০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন: চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় তিন নতুন উপজেলা আগামী ৫ বছরে বিদেশে পাঠানো হবে ১ কোটি দক্ষ কর্মী: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ‘বাংলাফ্যাক্ট’: তথ্যমন্ত্রী স্বপন সরকারি তহবিল থেকে বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সরকারি তহবিল থেকে বিদেশভ্রমণ ও নতুন গাড়ি ক্রয় বন্ধ ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের তৎপরতা শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ইসি: জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায়

অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ‘বাংলাফ্যাক্ট’: তথ্যমন্ত্রী স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় নানাধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কাজের অন্যতম অংশ হিসেবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত স্বয়ংসম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ বিষয়ে সতর্কতা ও সত্যতা যাচাইয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ থেকে সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেছিলেন, এআই ও ডিপফেকের অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন দিক থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তথ্যপ্রণালী উন্নয়নে কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ মোট ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩০৬টি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি করে দাবি‑ভিত্তিক সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে, মন্ত্রী বলেছিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমের ছদ্মবেশে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতেও ব্যাপক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন।

এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) সম্পর্কিত ১৪টি কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে সংসদে করা প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

টানা বর্ষণে পার্বত্যাঞ্চলে দুর্যোগ, পাঁচজন নিহত

অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ‘বাংলাফ্যাক্ট’: তথ্যমন্ত্রী স্বপন

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় নানাধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কাজের অন্যতম অংশ হিসেবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত স্বয়ংসম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ বিষয়ে সতর্কতা ও সত্যতা যাচাইয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ থেকে সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেছিলেন, এআই ও ডিপফেকের অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন দিক থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তথ্যপ্রণালী উন্নয়নে কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ মোট ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩০৬টি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি করে দাবি‑ভিত্তিক সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে, মন্ত্রী বলেছিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমের ছদ্মবেশে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতেও ব্যাপক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন।

এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) সম্পর্কিত ১৪টি কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে সংসদে করা প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।