১০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোনারগাঁয়ের প্রতাপের চর এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা নিয়ে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুইজনের একই স্থানে সভার আয়োজনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রতাপের চর এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থক-পর্দশীর মধ্যে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত বিকেলবেলা: নির্বাচনী কর্মসূচি অনুসারে বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। এ খবরের সূত্র ধরে উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রাজার সমর্থক ইকবাল হোসেন সেখানে তড়িঘড়ি করে বিশাল প্যান্ডেল বসিয়ে ভূড়িভোজের আয়োজন করেন। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কূট-কটু কথাবার্তাও নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ বাদ দেন: খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উভয় প্রার্থীর সভা বন্ধ করে দেন। পুলিশ এলে পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং বড় ধরনের কোন সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

প্রার্থীদের দাবিফলক: চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, সভা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তাদের পক্ষই প্যান্ডেল-ভোজ করে সরাসরি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রফিকুল আরও দাবি করেছেন, মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িত; পুলিশ তদন্ত করলে সব সত্য এ প্রকাশ পাবে।

অপরপ্রান্তে মাসুম রানা তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মাদকের যোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মাছুল তিনি ১৫ দিন আগে থেকেই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নির্বাচনী সভার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মা-বোন ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চালানোর প্রস্তুতি ছিল। হঠাৎ করে রফিকুল একই স্থানে সভা ডেকায় বিভ্রাট তৈরি হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য: সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, একই স্থানে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সভা হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতও জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধেই পুলিশ উভয় সভা বন্ধ করেছে।

স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, প্রতাপের চরসহ পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তর্কবিতর্ক, গ্রাম্য-level চাপানউতোর এবং কিছু ঘটনায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে; তাই নির্বাচনী পরিবেশ শিয়রে রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নির্বাচন মুখিয়ে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

সোনারগাঁয়ের প্রতাপের চর এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুইজনের একই স্থানে সভার আয়োজনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রতাপের চর এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থক-পর্দশীর মধ্যে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত বিকেলবেলা: নির্বাচনী কর্মসূচি অনুসারে বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। এ খবরের সূত্র ধরে উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রাজার সমর্থক ইকবাল হোসেন সেখানে তড়িঘড়ি করে বিশাল প্যান্ডেল বসিয়ে ভূড়িভোজের আয়োজন করেন। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কূট-কটু কথাবার্তাও নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ বাদ দেন: খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উভয় প্রার্থীর সভা বন্ধ করে দেন। পুলিশ এলে পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং বড় ধরনের কোন সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

প্রার্থীদের দাবিফলক: চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, সভা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তাদের পক্ষই প্যান্ডেল-ভোজ করে সরাসরি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রফিকুল আরও দাবি করেছেন, মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িত; পুলিশ তদন্ত করলে সব সত্য এ প্রকাশ পাবে।

অপরপ্রান্তে মাসুম রানা তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মাদকের যোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মাছুল তিনি ১৫ দিন আগে থেকেই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নির্বাচনী সভার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মা-বোন ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চালানোর প্রস্তুতি ছিল। হঠাৎ করে রফিকুল একই স্থানে সভা ডেকায় বিভ্রাট তৈরি হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য: সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, একই স্থানে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সভা হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতও জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধেই পুলিশ উভয় সভা বন্ধ করেছে।

স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, প্রতাপের চরসহ পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তর্কবিতর্ক, গ্রাম্য-level চাপানউতোর এবং কিছু ঘটনায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে; তাই নির্বাচনী পরিবেশ শিয়রে রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নির্বাচন মুখিয়ে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।