১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হরমুজ অস্থিরতায় জ্বালানি তেল উদ্বৃত্ত অনিশ্চিত: আইইএ সতর্ক

আদালতি-সালিসি নয়—আর্থ-রাজনীতির ঢেউয়ে এখন জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানায়, আগামী বছর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবু হরমুজ প্রণালীতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই উদ্বৃত্ত হারানো বা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়েছে।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে আইইএ বলেছে, গত জুনে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু এই পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব সময়ের সরবরাহের তুলনায় এখনও দৈনিক প্রায় ৯৪ লাখ ব্যারেল কম। অর্থাৎ সাম্প্রতিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।

আইইএ’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল দৈনিক হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে আগামী বছর সরবরাহের পরিমাণ আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—প্রতিবেদন বলছে এটি দৈনিক প্রায় ৭৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু সংস্থাটি জোর দিয়ে সতর্ক করেছে যে, এই সম্ভাব্য বৃদ্ধিই সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতার ওপর।

বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার ফলে তেলের সরবরাহ উদ্বৃত্ত হিসেবে দেখা যাওয়া ইতিবাচক চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে। আইইএ জানিয়েছে, যদি উৎপাদন এবং পরিবহন সামঞ্জস্য রক্ষা করে যায়, তবে আগামী বছর চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল বাজারে থাকতে পারে।

চাহিদার দিকেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি বছর বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমার আশঙ্কা আছে, তবে সংস্থার প্রাক্কলন মতে ২০২৭ সালের মধ্যে এটি আবার বাঁধা লম্বা হয়ে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা শুধু জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাজারে দর-দরদাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের জন্যই প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হরমুজ অস্থিরতায় জ্বালানি তেল উদ্বৃত্ত অনিশ্চিত: আইইএ সতর্ক

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

আদালতি-সালিসি নয়—আর্থ-রাজনীতির ঢেউয়ে এখন জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানায়, আগামী বছর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবু হরমুজ প্রণালীতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই উদ্বৃত্ত হারানো বা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়েছে।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে আইইএ বলেছে, গত জুনে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু এই পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব সময়ের সরবরাহের তুলনায় এখনও দৈনিক প্রায় ৯৪ লাখ ব্যারেল কম। অর্থাৎ সাম্প্রতিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।

আইইএ’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল দৈনিক হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে আগামী বছর সরবরাহের পরিমাণ আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—প্রতিবেদন বলছে এটি দৈনিক প্রায় ৭৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু সংস্থাটি জোর দিয়ে সতর্ক করেছে যে, এই সম্ভাব্য বৃদ্ধিই সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতার ওপর।

বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার ফলে তেলের সরবরাহ উদ্বৃত্ত হিসেবে দেখা যাওয়া ইতিবাচক চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে। আইইএ জানিয়েছে, যদি উৎপাদন এবং পরিবহন সামঞ্জস্য রক্ষা করে যায়, তবে আগামী বছর চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল বাজারে থাকতে পারে।

চাহিদার দিকেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি বছর বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমার আশঙ্কা আছে, তবে সংস্থার প্রাক্কলন মতে ২০২৭ সালের মধ্যে এটি আবার বাঁধা লম্বা হয়ে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা শুধু জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাজারে দর-দরদাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের জন্যই প্রভাব ফেলবে।