০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি

ছয় মাসে সারাদেশে ৪০৪ ধর্ষণ; নির্যাতন বেড়েছে ৫৬%

দেশে গত ছয় মাসে মোট ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে—এদের মধ্যে ২৩৮ জন শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

এই তথ্য জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেন বলেছে, আগামীপর্যন্ত ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২। অর্থাৎ এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ছয় মাসে ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়েছে।

যৌতুকের নামে নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত, ৮ জন আহত এবং ৩ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৩২০ নারী নিহত হয়েছেন, ২১১ জন আহত এবং ১৪৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।

এইচআরএসএস জানিয়েছে, একই সময়ে ১,০৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; তাদের মধ্যে ৩০৫ জন নিহত হয়েছে। ৭৭২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচরণে পড়েছেন। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৭৩ জন, যার মধ্যে নিহত হয়েছিল ১৩২ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই তথ্যগুলো দেশের ১৬টি মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন—এসব সমস্যা সমাধান করা না হলে মানুষের মৌলিক অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ ও মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

রিপোর্টটির তথ্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ দেখায় এবং তৎপরতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ছয় মাসে সারাদেশে ৪০৪ ধর্ষণ; নির্যাতন বেড়েছে ৫৬%

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

দেশে গত ছয় মাসে মোট ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে—এদের মধ্যে ২৩৮ জন শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

এই তথ্য জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেন বলেছে, আগামীপর্যন্ত ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২। অর্থাৎ এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ছয় মাসে ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়েছে।

যৌতুকের নামে নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত, ৮ জন আহত এবং ৩ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৩২০ নারী নিহত হয়েছেন, ২১১ জন আহত এবং ১৪৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।

এইচআরএসএস জানিয়েছে, একই সময়ে ১,০৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; তাদের মধ্যে ৩০৫ জন নিহত হয়েছে। ৭৭২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচরণে পড়েছেন। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৭৩ জন, যার মধ্যে নিহত হয়েছিল ১৩২ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই তথ্যগুলো দেশের ১৬টি মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন—এসব সমস্যা সমাধান করা না হলে মানুষের মৌলিক অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ ও মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

রিপোর্টটির তথ্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ দেখায় এবং তৎপরতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে।