০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার সরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে ২০ দিন ধরে বন্ধ একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানা আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭ বাংলাদেশের পাশে লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মাঝেই ফের দিল্লি রাস্তায় কৃষকরা

দিল্লির দিকে ফের পদযাত্রায় উঠে এসেছে কৃষক শিবির। একদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দিল্লি চলো কর্মসূচি রাজধানীকে উত্তাল করে তুলেছে, অন্যদিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় পাঞ্জাবের শত শত কৃষক রাজধানীর পথে রওনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাওয়া এই বিশাল কৃষক বহরকে শম্ভু সীমান্তে আটকে দেয় হরিয়ানা পুলিশ।

শম্ভুতে সিমেন্টের ব্লক, লোহার কাঁটা ও উঁচু ব্যারিকেড বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করার সেই চিত্র ২০২৪ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতি তাজা করেছে, এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উভয় সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

কৃষক নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেছেন, হরিয়ানা পুলিশ নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঞ্জাবের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে, কিন্তু পাঞ্জাব সরকার নীরব। তেজবীরের ভাষায়, পাঞ্জাব সীমান্তেই বাধা তৈরি করা হলেও আম্বালা ও কুরুক্ষেত্রের হরিয়ানার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশ্য নজিরবিহীনভাবে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একত্রিত হয়ে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত ডেকেছে। কিষাণ মজদুর মোর্চা, বিকেইউ একতা সংঘর্ষসহ কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা হলেও শম্ভু সীমান্তে ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছেন।

কৃষকদের প্রধান উদ্বেগ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেছেন, ২০২৬ সালের শরতের মধ্যে চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তি শুধুমাত্র সাধারণ পণ্যের বাণিজ্য নয়—কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প ও ডিজিটাল বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও উন্মুক্ত করে দেবে।

কৃষকরা মনে করেন অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা এবং পোল্ট্রির মতো পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর চাপ দিয়েছে; যদি ভর্তুকিপ্রাপ্ত সস্তা আমদানি এসে ভারতীয় বাজারে ঢুকে পড়ে, তাহলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না এবং জীবনযাত্রার সংকট তৈরি হবে।

কৃষক সংগঠনগুলো সরব করে সতর্ক করেছে যে ভারতের দুগ্ধখাতের ওপর প্রায় ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) গ্রামীণ পরিবারের জীবন নির্ভরশীল। যদি বিদেশি আধিপত্য গড়ে ওঠে, তাহলে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি ধসের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি তারা চুক্তি সম্পর্কিত আলোচনার তথ্য সাধারণ জনসমক্ষে না আনার কারণে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চুক্তির যাবতীয় নথি অবিলম্বে প্রকাশের দাবি করেছে।

কৃষকরা আরও বলছে, কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করা হবে না—এমন আল্টিমেটামও তারা দিয়েছেন। পরিস্থিতি তদারকি করতে দিল্লি সীমানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শম্ভু সীমান্তে আটকে থাকা কৃষকরা নিজেরা ও মামলার কর্তৃপক্ষরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন

ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মাঝেই ফের দিল্লি রাস্তায় কৃষকরা

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দিল্লির দিকে ফের পদযাত্রায় উঠে এসেছে কৃষক শিবির। একদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দিল্লি চলো কর্মসূচি রাজধানীকে উত্তাল করে তুলেছে, অন্যদিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় পাঞ্জাবের শত শত কৃষক রাজধানীর পথে রওনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাওয়া এই বিশাল কৃষক বহরকে শম্ভু সীমান্তে আটকে দেয় হরিয়ানা পুলিশ।

শম্ভুতে সিমেন্টের ব্লক, লোহার কাঁটা ও উঁচু ব্যারিকেড বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করার সেই চিত্র ২০২৪ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতি তাজা করেছে, এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উভয় সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

কৃষক নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেছেন, হরিয়ানা পুলিশ নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঞ্জাবের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে, কিন্তু পাঞ্জাব সরকার নীরব। তেজবীরের ভাষায়, পাঞ্জাব সীমান্তেই বাধা তৈরি করা হলেও আম্বালা ও কুরুক্ষেত্রের হরিয়ানার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশ্য নজিরবিহীনভাবে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একত্রিত হয়ে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত ডেকেছে। কিষাণ মজদুর মোর্চা, বিকেইউ একতা সংঘর্ষসহ কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা হলেও শম্ভু সীমান্তে ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছেন।

কৃষকদের প্রধান উদ্বেগ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেছেন, ২০২৬ সালের শরতের মধ্যে চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তি শুধুমাত্র সাধারণ পণ্যের বাণিজ্য নয়—কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প ও ডিজিটাল বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও উন্মুক্ত করে দেবে।

কৃষকরা মনে করেন অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা এবং পোল্ট্রির মতো পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর চাপ দিয়েছে; যদি ভর্তুকিপ্রাপ্ত সস্তা আমদানি এসে ভারতীয় বাজারে ঢুকে পড়ে, তাহলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না এবং জীবনযাত্রার সংকট তৈরি হবে।

কৃষক সংগঠনগুলো সরব করে সতর্ক করেছে যে ভারতের দুগ্ধখাতের ওপর প্রায় ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) গ্রামীণ পরিবারের জীবন নির্ভরশীল। যদি বিদেশি আধিপত্য গড়ে ওঠে, তাহলে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি ধসের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি তারা চুক্তি সম্পর্কিত আলোচনার তথ্য সাধারণ জনসমক্ষে না আনার কারণে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চুক্তির যাবতীয় নথি অবিলম্বে প্রকাশের দাবি করেছে।

কৃষকরা আরও বলছে, কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করা হবে না—এমন আল্টিমেটামও তারা দিয়েছেন। পরিস্থিতি তদারকি করতে দিল্লি সীমানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শম্ভু সীমান্তে আটকে থাকা কৃষকরা নিজেরা ও মামলার কর্তৃপক্ষরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।