১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখেরও বেশি

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষা, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলায় বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন। ওই জেলায় এখন পর্যন্ত পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২,৪৯৩টি পরিবার। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দুর্যোগপীড়িত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

দুর্যোগপ্রবণ সাতটি জেলা হল—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রভাবিত এলাকার মানুষের কাছে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিতে তৎপরতা চলছে। তারপরও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছাতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা হিসেবে প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দিয়েছে কক্সবাজারে—সেখানে ৩২ জন মারা গেছেন; যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন, বান্দরবানে ৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১ জন, বান্দরবানে ২ জন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করছে; সেখানে উদ্ধারকর্মীরাও স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহ, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে, তবে কঠিন আবহাওয়া ও অবরুদ্ধ সড়ক অনেক এলাকাকে এখনও বিচ্ছিন্ন রেখেছে। পরিস্থিতি নিরীক্ষণ ও অতিরিক্ত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখেরও বেশি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষা, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলায় বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন। ওই জেলায় এখন পর্যন্ত পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২,৪৯৩টি পরিবার। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দুর্যোগপীড়িত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

দুর্যোগপ্রবণ সাতটি জেলা হল—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রভাবিত এলাকার মানুষের কাছে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিতে তৎপরতা চলছে। তারপরও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছাতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা হিসেবে প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দিয়েছে কক্সবাজারে—সেখানে ৩২ জন মারা গেছেন; যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন, বান্দরবানে ৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১ জন, বান্দরবানে ২ জন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করছে; সেখানে উদ্ধারকর্মীরাও স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহ, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে, তবে কঠিন আবহাওয়া ও অবরুদ্ধ সড়ক অনেক এলাকাকে এখনও বিচ্ছিন্ন রেখেছে। পরিস্থিতি নিরীক্ষণ ও অতিরিক্ত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।