০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সরকারি তহবিল থেকে বিদেশভ্রমণ ও নতুন গাড়ি ক্রয় বন্ধ ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের তৎপরতা শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ইসি: জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে তাদাও আন্দোর নকশায় আধুনিক ‘বাংলাদেশ চিলড্রেন লাইব্রেরি’ নির্মাণ অক্টোবর থেকে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: তথ্য উপদেষ্টা মানিকগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ার আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা: অক্টোবরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

‘সতলুজ’ ৪৮ ঘণ্টায় জি-ফাইভ থেকে সরানো—ভারতে নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র বিতর্ক

পাঞ্জাবের বিতর্কিত সিনেমা ‘সতলুজ’ মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভ থেকে অপসারণের ঘটনা তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শিখ মানবাধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবনীভিত্তিক ছবিটিতে প্রধান ভূমিকায় থাকা জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ সামাজিক মাধ্যমেই বেজিং করে বলেছেন, খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বরকে কেউ নিরব করে দিতে পারবে না। ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশের পর তিনি ভক্তদের সেটি ডাউনলোড করে রাখতে বলেছিলেন এবং রাজস্থানে আকাশতলীয় এক গণপ্রদর্শনীর ভিডিও শেয়ার করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হানি ত্রেহানের পরিচালিত ‘সতলুজ’ মূলত ১৯৮৪–১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়া হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরে। জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শকদের প্রত্যাশিত সাড়া থাকা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভারতের ভেতরে স্ট্রিমিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে; প্ল্যাটফর্মটি গ্লোবালি এখনও দেখা যাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি ভারতে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে। শিরোমনি আকালি দল, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি অভিযোগ করেছে যে এটি ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় সরকার পাঞ্জাবের অতীত ইতিহাস লুকোচ্ছে—এই নিয়েই তারা তীব্র সমালোচনা করছেন। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য বিতর্কিত চলচ্চিত্রগুলো যে ভাবে প্রদর্শন পায়, সে তুলনায় মানবাধিকারভিত্তিক এই ছবিটিকে কেন সেন্সরের বেড়াজালে আটকে রাখা হচ্ছে।

সিনেমাটির মুক্তির পথ সহজ ছিল না। ২০২২ সালে ‘ঘাল্লুঘারা’ শিরোনামে সেন্সর বোর্ডে জমা পড়ার সময় ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ চলে এবং পরবর্তী তিন বছরে আইনি ও সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতা শুরু হয়। সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো কাটছাঁট ছাড়াই গোপনীয়তার মধ্যে ওটিটিতে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র জশবন্ত সিং খালরা ৯০-এর দশকে পুলিশ কর্তৃক বেওয়ারিশ হওয়া প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছিলেন বলে পরিচিত; ১৯৯৫ সালে তাঁকে অপহরণ করে পুলিশ হেফাজতেই হত্যা করা হয় এবং সেই ঘটনার ঘটনায় পরে সিবিআই চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর আবারো ভারতীয় সেন্সরশিপ নীতির দ্বৈত মান নিয়ে তীব্র বিতর্ক জেগেছে এবং প্রশ্ন উঠেছে—কোন নীতিতে কাকে প্রকাশ করা হচ্ছে ও কাকে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ‘সতলুজ’ কাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে শোনা যাচ্ছে নতুন করে মুক্তচিন্তার অধিকার ও ইতিহাসের সত্য আগলে রাখার দাবি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’

‘সতলুজ’ ৪৮ ঘণ্টায় জি-ফাইভ থেকে সরানো—ভারতে নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র বিতর্ক

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

পাঞ্জাবের বিতর্কিত সিনেমা ‘সতলুজ’ মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভ থেকে অপসারণের ঘটনা তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শিখ মানবাধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবনীভিত্তিক ছবিটিতে প্রধান ভূমিকায় থাকা জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ সামাজিক মাধ্যমেই বেজিং করে বলেছেন, খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বরকে কেউ নিরব করে দিতে পারবে না। ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশের পর তিনি ভক্তদের সেটি ডাউনলোড করে রাখতে বলেছিলেন এবং রাজস্থানে আকাশতলীয় এক গণপ্রদর্শনীর ভিডিও শেয়ার করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হানি ত্রেহানের পরিচালিত ‘সতলুজ’ মূলত ১৯৮৪–১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়া হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরে। জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শকদের প্রত্যাশিত সাড়া থাকা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভারতের ভেতরে স্ট্রিমিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে; প্ল্যাটফর্মটি গ্লোবালি এখনও দেখা যাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি ভারতে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে। শিরোমনি আকালি দল, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি অভিযোগ করেছে যে এটি ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় সরকার পাঞ্জাবের অতীত ইতিহাস লুকোচ্ছে—এই নিয়েই তারা তীব্র সমালোচনা করছেন। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য বিতর্কিত চলচ্চিত্রগুলো যে ভাবে প্রদর্শন পায়, সে তুলনায় মানবাধিকারভিত্তিক এই ছবিটিকে কেন সেন্সরের বেড়াজালে আটকে রাখা হচ্ছে।

সিনেমাটির মুক্তির পথ সহজ ছিল না। ২০২২ সালে ‘ঘাল্লুঘারা’ শিরোনামে সেন্সর বোর্ডে জমা পড়ার সময় ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ চলে এবং পরবর্তী তিন বছরে আইনি ও সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতা শুরু হয়। সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো কাটছাঁট ছাড়াই গোপনীয়তার মধ্যে ওটিটিতে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র জশবন্ত সিং খালরা ৯০-এর দশকে পুলিশ কর্তৃক বেওয়ারিশ হওয়া প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছিলেন বলে পরিচিত; ১৯৯৫ সালে তাঁকে অপহরণ করে পুলিশ হেফাজতেই হত্যা করা হয় এবং সেই ঘটনার ঘটনায় পরে সিবিআই চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর আবারো ভারতীয় সেন্সরশিপ নীতির দ্বৈত মান নিয়ে তীব্র বিতর্ক জেগেছে এবং প্রশ্ন উঠেছে—কোন নীতিতে কাকে প্রকাশ করা হচ্ছে ও কাকে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ‘সতলুজ’ কাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে শোনা যাচ্ছে নতুন করে মুক্তচিন্তার অধিকার ও ইতিহাসের সত্য আগলে রাখার দাবি।