১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যা করে উঠানে মাটিচাপা; স্বামী ও চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার অন্তর্গত করিমপুর চা বাগান এলাকা থেকে প্রায় ২০ দিন নিখোঁজ থাকার পর এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে।

সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আলমগীর আলীর বাড়ির উঠান খুঁড়ে সেখানে পুঁতে রাখা জায়দা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় ঘটে।

নিহত জায়দা বেগম মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর আলী করিমপুর চা বাগানের মৃত নুর আলীর ছেলে। দম্পতির সংসারে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, জায়দা বেগম নিখোঁজ হওয়ায় তার বাবা ৩ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই নিখোঁজের তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে একপর্যায় স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। আলমগীর জানায়, গত ১৭ জুন তিনি জায়দাকে হত্যা করে বাড়ির উঠানের একপাশে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন। পরে আলমগীরের দেখানো স্থানে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ১৮ জুন আলমগীর তাদের বাড়িতে এসে সাত বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দাবি করেন যে তার স্ত্রী কাজের ভিসায় সৌদি আরব চলে গেছেন। কিন্তু কয়েক দিন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ জাগে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীরের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যায়। স্থানীয়দের পরামর্শে ৩ জুলাই নিহতের বাবা রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো যাচাই চলছে; তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের ফলে তদন্ত দ্রুত এগোবে এবং আসল কারণ সুবিধাজনকভাবে জানানো যাবে।

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আর ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যা করে উঠানে মাটিচাপা; স্বামী ও চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার অন্তর্গত করিমপুর চা বাগান এলাকা থেকে প্রায় ২০ দিন নিখোঁজ থাকার পর এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে।

সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আলমগীর আলীর বাড়ির উঠান খুঁড়ে সেখানে পুঁতে রাখা জায়দা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় ঘটে।

নিহত জায়দা বেগম মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর আলী করিমপুর চা বাগানের মৃত নুর আলীর ছেলে। দম্পতির সংসারে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, জায়দা বেগম নিখোঁজ হওয়ায় তার বাবা ৩ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই নিখোঁজের তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে একপর্যায় স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। আলমগীর জানায়, গত ১৭ জুন তিনি জায়দাকে হত্যা করে বাড়ির উঠানের একপাশে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন। পরে আলমগীরের দেখানো স্থানে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ১৮ জুন আলমগীর তাদের বাড়িতে এসে সাত বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দাবি করেন যে তার স্ত্রী কাজের ভিসায় সৌদি আরব চলে গেছেন। কিন্তু কয়েক দিন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ জাগে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীরের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যায়। স্থানীয়দের পরামর্শে ৩ জুলাই নিহতের বাবা রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো যাচাই চলছে; তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের ফলে তদন্ত দ্রুত এগোবে এবং আসল কারণ সুবিধাজনকভাবে জানানো যাবে।

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আর ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে।