ডিভাইসের দ্রুত প্রসারে তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

এআই বুমে এসকে হাইনিক্সের রেকর্ড ২৮ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ইস্যু

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স (SK Hynix) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বর্ধনকে কাজে লাগিয়ে ন্যাসড্যাকে এক বিশাল শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। রেগুলেটরি ফাইলিংতে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি প্রায় ২৮.০৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪৩ ট্রিলিয়ন উওন) সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে—এটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নতুন শেয়ার ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফাইলিং বলছে, এসকে হাইনিক্স ন্যাসড্যাকে মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজারটি নতুন অ্যামেরিকান ডিপোজিটরি রিসিট (ADR) বিক্রি করবে। এখানে প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১০টি ADR গন্য হবে। শেয়ার বিক্রির ঘোষণা প্রকাশের পরপরই বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে; বেইলি গিফোর্ড ওভারসিজ এবং কোটু ম্যানেজমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের শেয়ারের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লেনদেনটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বা তারকম বড় শেয়ার বিক্রির কাতারে উঠতে পারে—সৌদি আরামকোর ২০১৯ সালের ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার ও আলিবাবার ২০১৪ সালের আইপিও-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। এদিকে সর্বশেষ গত মাসে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সও ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা করেছিল, যা আলাদা প্রসঙ্গ।

এসকে হাইনিক্স বর্তমানে এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ সরবরাহ করে আসছে। এই শক্ত অবস্থানই তাদের ব্যাপক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করছে এবং নতুন পুঁজির মাধ্যমে তারা উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাসড্যাকে সংগৃহীত অর্থ দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন চিপ কারখানা নির্মাণ এবং ডাচ নির্মাতা এএসএমএল (ASML) থেকে আধুনিক EUV স্ক্যানারসহ অত্যাধুনিক চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি কিনতে ব্যবহার করা হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত বাড়ন্ত মেমোরি চিপ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।

এই লিস্টিং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি এসকে হাইনিক্সের শেয়ার কেনা সহজ করবে, যা প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের উন্নয়নের জন্য ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিস্তৃত বিনিয়োগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যেখানে এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ন্যাসড্যাকে শেয়ারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের দিন নির্ধারিত করা হয়েছে এবং যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু চলে, তবে আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরুর কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বৈশ্বিক চিপ ইকোসিস্টেমে এসকে হাইনিক্সের অবস্থান আরও শক্ত হবে এবং এআই-চালিত সেবা ও ডিভাইসের দ্রুত প্রসারে তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।