০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

দেশে দারিদ্রের হার তিন বছরে ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে

তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার শীঘ্রই ২৮ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে, যেখানে ২০২২ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৮.৭ শতাংশ। এছাড়াও, প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি রয়েছে এবং যেকোনো সময় তারা দারিদ্র্যসীমায় চলে যেতে পারে।

গতকাল সোমবার, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার-পিপিআরসি একটি গবেষণা প্রকাশ করে যেখানে এই দারিদ্র্য বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শিরোনামের এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, বর্তমান সময়ে দেশের তিনটি গুরুতর সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এগুলো হল কোভিড-১৯, মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

গবেষণাটি গত ৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। পিপিআরসি বলেছে, গত বছরের আগস্টের পর থেকে সমাজে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, যেমন ঘুষের প্রভাব কিছুটা কমে এসেছে। গত বছরের আগস্টের আগে যেখানে এক শতাংশের বেশি মানুষ সেবা নিতে ঘুষ দিতেন, সেখানে এখন তা কমে ৩.৬৯ শতাংশে নেমেছে। তবে এখনও বেশি ঘুষ দিতে হয় সরকারি অফিসে। এরপর পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও মানুষ বেশি ঘুষ দিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, পরিবারের আয়ের ৫৫ শতাংশ যায় খাদ্য পণ্য কেনাকাটায়, যার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ব্যয় আয়ের তুলনায় অধিক। তারা ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। উচ্চবিত্তের আয়ের তুলনায় তাদের ব্যয় কম। পাশাপাশি, বৈষম্য ও হয়রানি বেড়েছে। বর্তমানে ঘুষের পরিমাণ ৩০.৭৯ শতাংশ, যা এর আগে ছিল ২১.৫১ শতাংশ। যেমনটি দীর্ঘ সময় ধরে চলছে, এখনো অনেক কাজ করতে গেলে মানুষ বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণে মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য জবাবদিহিতা ও মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনাসহ সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির হার দেখানো যথেষ্ট নয়; সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও সাধারণ নাগরিকের কল্যাণ বিষয়ক আলোচনাও জরুরি। বর্তমানে অন্তঃসরকারি সরকার মূলত সামষ্টিক অর্থনীতি কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা পরিবর্তন আনা দরকার। তার মতে, সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে হলে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে এসব দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

দেশে দারিদ্রের হার তিন বছরে ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার শীঘ্রই ২৮ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে, যেখানে ২০২২ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৮.৭ শতাংশ। এছাড়াও, প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি রয়েছে এবং যেকোনো সময় তারা দারিদ্র্যসীমায় চলে যেতে পারে।

গতকাল সোমবার, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার-পিপিআরসি একটি গবেষণা প্রকাশ করে যেখানে এই দারিদ্র্য বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শিরোনামের এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, বর্তমান সময়ে দেশের তিনটি গুরুতর সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এগুলো হল কোভিড-১৯, মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

গবেষণাটি গত ৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। পিপিআরসি বলেছে, গত বছরের আগস্টের পর থেকে সমাজে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, যেমন ঘুষের প্রভাব কিছুটা কমে এসেছে। গত বছরের আগস্টের আগে যেখানে এক শতাংশের বেশি মানুষ সেবা নিতে ঘুষ দিতেন, সেখানে এখন তা কমে ৩.৬৯ শতাংশে নেমেছে। তবে এখনও বেশি ঘুষ দিতে হয় সরকারি অফিসে। এরপর পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও মানুষ বেশি ঘুষ দিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, পরিবারের আয়ের ৫৫ শতাংশ যায় খাদ্য পণ্য কেনাকাটায়, যার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ব্যয় আয়ের তুলনায় অধিক। তারা ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। উচ্চবিত্তের আয়ের তুলনায় তাদের ব্যয় কম। পাশাপাশি, বৈষম্য ও হয়রানি বেড়েছে। বর্তমানে ঘুষের পরিমাণ ৩০.৭৯ শতাংশ, যা এর আগে ছিল ২১.৫১ শতাংশ। যেমনটি দীর্ঘ সময় ধরে চলছে, এখনো অনেক কাজ করতে গেলে মানুষ বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণে মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য জবাবদিহিতা ও মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনাসহ সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির হার দেখানো যথেষ্ট নয়; সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও সাধারণ নাগরিকের কল্যাণ বিষয়ক আলোচনাও জরুরি। বর্তমানে অন্তঃসরকারি সরকার মূলত সামষ্টিক অর্থনীতি কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা পরিবর্তন আনা দরকার। তার মতে, সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে হলে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে এসব দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।