জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে। তারা গণসচেতনতা বৃদ্ধি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ ঘোষণা ও সারাদেশে উদযাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতিতে কন্যাশিশু সম্পর্কে পৃথক ধারাবলি সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং চলাচল, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ বহুমুখী সমস্যা নিয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভায় প্রতিনিধিদলের বক্তৃতি মনোযোগ ও ধৈর্যের সঙ্গে শুনেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি পরিবারের সন্তানই তার পরিবারের ভিত্তি—কন্যাসন্তান থাকুক বা পুত্র, সবাইকে নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে বড় করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেও কন্যাশিশুদের প্রতি মমতাবোধ বজায় রাখা প্রয়োজন। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে পুত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা কাম্য নয়। দেশের অনেক নারী অপুষ্টিতে ভোগে, পরিবারের জন্য তারা নিজের ক্ষতি করে কাজ করেন; তাদের প্রতি অসম্মান অত্যন্ত দুঃখজনক। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিকভাবে অনেকটা এগিয়ে আছে, এমন দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের শেখার আছে।’’
তিনি আরও জানান, পার্লামেন্টে শিশু অধিকার বিষয়ক ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা উচিত। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ; তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে আইন ও বিধিমালায় সংশোধনী প্রস্তাব ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে এবং সংসদীয় উদ্যোগে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি সরকারের ইতোমধ্যেই কন্যাশিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে সকল পক্ষই সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও সমাজিক সংগঠনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবার-সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে বলা হয়।
সভায় নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় এবং নীতিনির্ধারণীর পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। প্রতি সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় চলে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা तथा সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে তার অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। উভয়পক্ষ ভবিষ্যতেও নারী ও কন্যাশিশুর সার্বিক কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে সাক্ষাৎকার সমাপ্ত করে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























