০৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সরকারি তহবিল থেকে বিদেশভ্রমণ ও নতুন গাড়ি ক্রয় বন্ধ ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের তৎপরতা শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ইসি: জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে তাদাও আন্দোর নকশায় আধুনিক ‘বাংলাদেশ চিলড্রেন লাইব্রেরি’ নির্মাণ অক্টোবর থেকে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: তথ্য উপদেষ্টা মানিকগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ার আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা: অক্টোবরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, বিভ্রান্তি ও অপতথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী বলেন, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত উদ্যোগ ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং অপতথ্য নিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ মোট ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি প্রতিবেদন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩–৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ছাঁচে তৈরি ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানালেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) নিয়ে মোট ১৪টি বিশেষ কর্মশালা রয়েছে।

প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেয়ানো হচ্ছে, এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।

তবে সংসদে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ সেল গঠন বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ঘোষণা করেননি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’

তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, বিভ্রান্তি ও অপতথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী বলেন, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত উদ্যোগ ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং অপতথ্য নিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ মোট ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি প্রতিবেদন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩–৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ছাঁচে তৈরি ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানালেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) নিয়ে মোট ১৪টি বিশেষ কর্মশালা রয়েছে।

প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেয়ানো হচ্ছে, এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।

তবে সংসদে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ সেল গঠন বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ঘোষণা করেননি।