০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ ও ইকো পণ্য: ঢাকায় দুই বড় প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয় চীফ হুইপ নূরুল ইসলামের গভীর শোক প্রকাশ — ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতায় বন্যার্তদের পাশে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন আর নেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ সরকারি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য রেশন সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়

অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার দুপুরে সচিবালয় থেকে জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার সর্বশেষ অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিস্থিতি, উদ্ধার ও ত্রাণকার্য এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকালীন এই সময় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তিনি তৎপরতার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা সমান গুরুত্বে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা—এসব বিষয়েও তিনি বিশেষ জোর দেন। বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা ত্রাণ আত্মসাৎ করতে পারবে না—এটা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রাখতে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার প্রদানে গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা, উদ্ধার ও ত্রাণসংগ্রহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়, নদ-নদীর পানি স্তর পর্যবেক্ষণ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত রাখার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আর সিলেটে মনু নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এই সব প্রতিবেদন শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।

বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, দ্রুত ত্রাণ, সুশৃঙ্খল সমন্বয় ও সতর্ক নজরদারি ছাড়া এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। সরকার ও মাঠ প্রশাসনকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়

প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার দুপুরে সচিবালয় থেকে জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার সর্বশেষ অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিস্থিতি, উদ্ধার ও ত্রাণকার্য এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকালীন এই সময় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তিনি তৎপরতার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা সমান গুরুত্বে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা—এসব বিষয়েও তিনি বিশেষ জোর দেন। বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা ত্রাণ আত্মসাৎ করতে পারবে না—এটা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রাখতে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার প্রদানে গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা, উদ্ধার ও ত্রাণসংগ্রহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়, নদ-নদীর পানি স্তর পর্যবেক্ষণ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত রাখার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আর সিলেটে মনু নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এই সব প্রতিবেদন শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।

বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, দ্রুত ত্রাণ, সুশৃঙ্খল সমন্বয় ও সতর্ক নজরদারি ছাড়া এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। সরকার ও মাঠ প্রশাসনকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।