০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সোনারগাঁয়ের প্রতাপের চর এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা নিয়ে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুইজনের একই স্থানে সভার আয়োজনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রতাপের চর এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থক-পর্দশীর মধ্যে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত বিকেলবেলা: নির্বাচনী কর্মসূচি অনুসারে বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। এ খবরের সূত্র ধরে উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রাজার সমর্থক ইকবাল হোসেন সেখানে তড়িঘড়ি করে বিশাল প্যান্ডেল বসিয়ে ভূড়িভোজের আয়োজন করেন। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কূট-কটু কথাবার্তাও নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ বাদ দেন: খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উভয় প্রার্থীর সভা বন্ধ করে দেন। পুলিশ এলে পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং বড় ধরনের কোন সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

প্রার্থীদের দাবিফলক: চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, সভা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তাদের পক্ষই প্যান্ডেল-ভোজ করে সরাসরি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রফিকুল আরও দাবি করেছেন, মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িত; পুলিশ তদন্ত করলে সব সত্য এ প্রকাশ পাবে।

অপরপ্রান্তে মাসুম রানা তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মাদকের যোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মাছুল তিনি ১৫ দিন আগে থেকেই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নির্বাচনী সভার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মা-বোন ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চালানোর প্রস্তুতি ছিল। হঠাৎ করে রফিকুল একই স্থানে সভা ডেকায় বিভ্রাট তৈরি হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য: সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, একই স্থানে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সভা হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতও জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধেই পুলিশ উভয় সভা বন্ধ করেছে।

স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, প্রতাপের চরসহ পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তর্কবিতর্ক, গ্রাম্য-level চাপানউতোর এবং কিছু ঘটনায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে; তাই নির্বাচনী পরিবেশ শিয়রে রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নির্বাচন মুখিয়ে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সোনারগাঁয়ের প্রতাপের চর এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুইজনের একই স্থানে সভার আয়োজনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রতাপের চর এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থক-পর্দশীর মধ্যে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত বিকেলবেলা: নির্বাচনী কর্মসূচি অনুসারে বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। এ খবরের সূত্র ধরে উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রাজার সমর্থক ইকবাল হোসেন সেখানে তড়িঘড়ি করে বিশাল প্যান্ডেল বসিয়ে ভূড়িভোজের আয়োজন করেন। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কূট-কটু কথাবার্তাও নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ বাদ দেন: খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উভয় প্রার্থীর সভা বন্ধ করে দেন। পুলিশ এলে পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং বড় ধরনের কোন সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

প্রার্থীদের দাবিফলক: চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, সভা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তাদের পক্ষই প্যান্ডেল-ভোজ করে সরাসরি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রফিকুল আরও দাবি করেছেন, মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িত; পুলিশ তদন্ত করলে সব সত্য এ প্রকাশ পাবে।

অপরপ্রান্তে মাসুম রানা তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মাদকের যোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মাছুল তিনি ১৫ দিন আগে থেকেই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নির্বাচনী সভার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মা-বোন ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চালানোর প্রস্তুতি ছিল। হঠাৎ করে রফিকুল একই স্থানে সভা ডেকায় বিভ্রাট তৈরি হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য: সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, একই স্থানে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সভা হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতও জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধেই পুলিশ উভয় সভা বন্ধ করেছে।

স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, প্রতাপের চরসহ পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তর্কবিতর্ক, গ্রাম্য-level চাপানউতোর এবং কিছু ঘটনায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে; তাই নির্বাচনী পরিবেশ শিয়রে রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নির্বাচন মুখিয়ে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।