০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডে-কেয়ার সেন্টার দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য: ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী নিজের বেতনের ১০% সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন বাংলা একাডেমিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় আবুল কাশেম ফজলুল হককে শেষ বিদায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপন্ন ঢাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ স্মারক ডাকটিকিট সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়ে উঠেছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার পুরনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই চলছে; ফলশ্রুতিতে দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন জিএম কাদের।

তিনি আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংকের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে পারে।

সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, গত জুলাইয়ের যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাটি ছিল, সেটার আভাস এখনকার রাষ্ট্রপরিচালনায় মেলেনি। বরং সেই নামের আড়ালে এখন নতুনভাবে বৈষম্য, দমন-পীড়ন এবং স্বতন্ত্র মতপোষণ দমন করা হচ্ছে।

তিনি বলছেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে রাস্তায় হেনস্থা করা, জনজীবনে বাধা সৃষ্টি করা এবং আইনগতভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো আচরণই ফ্যাসিবাদী মনোভাবের প্রকাশ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবনাকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কেবল এক দলকে বাদ দিলে বা দমন করলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না; বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সময়ের দাবি।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষ দারুণ কষ্টে আছে এবং এই দায়ভার সরকারেরই গ্রহণ করা উচিত। তিনি দেশের তরুণ সমাজকে নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে বলেন, তরুণরা ব্যাপকভাবে হতাশ, তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই, ভবিষ্যত অনিশ্চিত—ফলে তারা মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করে অকার্যকর করা হয়েছে।

শেষে তিনি সবাইকে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য গ্রহণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যা না হলে দেশ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষম অবস্থার মুখে পড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়ে উঠেছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার পুরনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই চলছে; ফলশ্রুতিতে দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন জিএম কাদের।

তিনি আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংকের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে পারে।

সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, গত জুলাইয়ের যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাটি ছিল, সেটার আভাস এখনকার রাষ্ট্রপরিচালনায় মেলেনি। বরং সেই নামের আড়ালে এখন নতুনভাবে বৈষম্য, দমন-পীড়ন এবং স্বতন্ত্র মতপোষণ দমন করা হচ্ছে।

তিনি বলছেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে রাস্তায় হেনস্থা করা, জনজীবনে বাধা সৃষ্টি করা এবং আইনগতভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো আচরণই ফ্যাসিবাদী মনোভাবের প্রকাশ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবনাকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কেবল এক দলকে বাদ দিলে বা দমন করলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না; বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সময়ের দাবি।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষ দারুণ কষ্টে আছে এবং এই দায়ভার সরকারেরই গ্রহণ করা উচিত। তিনি দেশের তরুণ সমাজকে নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে বলেন, তরুণরা ব্যাপকভাবে হতাশ, তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই, ভবিষ্যত অনিশ্চিত—ফলে তারা মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করে অকার্যকর করা হয়েছে।

শেষে তিনি সবাইকে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য গ্রহণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যা না হলে দেশ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষম অবস্থার মুখে পড়তে পারে।